টানা ১৫ বছর পর এই প্রথম এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পুলিশ (স্বরাষ্ট্র) দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে। শুধু তাই নয়, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা বাজেট বিতর্কে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও বিরোধী দলের বিধায়কদের নানা প্রশ্নের জবাব দেবেন স্বয়ং পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
খাগড়াগড়, বগটুই, আর জি কর থেকে পঞ্চায়েত ভোটে একদিনে ১১ জন নিহত হলেও বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনার পরিবর্তে নিয়ম করে প্রতি বছরই পুলিশ বাজেটকে গিলোটিনে পাঠানো হত। ব্যতিক্রম ছিল ২০১১ সাল, সেবার ক্ষমতায় আসার পরই বামজমানার আইন শৃঙ্খলার নানা ‘খারাপ ঘটনা’ তুলে ধরতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট নিয়ে জোর আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু এবার সরকার গঠনের পর প্রথম দিন থেকেই বিধানসভার ভিতর ও বাইরে, পুলিশের শুধু পাশে দাঁড়াননি, আগামী ২২ জুলাই, বুধবার অধিবেশনে পুলিশ (স্বরাষ্ট্র) বাজেট নিয়ে টানা তিন ঘণ্টা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন:
১৫ বছর পর সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক অম্লান ভাদুড়ী জানিয়েছেন, ‘‘তৃণমূল সরকার আইন শৃঙ্খলায় চরম ব্যর্থতা থেকে দুর্নীতি লুকিয়ে রাখতে চাইত বলেই সমস্ত পুলিশ বাজেটকে গিলোটিনে পাঠাত। রাজ্যে এখন জনসাধারণের সরকার, জনতার কাছে কোনও কিছু লুকানোর নেই, বাংলায় আইনের শাসনের কথা বলতেই স্বরাষ্ট্র বাজেট আলোচনায় বিরোধীরাও অংশ নেবে।’’
ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত গত ২২ জুন আট মাসের জন্য বাজেট পেশ করেন। প্রথম পর্বের অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণ ও বাজেট পাস হয়েছে। কর্মসমিতির বৈঠকে ঠিক হয়েছে, আজ ১৭ জুলাই শুক্রবার থেকে ২৫ জুলাই, শনিবার পর্যন্ত অধিবেশনে আপাতত ১৩টি দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে। আজ শোকপ্রস্তাব ও রিপোর্ট পেশ করে প্রথম দিনের সভা শেষ হবে। এরপর ২০ জুলাই স্বাস্থ্য, পঞ্চায়েত, পরিবহণ ও ২১ জুলাই উচ্চশিক্ষা ও বিদ্যালয় দপ্তরের পাশাপাশি শিল্প-বাণিজ্য দপ্তরের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হবে। পরদিন ২২ জুলাই স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্যর পাশাপাশি পৃথকভাবে বিদ্যুৎ দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ২৩ জুলাই উত্তরবঙ্গ, পর্যটন, পুর ও নগরোন্নয়ন ও ২৪ জুলাই ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ ছাড়াও জনস্বাস্থ্য দপ্তরের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হবে।
সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত প্রধানদের আর্থিক ক্ষমতা প্রশাসনিক কর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে একটি বিল আনা হতে পারে এই অধিবেশনের শেষদিকে। তবে যেদিন শিক্ষা ও শিল্পদপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে সেই ২১ জুলাই বিরোধী ঋতব্রত ও কালীঘাট তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেসের দুই বিধায়কেরও শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় কেউই বিধানসভায় আসবেন না বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভাইরাল ‘তি আমো মেসি’, গোয়ায় পুত্র ধীয়ের সঙ্গে ফাইনালে ‘একস্ট্রা টাইম’ দেখার আবদার শিলাজিতের
-
সীমান্তে বসবে স্মার্ট কাঁটাতার, তৈরি হবে ১০টি ফাঁড়ি, শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে ঘোষণা শাহের
-
বুলডোজার নিয়ে বাঁকুড়া শহরে বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর, ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে অভিযান?
-
জনতার মুখোমুখি কাকলি! লোকসভার মানুষদের জন্য নয়া কর্মসূচি এনসিপিআই সাংসদের
-
মরণবাঁচন ম্যাচের আগে বিরাট ধাক্কা ভারতের, ছিটকে গেলেন গম্ভীরের পছন্দের অলরাউন্ডার