দীর্ঘদিনের একনায়কতন্ত্র, আর্থিক তছরূপ, একাধি আইনি জটিলতার মতো একাধিক অভিযোগে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ সাবর্ণ রায়চৌধুরীর পরিবার। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সিবিআই তদন্ত বা অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতি নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত কমিটির দাবি করা হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি মন্দির পরিচালনায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবিও জানানো হয়েছে।
রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের তরফে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে যে দাবিগুলি জানানো হয়েছে, তা হল – কালীঘাট মন্দিরের (Kalighat Temple) যাবতীয় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অবিলম্বে সিবিআই তদন্ত দেওয়া হোক। তা না হলে হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরনেতৃত্বে বিশেষ সিট গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম মেনে জেলা জজ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি ও সাবর্ণ পরিবারের দু’জন সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে কালীঘাট মন্দিরের নতুন পরিচালন কমিটি গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে চিঠিতে।
আরও পড়ুন:
সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরীর জানিয়েছেন, “গোটা ঘটনায় ধাপে ধাপে পদক্ষেপ করতে চাই। প্রথমে জেলা জজকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। সেখান থেকে জবাব না পেতে এবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিতে বাধ্য হলাম। এতেও সাড়া না পেলে জনস্বার্থ মামলার কথা ভাববো।” কালীঘাট মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢুকে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি ছবি-ভিডিও তোলায় মন্দিরের গরিমা নষ্ট হচ্ছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ তোলে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার।
প্রসঙ্গত, কালীঘাট মন্দিরের সম্পত্তি গরমিলের অভিযোগ উঠেছে আগেও। গত ২০০৬ সালে কলকাতা হাই কোর্টে এই অভিযোগের জল গড়ায়। প্রণামীর সম্পূর্ণ অংশ নির্ধারিত জায়গায় জমা পড়ছে না বলেই অভিযোগ ওঠে। সেই সময় তৎকালীন চেয়ারম্যান তথা জেলা জজ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার প্রায় ২০ বছর পর ফের কালীঘাটের দক্ষিণাকালীর গয়না, সম্পত্তির নথি চেয়ে তৎপর সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ। তাদের দাবি, কালীঘাট মন্দিরের দক্ষিণাকালীর গয়নাগাটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ভল্টে রাখা রয়েছে। তবে ওই ভল্টের চাবি ১৯৮০ সাল থেকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ভল্টের ভিতর ঠিক কী রয়েছে, তা আদৌ একইরকম রয়েছে কিনা, তা জানা নেই কারও।
আবার এদিকে, মন্দিরের গয়নাগাটি-সহ নানা সম্পদ সংরক্ষণ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। বলে রাখা ভালো, এই কমিটিতে ছিলেন পাঁচ সেবায়েত, মন্দিরের দৈনন্দন কাজের সঙ্গে যুক্ত নন এমন ৬ জন বহিরাগত সদস্যও ছিলেন কমিটি। জেলা জজ হলেন কমিটির চেয়ারম্যান। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই কমিটির মেয়াদ ৫ বছর। অভিযোগ, গত ২০১৪ সালের পর থেকে মন্দির পরিচালন কমিটির নির্বাচন হয়নি। সুতরাং তারপর থেকে আর ওই গয়নাগাটির কোনও খোঁজখবর করা হয়নি। মন্দিরের সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পরিষদের তরফে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জজের কাছে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়া ভল্টের ভিতরে থাকা গয়নাগাটির তালিকা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। সেই দাবিতে সাড়া না পেয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ সাবর্ণরা। এখন দেখার, এই জল কোনদিকে গড়ায়।
সর্বশেষ খবর
-
মানতের মেহেন্দি পরলেই বিয়ে! জয়পুরের মন্দিরে উপচে পড়ল ভিড়, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি
-
বিসিসিআই সুপারিশ মনে করিয়ে ফের সিএবিতে চিঠি জেলাশাসকদের, পিছিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন?
-
ক্রিমের পরেও শুষ্ক ত্বক? পুজোর আগেই কাজে লাগান কাপুরকন্যার ঘরোয়া টোটকা
-
এখনই জেলায় মিড ডে মিলের দায়িত্বে নয় ইসকন! আগের ব্যবস্থাতেই খাবার পাবে পড়ুয়ারা
-
টিম ইন্ডিয়ায় ফের চোটের ধাক্কা! আফগান সিরিজ থেকে বাদ তারকা ক্রিকেটার, সংশয়ে এশিয়াডও