Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
leaned house

হেলে পড়া মানেই বিপজ্জনক নয়! ৪৯ বছর ধরে ক্যামাক স্ট্রিটে হেলা বাড়িতে ভয়মুক্ত বাস

রাজনীতিবিদ ফিরহাদের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ইঞ্জিনিয়াররাও।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৫, ১৩:৫৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৫, ১৩:৫৬

options
link
হেলে পড়া মানেই বিপজ্জনক নয়! ৪৯ বছর ধরে ক্যামাক স্ট্রিটে হেলা বাড়িতে ভয়মুক্ত বাস zoom
ক্যামাক স্ট্রিটের হেলে পড়া বহুতল। ১২সি ক্যামাক স্ট্রিট। যে আবাসন ঘিরে চর্চা শহরে। ছবি: শুভাশিস রায়

স্টাফ রিপোর্টার: হেলে পড়া বাড়ি মানেই বিপজ্জনক, এমনটা নয়। বাড়ি হেলে যাওয়া বা হেলে থাকা বাড়ি নিয়ে শহরে চর্চার মধ্যেই স্বস্তি বাড়িয়ে উঠে এল এমন তত্ত্ব। এই তত্ত্ব দিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তবে রাজনীতিবিদ ও প্রশাসক ফিরহাদের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ইঞ্জিনিয়াররাও। স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়াররাই জানিয়ে দিয়েছেন, বাড়ি হেলে থাকা মানেই তা বিপজ্জনক না-ও হতে পারে।

জ্বলন্ত উদাহরণ হিসাবে উঠে আসছে ক্যামাক স্ট্রিটের একটি বাড়ি। সেখানে ৪৯ বছর ধরে বাসিন্দারা নির্ভয়ে রয়েছেন। ছাদ কার্যত লেগে রয়েছে পাশের আবাসনের ছাদে। কোনও সমস্যা নেই, সেই বাড়ি দেখে বলে গিয়েছেন দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররাই। শহর কলকাতাতেই আরও বেশ কিছু এমন বাড়ি রয়েছে, যা হেলে রয়েছে বছরের পর বছর, কিন্তু সেখানেই নিরাপদেই বাস করছেন মানুষ। তা সে মোমিনপুর হোক বা বালিগঞ্জ, সংখ্যাটা নেহাত কম নয়।

Advertisement

বস্তুত, বাঘাযতীনে একটি বাড়ি ছেলে থাকার পর সেটিকে মাটি থেকে কিছুটা ওঠানোর চেষ্টার সময় কিছুটা ভেঙে যায়। তারপর থেকেই বিভিন্ন মিডিয়ায় হেলে পড়া বাড়ির ছবি দেখানোরর প্রতিযোগিতা শুরু হয় কার্যত। তবে সব হেলে পড়া বাড়ি বেআইনিভাবে নির্মাণ হয়েছে বা বিপজ্জনক, তা মানতে নারাজ ইঞ্জিনিয়াররা। শুক্রবার মেয়রও বলেন, “বাড়ি হেলে যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে হেলে পড়া বাড়ি মানেই বিপজ্জনক এমনটা নয়। কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে একটি বহুতল হেলে রয়েছে। আমি ছোটবেলা থেকেই তো অমন দেখছি বাড়িটিকে। হেলে পড়া বাড়ি তাই বিপজ্জনক হয়, যখন ফাটল দেখা দেয়।”

মেয়র যে বাড়িটির কথা বলেছেন, সেটি রয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটে। ১২সি ক্যামাক স্ট্রিট। এই বহুতলে মোট ৬৯টি পরিবার বসবাস করছেন বছর বছর ধরে। অনেক প্রবীণই ছোট থেকেই এমন অবস্থায় দেখছেন বাড়িটিকে। এই বহুতলের উপরের অংশ কিছুটা হেলে রয়েছে পাশের বহুতলের দিকে। ১৯ তলার আবাসন এটি। এলাকাটি অভিজাত। স্বাভাবিকভাবে বহুতলের সিংহভাগ অভিজাত পরিবারের বাস। ৪৬ বছরের অবাঙালি পরিবার এই বহুতলের বাসিন্দা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাসিন্দা জানাচ্ছেন, “হেলে থাকা এই বহুতলে থাকতে আমাদের কোনও ভয় হয় না। তার কারণ, বিদেশ থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে এটি পরীক্ষা করে গিয়েছেন। হেলে থাকা আবাসনে বাস করতে ভয়ের কিছু নেই। জন্ম আমার এখানে। আমার বাবা এখানে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন আমার জন্মের ৩ বছর আগে।” অর্থাৎ, এই অবাঙালি পরিবার ৪৯ বছর ধরে হেলে পড়া এই বহুতলে বাস করছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস জানাচ্ছেন, “হেলে পড়া বাড়ির সহনশীল ক্ষমতা, মাটির চরিত্র, বহুতল বা বাড়ির কাঠামোর উপর নির্ভর করবে বাড়ি ভেঙে পড়বে কি না। তাছাড়া নির্মাণদের ১০ থেকে ১২ বছর খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়সীমার মধ্যে বাড়ির বসার ধরনের উপর নির্ভর করবে ফাটল ধরবে কি না। তার জন্য আমরা নির্মাণের সময় কতগুলি বিবেকা এ বিষয় নিয়ে সতর্ক করি।”

কলকাতা কর্পোরেশন সূত্রের খবর, কলকাতায় এমন বেশকিছু হেলে পড়া বহুতল রয়েছে, যেগুলি নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। বছর বছর ধরে দিব্যি বহু মানুষ এইসব হেলে পড়া বহুতলে নিশ্চিন্তে বসবাস করছেন। মোমিনপুরে এমন একটি বহুতল হেলে রয়েছে প্রথম দিন থেকেই। একইভাবে গুরুসদয় দপ্ত রোড ও বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের সংযোগস্থলে একটি বাড়ি বহুদিন ধরে। হেলে রয়েছে। এইসব হেলে পড়া বাড়িগুলিতে পরিবার নিয়ে বাস করছেন তেমন অনেকেই, তেমনি বহু দোকানও। বয়েছে বহুতলগুলির নিচে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.