তৃণমূলে ভরাডুবির পর থেকেই ভাঙন। একের পর এক নেতার গলায় বিদ্রোহের সুর। ইস্তফা দিচ্ছেন অনেকেই। তারই মাঝে ফের কলম ধরলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘গিরগিটি’ কবিতার মাধ্যমে দলের বিপদের সময় পিঠটান দেওয়া নেতানেত্রীদেরই কি খোঁচা দিলেন, দলনেত্রী, স্বাভাবিকভাবেই উঠছে সে প্রশ্ন।
মমতা লেখেন,
গিরিগিটির থেকেও ভয়ঙ্কর।
বহুরূপী তো রঙ বদলায়
তার রোজগারের পন্থায়
কিন্তু যাদের ভোলবদল
মাত্র কয়েক ঘণ্টায় হয়ে যায়
অন্য চরিত্র বদলের –
নিজেদের আর্থিক লেনদেন
ও স্বার্থপরতার স্বার্থে!
নিজেরা শুধু বিকোচ্ছেন না
বিক্রি করছেন মানুষ ও কর্মীদের আত্মসম্মানকে
কত নেবে চরিত্র বদলাতে?
চরণতলে কত উৎকোচ ধন?
আর কত চাও???
নিজেদের ভোল বদলাতে?
রথের চাকা চলে
তোমাদের চাকাও চলবে।
প্রত্যাঘাত এর নামে
প্রত্যার্পণ – ফল পাবে
ধৈর্য্য ধরো,
শীঘ্রই উত্তর পাবে।।
ভোগীদের সম্মান নিকৃষ্ট?
গ্রাসাচ্ছাদন ভাবাবে।
সেদিন বুঝবে বিশ্বাসঘাতকরা
মূল্যহীন অমনুষ্যত্ব।
আরও পড়ুন:
গত ৪ মে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হয়। বেলা ১২টার পর থেকে প্রায় স্পষ্ট হতে শুরু করে ভোটের ফল। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলায় গেরুয়া ঝড়। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ২০৮টি আসন পেয়েছে বিজেপি। কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে তৃণমূল। তাদের দখলে মাত্র ৮০টি আসন। ভোটে বিপর্যয়ের পর দলে ভাঙন যে সময়ের অপেক্ষামাত্র, তা বোধহয় আগেভাগেই বুঝতে পেরেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। ভোটে বিপর্যয়ের পর সাংবাদিক বৈঠকে সে ইঙ্গিত নিজে মুখেই দিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠকেও দলবদলের যাঁরা ভাবনাচিন্তা করছেন, তাঁদেরও বিশেষ বার্তা দেন। তারপর দলের একাধিক নেতৃত্বের পদত্যাগের ঝড় যেন লেগেই রয়েছে। তারই মাঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন কবিতা যে যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চাপের মুখে ভারতের সাহায্য নিতে রাজি নেপাল, আটকে পড়া ভারতীয়দের হাল-হকিকত জানাল দিল্লি
-
‘মমতার অধঃপতন হয়েছে’, দল ছেড়ে প্রথম কর্মসূচিতেই তৃণমূলনেত্রীকে নিশানা কাকলির
-
‘ককরোচ’-সহ পড়ুয়াদের আন্দোলনই ‘টার্নিং পয়েন্ট’, সিপিএমের প্লেনামে নতুন পথের হদিশ
-
চালকের অশ্লীল স্পর্শ! চলন্ত অটো থেকে লাফিয়ে সম্ভ্রম বাঁচালেন তরুণী
-
‘কেন এরকম করল?’ বিশ্বকাপ জিতিয়েও বাদ, বোর্ডের সিদ্ধান্তে অবসরের কথাও ভাবেন হতাশ সূর্য