Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
College

‘অনিলায়নে’র পর ‘তৃণমূলায়ন’ দেখেছে বাংলা! এবার শিক্ষাঙ্গণকে রাজনীতিমুক্ত করতে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের

গভর্নিং বডিতে আর থাকবেন না কোনও রাজনৈতিক প্রতিনিধি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৮, ২০২৬, ১৯:২৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৮, ২০২৬, ১৯:২৬

options
link
‘অনিলায়নে’র পর ‘তৃণমূলায়ন’ দেখেছে বাংলা! এবার শিক্ষাঙ্গণকে রাজনীতিমুক্ত করতে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের zoom
'অনিলায়নে'র পর 'তৃণমূলায়ন' দেখেছে বাংলা! এবার শিক্ষাঙ্গণকে রাজনীতিমুক্ত করতে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের
Advertisement

বাম জমানায় শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির শুরু। বলা হয়, সেই সময় শিক্ষাক্ষেত্রে ‘অনিলায়ন’ হয়েছিল! কারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির কলকাঠি নাড়ানো হত আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে। সেই সময় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক ছিলেন অনিল বিশ্বাস। তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই নাকি চলত সবটা। ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্যের পতন ঘটলেও শিক্ষাঙ্গণ থেকে রাজনীতির বিদায় ঘটেনি। ‘অনিলায়নে’র পর ‘তৃণমূলায়ন’ দেখেছে বাংলা। দলীয় পতাকাকে সামনে রেখে শিক্ষাঙ্গণকে কার্যত রাজনীতির আখড়া করে তোলা হয়েছিল। ভর্তি থেকে শুরু করে কর্মীদের বিভিন্ন বিষয়েও চলছিল দাদাগিরি। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে কলকাতার কলেজে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল তৃণমূলের ছাত্রনেতা। প্রতিবাদ করে বিপাকে পড়তে হয়েছিল দায়িত্ব প্রাপ্ত অধ্যক্ষ শান্তা দত্তকে। স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের পরীক্ষায় ডাকাই হয়নি তাঁকে। সেই ঘুঘুর বাসা ভাঙতে বড় সিদ্ধান্ত বিজেপি সরকারের। আগেই সরকার পোষিত স্কুল-কলেজগুলোর গর্ভনিং বডি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, গর্ভনিং বডিতে আর থাকবেন না কোনও রাজনৈতিক প্রতিনিধি। এতে শিক্ষা থেকে রাজনীতিকে আলাদা করা সম্ভব হবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল। 

গভর্নিং বডি অর্থাৎ পরিচালনা পর্ষদ হল যে কোনও প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারক। সরকার পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে এই কমিটিই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয়। এতদিন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মূলত সরকার পোষিত কলেজে পরিচালন সমিতিতে বিধায়ক, তাঁর নির্বাচিত এক প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ প্রতিনিধি, কলেজের ৩ জন শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও একজন শিক্ষাকর্মী থাকতেন। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পরিচালন সমিতিতে বিধায়ক থাকায় শিক্ষাঙ্গনে সরাসরি ঢুকে পড়ত রাজনীতি। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পরিচালন ব্যবস্থাকে রাজনীতিমুক্ত করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু কাজে তা করে দেখাতে পারেনি তৃণমূল সরকার। ফলে শিক্ষাক্ষেত্র থেকে আলাদা করা যায়নি রাজনীতিকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রনেতা, ইউনিয়নের দাপাদাপি ক্রমশ বেড়েছে। যার জেরে কলেজে ভর্তিতেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তৃণমূল শক্ত হাতে রাশ ধরলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলত বলেই মনে করেন সকলে। 

Advertisement

অবশেষে শিক্ষাক্ষেত্রকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, গভর্নিং বডিতে আর রাখা হবে না রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। ফলে শাসকদলের দাপট থেকে শিক্ষাঙ্গণ নিস্তার পাবে। ভর্তি হতে গিয়ে আর হেনস্তার শিকার হতে হবে না পড়ুয়াদের। তবে শুধু পরিচালন সমিতির কাঠামোয় বদল আনলেই হবে না। এক্ষেত্রে ছাত্র সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা নেতৃত্ব কীভাবে তাঁদের পরিচালনা করছে, তার উপর নির্ভর করছে গোটা পরিস্থিতি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, রাজনীতি মুক্ত হবে স্কুল-কলেজ। এই প্রতিশ্রুতিও পূরণ হবে বলেই আশাবাদী বাংলার মানুষ।    

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.