বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিকমহলে জোর বিতর্ক। বিজেপি-তৃণমূলের ‘অন্দরের সমঝোতা’র জল্পনা ছড়াতেই রবিবার দলের তরফে দূরত্ব তৈরি করা হয়েছিল। সোমবার সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তিনি জানিয়ে দিলেন, কামারহাটির নতুন বোর্ড গঠনের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি কীভাবে বিজেপির নাম জড়িয়ে প্রচার ছড়াল, তা জানতে বিকেল চারটের মধ্যে জেলা নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট তলব করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই চেয়ারম্যান সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ও দাবি করেন, তাঁর নির্বাচন হয়েছে পুর আইনের বিধান মেনেই, কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থনে নয়।
গত শুক্রবার বোর্ড বৈঠকে উপস্থিত ২৭ জন কাউন্সিলরের সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা হওয়ায় রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়। রবিবারই বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার নতুন বোর্ডের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
সোমবার এক দলীয় কর্মসূচিতে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, কামারহাটিতে কে চেয়ারম্যান হয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই। বিজেপির নাম ব্যবহার করে বোর্ড গঠনের প্রচারকে তিনি গুরুত্ব দিতে চান না। তাঁর বক্তব্য, পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি হলে তার সমাধান করা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাংগঠনিক নেতৃত্বকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। এর পরই প্রতিক্রিয়া দেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, চেয়ারম্যান গোপাল সাহার পদত্যাগের পর বোর্ড বৈঠকে উপস্থিত কাউন্সিলররাই সর্বসম্মতভাবে তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। তিনি নির্দল কাউন্সিলর এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলরদের সমর্থন পেয়েছেন। তাই এটিকে বিজেপির বোর্ড বা বিজেপির সমর্থনে গঠিত বোর্ড বলার কোনও ভিত্তি নেই। দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান না থাকায় নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক কাজে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটাতেই নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বোর্ড বৈঠকে উপস্থিত ২৭ জন কাউন্সিলরের সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা হওয়ায় রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়। রবিবারই বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার নতুন বোর্ডের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করেছিলেন। সোমবার শমীক ভট্টাচার্যের কড়া বার্তা এবং চেয়ারম্যানের পাল্টা ব্যাখ্যায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বন্যায় কাঁদছে অসম! এখনও ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষ, ১১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলমগ্ন, মৃত ১০০
-
পরমাণু চুক্তি নিয়ে সুর নরম, ইরান হরমুজে খুলে দিলেই নিষ্ফলা যুদ্ধে ইতি টানবেন ট্রাম্প!
-
মোটা মাইনের চাকরির টোপ দিয়ে কলকাতার যুবকদের উজবেকিস্তানে ‘পাচার’, তারপর…
-
রাজারহাটের অভিজাত আবাসনে পানীয় জলদূষণ! অসুস্থ বহু বাসিন্দা, তুমুল উত্তেজনা এলাকায়
-
অটো চালিয়ে অসুস্থকে বিনামূল্যে পৌঁছে দেন হাসপাতালে, ভাইরাল গভীর রাতের ‘শেরনি’