শিল্পনীতি হবে স্বচ্ছ এবং লগ্নি সহায়ক। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হোক বা ইনসেনটিভ, লাল ফিতের ফাঁস দ্রুত কাটাতে সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম হোক বা তোলাবজি বন্ধ করা, বাস্তব সমস্যার সমাধানেই জোর থাকবে শিল্পনীতিতে। মঙ্গলবার নবান্নে শিল্পের সঙ্গে জড়িত ‘স্টেক হোল্ডার’-দের সঙ্গে এমনই একগুচ্ছ বিষয় নিয়ে আলোচনা সারল শিল্প বিষয়ক মন্ত্রিগোষ্ঠী।
মূলত লগ্নিকারীরা কী চাইছেন রাজ্য সরকারে কাছে, সেটা স্পষ্ট করে জানতেই এদিনের বৈঠক বলে জানান শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তাঁর বক্তব্য, “প্রত্যেকের কথা শোনা হয়েছে। তাঁদের ভিউ, তাঁরা যেটা চাইছেন। কারণ তাঁদের থেকে তো ভালো কেউ জানবে না যে কী কী সমস্যা তাঁদের ফেস করতে হচ্ছে এবং কোন কোন জিনিসগুলো না থাকলে বা না হলে চলবে না। আমরা সেগুলো শুধু শুনলাম না, নোটও নিলাম। সেগুলো ইনকর্পোরেটেড হবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসিতে।”
আরও পড়ুন:
এদিন প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক হয় নবান্ন সভাগৃহে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত-সহ বৈঠকে ছিলেন শিল্প বিষয়ক মন্ত্রিগোষ্ঠীর অন্য সদস্যরা। এছাড়াও ছিলেন বণিকসভার প্রতিনিধি এবং শিল্প, অর্থ-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষকর্তারা। শিল্পনীতি তৈরিতে বণিকমহলের মতামত নিতেই যে এদিনের বৈঠক তা স্পষ্ট করে দিয়ে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, “অনেক রকম সাজেশন আছে। সেগুলো নিয়ে আমাদের আবার আলোচনা হবে। ফাইনালি আমরা সিএমকে রিপোর্ট দেব।” জমি নিয়ে যে জট বিগত সরকারের আমল থেকে হয়ে রয়েছে, তা কাটাতে এই সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান অর্জুন। একই সঙ্গে বলেন, “তোলাবাজি আছে, লেবার প্রবলেম আছে, ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেমে অবস্ট্রাকশন আছে। এসব নিয়ে ওপেন ফোরামে আলোচনা হয়েছে।”
এদিন প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক হয় নবান্ন সভাগৃহে। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং-সহ বৈঠকে ছিলেন শিল্প বিষয়ক মন্ত্রিগোষ্ঠীর অন্য সদস্যরা। এছাড়াও ছিলেন বণিকসভার প্রতিনিধি এবং শিল্প, অর্থ-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষকর্তারা।
সূত্রের খবর, জমির মিউটেশন, ইজ অফ ডুইং বিজনেস-এর মতো বিষয়ে মত দেওয়ার পাশাপাশি বিগত আমলে বকেয়া ইনসেনটিভ নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশও করে শিল্পমহল। এ বাবদ প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে। তবে শিল্পমহলের দাবি, নতুন কোনও ছাড় বা সুবিধা যেন রাজ্য সরকার শিল্পের জন্য নিয়ে আসে। শিল্প নিয়ে বিগত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিরও কড়া সমালোচনা করেন তাপস। তাঁর কথায়, ‘আমি শুনলাম কখনও যদি ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টদের ডাকা হত, তা হলে তাঁদেরকে গান-টান গাইতে হত! ধান ভানতে শিবের গীতের মতো।” অর্জুনের বক্তব্য, “যা হয়ে গিয়েছে, তা হয়ে গিয়েছে। আমরা শিল্পনীতি করব, তবে নাচ-গান ছাড়াই।” এফসিআরএ বিল নিয়ে তাপসের মন্তব্য, “যাঁদের দেশাত্মবোধ রয়েছে, জাতীয়তাবাদী, যাঁরা দেশকে ভালোবাসেন, তাঁরা এই বিলকে সমর্থন করবেন এবং এই বিল আইনে পরিণত হবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রাতবিরেতে আচমকা পূর্ব বর্ধমানের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হানা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর! ঘেঁটে দেখলেন ওষুধের স্টক
-
‘পরজন্মে ঠিক ডাক্তার হব’, মা-বাবাকে চিঠি লিখে ‘আত্মঘাতী’ নিট পরীক্ষার্থী!
-
বন্যা রুখতে সরকারের ‘আরামবাগ মাস্টার প্ল্যান’, শুভেন্দুর বৈঠকে NCPI সাংসদ মিতালি বাগ
-
চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কায় মৃত্যু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির, ‘কাক তাড়াচ্ছিলাম’, বললেন অভিযুক্ত
-
পর্দায় এবার ‘জাতির জনক’ মনোজ বাজপেয়ী, গান্ধীর জীবনের কোন একুশ দিনের গল্প বলবে ছবিটি?