যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনা নিয়ে ভিডিওবার্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাসবিহারীর বিধায়ক তথা অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। দুর্গাপুজোর মতো শিক্ষাক্ষেত্রও রাজনৈতিক উসকানি থেকে দূরে থাকা উচিত বলেই মত তাঁর।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে তা একেবারে সীমানা ঘেঁষা। তাই বিধায়কের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব আশেপাশের এলাকায় পড়ে। তাঁর কথায়, “ছাত্র রাজনীতি বা ছাত্র আন্দোলন নতুন কিছু নয়। তবে যাদবপুর ভুল কারণে অনেক সময় অশান্ত হয়ে ওঠে। এবারও কি তাই হল? দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এমন অশান্তি কাম্য নয়।” উৎকর্ষতার প্রাণকেন্দ্র যাদবপুরে এই ধরনের ঘটনা ঘটা কোনওভাবে কাম্য নয় বলেই দাবি বিধায়কের।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি প্রতীকটি ভেঙে পড়ে। তা নিয়ে আক্ষেপের সুরে মন্ত্রী বলেন, “যাদবপুরের ইতিহাস স্বাধীনতা সংগ্রামের আত্মত্যাগের সঙ্গে যুক্ত। শ্রী অরবিন্দর শুরু করা ন্যাশনাল এডুকেশন আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এই ধরনের অবমাননা লজ্জাজনক।” তাঁর পরামর্শ, দুর্গাপুজোর মতো যাদবপুরের মতো শিক্ষাক্ষেত্রও যাতে রাজনৈতিক উসকানির সংস্পর্শে না আসে, তা খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তাতে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলেই মনে করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস সহক্ষেত্র প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু যাদবপুরে অশান্তির নেপথ্যে বামপন্থীদের চক্রান্তকেই দুষছেন। তাঁর দাবি, “এটা খুব চেনা ছক। বামপন্থী চক্রান্তের ধারাবাহিকতা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও চলছে। পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এই শক্তি প্রতিনিয়ত কাজ করছে। যারা যুক্ত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।” তাঁর মতে, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাপমুক্ত হওয়ার সময় এসেছে।”
উল্লেখ্য, যাদবপুর কাণ্ডে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলার অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করতে চলেছে কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থাকা সব সিসি ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। শুক্রবার শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সূত্রের খবর, বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রতিনিধিকে তদন্ত কমিটিতে রাখা হচ্ছে না। জানা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটিতে থাকতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন উপাচার্য, কলকাতার আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য এবং অন্য এক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি বিভাগের অধিকর্তা। এই কমিটিই সব ঘটনা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রোমে কনসার্টে গিয়ে হোটেলের ঘর নোংরা, প্রতারণা! জেমসের জেলযাত্রার সম্ভাবনা?
-
সন্তান মানুষ করতে নামী সংস্থার চাকরিতে ইস্তফা, হোমস্টে খুলে লাখ লাখ কামাচ্ছেন মা!
-
বৌদ্ধ মঠে গোলাবর্ষণ জুন্টার! মৃত অন্তত ১৪ ভিক্ষু, গৃহযুদ্ধে রক্তাক্ত মায়ানমার
-
‘শান্তি চাইলে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিন’, প্রতিবেশীকে নিয়ে দেশকে সতর্ক করলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান
-
পারিবারিক বিবাদের জেরে পাহাড় থেকে ঝাঁপ ছেলের, বাঁচাতে গিয়ে খাদে তলিয়ে গেলেন বাবা-মাও