Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
Nilratan Sirkar Medical College Hospital

নীলরতন হাসপাতালের নয়া উদ্যোগ, এবার অটিস্টিক শিশুদের জন‌্য ‘ড‌ান্স মুভমেন্ট থেরাপি’

এই মুহূর্তে দেশের প্রতি ৬৮ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিজমে আক্রান্ত।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২৫, ১১:৫৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২৫, ১১:৫৩

options
link
নীলরতন হাসপাতালের নয়া উদ্যোগ, এবার অটিস্টিক শিশুদের জন‌্য ‘ড‌ান্স মুভমেন্ট থেরাপি’ zoom
হাসপাতালে চলছে প্রশিক্ষণ। নিজস্ব চিত্র
Advertisement

স্টাফ রিপোর্টার: সুদূর বাঁকরাহাট থেকে অটিজমে আক্রাম্ত মেয়ে আদৃতাকে নিয়ে কণিকা নস্কর এসেছিলেন নীলরতন সরকার মেডিক‌্যাল কলেজে। শিখলেন নাচ-গান। মন ভালো রাখার হাজারও উপায়। বাড়ি গিয়ে তা শেখাবেন মেয়েকে। অটিজম চিকিৎসায় এর নাম ‘ড‌ান্স মুভমেন্ট থেরাপি’।

বেসরকারি ক্ষেত্রে এই থেরাপির খরচ প্রচুর। এই প্রথম বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অভিভাবকদের জন‌্য থেরাপির ক্লাস সরকারি হাসপাতালে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রয়োজন বিশেষ কিছু থেরাপির। দিন আনি দিন খাই পরিবারগুলোর পক্ষে তা সম্ভব হয় না। তাদের জন‌্যই এই প্রথম সরকারি স্তরে ‘থেরাপি ট্রিটমেন্ট’ ক্লাস। শেখানো হল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অভিভাবকদের। বাড়িতে গিয়ে যাতে তারা নিজেরাই থেরাপি দিতে পারেন অটিজম আক্রান্ত শিশুটিকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অটিজম এমন একটা অবস্থা যেখানে শিশুটির সামাজিক বিকাশ ঠিকমতো হয় না। এ ধরনের শিশুরা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলো করতে পারে না। অন্যদের সঙ্গে ঠিকমতো মিশতেও পারে না। বৃহস্পতিবার নীলরতন সরকার মেডিক‌্যাল কলেজে বিশেষে এই অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ দিলেন ডা. অদিতি বন্দ্যোপাধ‌্যায়।

Advertisement

এই মুহূর্তে দেশের প্রতি ৬৮ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিজমে আক্রান্ত। কলকাতা মেডিক‌্যাল কলেজের শিশুরোগ বিভাগের অধ‌্যাপক ডা. মিহির সরকার জানিয়েছেন, বাংলার পরিসংখ‌্যানও কার্যত একই রকম। এপ্রিল মাসকে অটিজম সচেতনতার মাস হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। নীলরতন সরকার মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগের অ‌্যাসিস্ট‌্যান্ট প্রফেসর ডা. যশোধরা চৌধুরির তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠান। যশোধরা জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদ-মালদহ থেকেও অসংখ‌্য পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুরা এন আর এস হাসপাতালে আসেন চিকিৎসার জন‌্য। অনেক পরিবারের মাসিক রোজগার ৪ হাজার টাকা। তাদের পক্ষে বাইরে থেকে এই ধরনের থেরাপি করা অসম্ভব। সেই কারণেই মা-বাবাদের শেখানো হচ্ছে ড‌ান্স মুভমেন্ট থেরাপি, মিউজিক থেরাপি। যাতে পরিবারের সদস‌্যরাই শিশুকে এই থেরাপি দিতে পারেন। আগামী দিনে প্রতি মাসে অটিস্টিক শিশুদের অভিভাবকদের নিয়ে এই ওয়ার্কশপ করার পরিকল্পনা করেছে নীলরতন সরকার মেডিক‌্যাল কলেজ।

অটিজমে আক্রান্ত শিশুর কোনও নিশ্চিত চিকিৎসা নেই। সারাজীবন ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। সরকারি কিছু মেডিক‌্যাল কলেজে আইকিউ টেস্টের মাধ‌্যমে শনাক্ত করা যায় অটিজম। শনাক্ত করা যায় বাড়িতেও। কীভাবে? ওয়েস্টবেঙ্গল অ‌্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকস-এর সহ সভাপতি ডা. ইন্দু সুরানা জানিয়েছেন, শিশু সামাজিকভাবে কতটা সাড়া দিচ্ছে তা জরিপ করলেই বাড়িতেই শনাক্ত করা যায় এই অসুখ। দেড় মাস থেকে দু’মাস বয়সের শিশুকে পর্যবেক্ষণ করুন। এই সময় শিশু মা-বাবাকে দেখে হাসে। মা-বাবা চলে গেলে শিশু কাঁদে। কিন্তু অটিজমে আক্রান্ত শিশুর সে অনুভূতি নেই। তাদের মধ্যে দেখা যায় রেস্ট্রিকটেড রিপিটেটিভ মুভমেন্ট। অর্থাৎ একই জিনিস বারবার করে চলে। কোনও শব্দ হয়তো বারবার বলেই চলেছে। এগুলো দেখলেই সতর্ক হোন। চিকিৎসক মিহির সরকার জানিয়েছেন, “আজ শেখানো হল ড‌ান্স অ‌্যান্ড মুভমেন্ট থেরাপি। এর মধ্যে ‌মিশে আছে অকুপেশনাল থেরাপি। প্রান্তিক যে সমস্ত পরিবারে অটিজমে আক্রান্ত শিশু রয়েছে, তাদের সাহায্যে রাজ‌্য সরকারের আর্লি ইন্টারভেনশন সেন্টারকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’’

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.