শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। আরও বিপাকে অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এবং ‘মিডলম্যান’ প্রসন্নকুমার রায়ের। দু’জনের মোট ৫৭ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বুধবার অফিসিয়াল X হ্যান্ডলে একথা জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বাজেয়াপ্ত তালিকায় নগদ টাকা, হোটেল, রিসর্ট-সহ একাধিক স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ইডি সূত্রে খবর, ওই দু’জনের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে একাধিক সম্পত্তি এবং নানা জায়গায় বিনিয়োগ করার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই দু’জনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ED, Kolkata Zonal Office has provisionally attached immovable properties belongs to Jiban Krishna Saha, MLA; Prasanna Kumar Roy and others, having a total value of approximately Rs. 57.78 Crore in the form of residential apartments, villas and land parcels located at Rajarhat,… pic.twitter.com/HlmhBC38SS
— ED (@dir_ed) January 21, 2026
এই মামলায় বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এবং দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। সেসময়েও প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে বিধায়ক নিজের মোবাইল ফোন বাড়ির পিছনের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। জীবনকৃষ্ণর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে নিজের এলাকার বহু মানুষের চাকরির জন্য সুপারিশ করেছিলেন। মোটা টাকার বিনিময়ে সেসব চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন বড়ঞার বিধায়ক। তাঁর বাড়ি থেকে কিছু কিছু প্রমাণও মেলে বলে দাবি করে সিবিআই। গত বছর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দুর্নীতি মামলায় জামিনে মুক্তি পান জীবনকৃষ্ণ সাহা। কিন্তু ফের ইডির হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। গতবছর জীবনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় ইডি। তাতে দেড় কোটি টাকার লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে। এমনকী তাঁর নামে বেনামি ১২টি সম্পত্তির কথাও ইডির জমা দেওয়া চার্জশিটে ছিল বলেই খবর।
এদিকে, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ‘ঘনিষ্ঠ’ মিডলম্যান প্রসন্ন রায়। তাঁর গ্রেপ্তারির পর থেকে একের পর এক সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এর পর গত ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি মামলায় গ্রেপ্তার করে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, হাওড়ার গাদিয়াড়ার পাশাপাশি সুন্দরবনেও প্রায় ৫০ কোটি টাকার দু’টি হোটেলের মালিক প্রসন্ন। দ্বিতীয় বিয়ের পর স্ত্রী নীলিমাকে বিলাসবহুল দুটি হোটেল উপহার দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, সুন্দরবনে পর্যটন ব্যবসা পোক্ত করার জন্য তিনটি বিলাসবহুল জলযানও কিনেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, নিয়োগের জন্য নেওয়া ঘুষের টাকায় একের পর এক সম্পত্তি কেনা হয়েছিল। এর আগেই এসএসসি মামলায় প্রসন্ন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক