তৃণমূলে ‘গৃহযুদ্ধ’। জ্বলেপুড়ে খাক সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের অন্দরমহল। গত রবিবারই যার ইঙ্গিত মিলেছিল। সাতদিন আগে ডাকা বিধায়কদের সভাতে হাজির হয়েছিলেন ৮০-র মধ্যে মাত্র ২০। এহেন অবস্থায় সভা বাতিল করতে বাধ্য হন মমতা। কিন্তু সোমবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিসে দুই বহিষ্কৃত বিধায়কের ডাকা বৈঠকেই হাজির ৩০-এর বেশি বেসুরো তৃণমূল বিধায়ক। তাঁদের পক্ষে সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বলে ইতিমধ্যে দাবি করেছেন বহিস্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও সন্দীপন সাহার। এই ঘটনায় জল্পনা ছড়িয়েছে, বাংলাতেও কি এবার মহারাষ্ট্রের একনাথ শিন্ডে মডেল! এরমধ্যেই বিস্ফোরক পোস্ট মন্ত্রী তাপস রায়ের। যা ঘিরে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি।
এই বিষয়ে আরও খবর
এদিন সমাজমাধ্যমে তাপস রায় লিখছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হলো তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকার এর কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত।’ এহেন পোস্টের শেষে মন্ত্রীর টিপ্পনি, ‘খেলা হবে।’ যা গত কয়েকটি নির্বাচনে একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে শোনা গিয়েছে। এবার সেই স্লোগান বিজেপি বিধায়কের পোস্টে!
এদিন সমাজমাধ্যমে তাপস রায় লিখছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হলো তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকার এর কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত।’ এহেন পোস্টের শেষে মন্ত্রীর টিপ্পনি, ‘খেলা হবে।’
এহেন পোস্টের পরে বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায় বলেন, ”তৃণমূল দলটা উঠে যাবে। দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। এতদিন ভয়, চাপের মুখে সবাই চুপ করেছিল। এখন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।” বিধায়কের কথায়, যেভাবে তৃণমূল ভাঙছে তাতে আমি ভীষণ খুশি।
শোনা যাচ্ছে, ৫০ জন তৃণমূল বিধায়কের সই সম্মিলিত একটি চিঠি নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের দপ্তরে জমা দিতে চলেছেন ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও আজ, মঙ্গলবার বিধানসভায় স্পিকার নেই। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আচমকা দিল্লি যেতে হয়েছে। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ঋতব্রত ওই চিঠি জমা দিতে পারেন বিধানসভার সচিবের কাছে। শোনা যাচ্ছে, ৫০ বিধায়কের সই সম্মিলিত চিঠিতে নতুন তৃণমূলের ভিত্তিপ্রস্তরের কথা বলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের আসল মালিক তাঁরাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন।
বলে রাখা প্রয়োজন, অতীতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এহেন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে দেশ। শিবনাথ শিন্ডের বিদ্রোহে কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে যায় শিবসেনা। একের পর এক বিধায়ক উদ্ধব ঠাকরের হাত ছাড়েন। এমনকী শিবসেনার প্রতীকও চলে যায় তাঁর হাত থেকে। একই অবস্থা হয় এনসিপিরও। ক্ষমতা চলে যায় শরদ পাওয়ারের হাত থেকেও। সেই একই ঘটনা ঘটতে চলেছে এবার তৃণমূলে!
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
কর্তব্যরত অবস্থায় হেডফোন কিংবা ইয়ারফোন ব্যবহার নয়, কড়া নির্দেশ লালবাজারের
-
৭৮ শিশু-সহ অন্তত ২০০ জন HIV আক্রান্ত! হাসপাতালের গাফিলতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় পাকিস্তানে
-
জাতীয় স্বীকৃতি পেল বাংলার চিত্তরঞ্জন সেবাসদন, ‘বিরাট সাফল্য’, বলছেন অধিকর্তা
-
উদ্ধবসেনার ৬ সাংসদের দলবদলকে ‘স্বীকৃতি’, স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্তে চাপ বাড়ছে মমতার
-
ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট, পারদর্শী রাশিয়ান ব্যালেতেও, সোনমের ‘অক্সিজেন’ কে এই গীতাঞ্জলি?



