Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
Congress

কারও ‘মমতা ত্যাগ’ কারও তৃণমূল, কেউ ফিরছেন কংগ্রেসে, টানাপোড়েনে শহিদ পরিবার

এসবের মধ্যে ঋতব্রত শিবির এবার মেয়ো রোডে তাদের কর্মসূচিতে চমক দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, শহিদদের পরিবারগুলোকে সামনে রেখেই হবে এই কর্মসূচি।

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২৬, ২১:২৯

link
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২৬, ২১:২৯

options
link
কারও ‘মমতা ত্যাগ’ কারও তৃণমূল, কেউ ফিরছেন কংগ্রেসে, টানাপোড়েনে শহিদ পরিবার zoom
২১ জুলাইয়ের আগে টানাপোড়েনে শহিদ পরিবার।
Advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন একুশের শহিদের পরিবারের সদস‌্যদের মধ্যে তাঁকে যাঁরা এতদিন সমর্থন করেছেন, তাঁর সঙ্গে থেকেছেন, তাঁদের ‘ভয় দেখিয়ে’ নিজেদের দিকে টানতে চাইছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। অভিযোগ থাকলেও স্বেচ্ছায় ‘মমতার মঞ্চ’ ত‌্যাগের বার্তা দিয়েছেন একাধিক শহিদের পরিবার। তবে প্রকাশ্যে এ নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ অনেকেই। তবে শুধু মমতার মঞ্চ ত‌্যাগই নয়, জনা চারেক পরিবার ‘তৃণমূলের মঞ্চ’ই ত‌্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শহিদদের পরিবারগুলোকে নিয়ে এই টানাপোড়েনের মধ্যেই তাঁদের নিজেদের মঞ্চে আনার কাজে নেমে পড়েছে প্রদেশ কংগ্রেসও। একুশের সমাবেশ এবার বড় করে শহিদ মিনারে করছে তারা।

২৮ বছর পর প্রদেশ দপ্তর বিধান ভবনের বাইরে এই কর্মসূচি হচ্ছে। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে প্রদেশ নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী এই কর্মসূচি সফল করার জন‌্য উঠেপড়ে লেগেছেন।

১৯৯৩ সালে স্বচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের ডাক দিয়ে পথে নেমেছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ১৩ জন। তাঁদের শহিদের মর্যাদা দিয়ে তার পর থেকেই মমতা ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ করে আসছেন। ছোট করে হলেও তা পালন করেছে কংগ্রেসও। কিন্তু এবার তারা শহিদ মিনারে বড় করে সমাবেশ করছে। তাতে এআইসিসি নেতৃত্ব-সহ অধীর চৌধুরি, দীপা দাশমুন্সিদের এক মঞ্চে রেখে কর্মসূচি হচ্ছে। ২৮ বছর পর প্রদেশ দপ্তর বিধান ভবনের বাইরে এই কর্মসূচি হচ্ছে। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে প্রদেশ নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী এই কর্মসূচি সফল করার জন‌্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এসবের মধ্যে ঋতব্রত শিবির এবার মেয়ো রোডে তাদের কর্মসূচিতে চমক দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, শহিদদের পরিবারগুলোকে সামনে রেখেই হবে এই কর্মসূচি। অন‌্যদিকে, আদালতের রায় নিয়ে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কর্মসূচি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই পর্বেই টানাপোড়েন শুরু হয়েছে শহিদদের পরিবারগুলোকে নিয়ে। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন এই পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করে আমন্ত্রণও জানিয়ে এসেছেন। তার পরও একাধিক পরিবার একইসঙ্গে ক্ষোভ-আশঙ্কার দোলাচলতার কথা বলছেন। একটি শহিদ পরিবারের সদস্যের বক্তব‌্য, ”এই সময়টা এলেই তৃণমূলের আমাদের কথা মনে পড়ে। আমরা এবার ভেবে দেখছি।” তবে ঋতব্রত শিবিরের তরফেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে খবর।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

যদিও প্রদীপ প্রসাদের বিশ্বাস, “এই পরিবারগুলো মনেপ্রাণে কংগ্রেস। কংগ্রেসের কর্মসূচিতেই সেই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। আমাদের বিশ্বাস তাঁরা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।”

শ্রীকান্ত শর্মার স্ত্রী রেনু শর্মাকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদের। 

এই পর্বেই বড় ভূমিকা নিয়েছেন কংগ্রেসের দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ। শহিদ কল‌্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় দাদা বিজয়গড়ের বাসিন্দা বিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা সংবর্ধনা দিয়েছেন। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে তাঁকে সমাবেশের দিন নিয়ে আসার কথাও ঠিক হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও মুকুন্দপুরের শ্রীকান্ত শর্মা, হরিদেবপুরের দিলীপ দাসের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রদীপ। শ্রীকান্ত শর্মার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দোলা সেনও। তাঁর ছোট মেয়ে পিঙ্কি শর্মাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন চাকরির ব‌্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতার কথা মনে করিয়েছেন পিঙ্কি। দিলীপবাবু বা কল‌্যাণবাবুর পরিবারের সদস‌্যদেরও চাকরির ব‌্যবস্থা করে দিয়েছিলেন মমতা।

দিলীপ দাসের স্ত্রী মাধবী দাসকে আমন্ত্রণ আমন্ত্রণ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদের। 

যদিও প্রদীপ প্রসাদের বিশ্বাস, “এই পরিবারগুলো মনেপ্রাণে কংগ্রেস। কংগ্রেসের কর্মসূচিতেই সেই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। আমাদের বিশ্বাস তাঁরা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।” আরও কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি। উত্তর কলকাতার বেলগাছিয়ার বাসিন্দা শহিদ বিশ্বনাথ রায়ের মেয়ে মহুয়া রায় পালিত একেবারে কট্টর মমতা-সমর্থক। তাঁর সাফ কথা, ”আমরা প্রথম থেকে মমতাদির সমর্থক। তিনি যেখানে আমার পরিবারও সেখানে।” তাঁদের সঙ্গেও যদিও যোগাযোগ করেছে কংগ্রেস। শহিদদের দু-একটি পরিবারের এর মধ্যেই অভিযোগ, মমতার শিবির গত দু-তিন বছরে কোনও যোগাযোগই রাখেনি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.