Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Puri Hotel Booking Scam

পুরীতে হোটেল বুকিংয়ের নামে বড়সড় প্রতারণা, সর্বস্ব খোয়ালেন বহু মানুষ, মহারাষ্ট্রের প্রতারককে ধরে আনল পুলিশ

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মে মাসে। দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুরের বাসিন্দা দেবজ্যোতি মল্লিক পুরীতে হোটেলে বুক করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন।

Advertisement
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১৯:৫৪

link
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১৯:৫৪

options
link
পুরীতে হোটেল বুকিংয়ের নামে বড়সড় প্রতারণা, সর্বস্ব খোয়ালেন বহু মানুষ, মহারাষ্ট্রের প্রতারককে ধরে আনল পুলিশ zoom
ফাইল ছবি।

হোটেল বুকিংয়ের নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে একাধিক গ্রাহকের কয়েক লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ। তাও আবার মহারাষ্ট্রে বসে এক বছর ধরে এই প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। খোয়া গিয়েছে সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকারও বেশি। এই সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশের সাইবার থানা। অবশেষে বড় সাফল্য! মহারাষ্ট্র থেকে সোমবার গভীর রাতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম হুজাইফা শাব্বির দারবার ওরফে হুজাইফা দারবার। ইতিমধ্যে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মে মাসে। দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুরের বাসিন্দা দেবজ্যোতি মল্লিক পুরীতে হোটেলে বুক করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন। পুলিশ সূত্রে খবর, ‘পুরীহোটেলকলকাতাবুকিংঅফিস.কম’ নামে একটি ওয়েবসাইট থেকে হোটেল বুকিং করেছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু ওই ওয়েবসাইটেই যে লুকিয়ে বিপদ তা বুঝতেই পারেননি দেবজ্যোতি মল্লিক।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হোটেল বুকিংয়ের চেষ্টা করতেই এক ব্যক্তি ফোন করেন দেবজ্যোতিকে। বুকিংয়ের জন্য অগ্রিম টাকা দেওয়ার জন্য এক টাকা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বলা হয়। তা পাঠানোর পরেই ইউপিআইতে বেশ কিছু সমস্যা হচ্ছে বলে ওই ব্যক্তিকে জানানো হয়। ফলে বাকি টাকা একজনের নামে পাঠাতে বলা হয়। বিশ্বাস করে সেই অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে সাড়ে চার হাজার টাকা পাঠিয়েও দেন দেবজ্যোতি। কিন্তু কোনও বুকিং কনফার্মেশন দেওয়া হয়নি। বারবার এই বিষয়ে ফোন করা হলেও আর কেউ ফোন ধরেনি। এরপরেই হরিদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দেবজ্যোতি।

তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে অজ্ঞাতপরিচয় প্রতারকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আর তা শুরু হতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, একাধিক ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে দেশের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে চলছে এই প্রতারণা। 

ধৃত হুজাইফা শাব্বির দারবার

ভুয়ো ওয়েবসাইটগুলিকে ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ১৩,৬০,৮০৩ টাকা প্রতারকরা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও জানতে পারেন তদন্তকারীরা। প্রতারকদের ধরতে এবং ঘটনার সূত্রে পৌঁছাতে একেবারে ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত শুরু করে সাইবার শাখা। যে সমস্ত নম্বরকে অপরাধের কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলিকে ট্র্যাক করা শুরু করে। সেই সূত্রেই প্রতারণার মুল পাণ্ডা হুজাইফা শাব্বির দারবার ওরফে হুজাইফা দারবারের খোঁজ পান কলকাতা সাইবার থানার আধিকারিকরা। এরপরেই মহারাষ্ট্র থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, ধৃত হুজাইফা মহারাষ্ট্রের পুণের বাসিন্দা। পেশায় একজন ওয়েবসাইট ডেভেলপার। রয়েছে নিজস্ব অফিসও। সেখানেই তল্লাশি চালিয়ে মোবাইল, ল্যাপটপ-সহ একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.