Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
DA

ডিএ ধর্মঘটে খোলা থাকবে সব অফিস, কর্মীদের সতর্ক করল নবান্ন

বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ টাকা এখনও পাননি রাজ্য সরকারি কর্মীরা। তার প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

Advertisement
মলয় কুণ্ডু
মলয় কুণ্ডু

শেষ আপডেট: মার্চ ১২, ২০২৬, ২১:৩০

link
মলয় কুণ্ডু
মলয় কুণ্ডু

শেষ আপডেট: মার্চ ১২, ২০২৬, ২১:৩০

options
link
ডিএ ধর্মঘটে খোলা থাকবে সব অফিস, কর্মীদের সতর্ক করল নবান্ন zoom
ফাইল ছবি।

বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ টাকা এখনও পাননি রাজ্য সরকারি কর্মীরা। তার প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। ওইদিন খোলা থাকবে রাজ্য সরকারের প্রত্যেকটি দপ্তর। কোনও কর্মী অনুপস্থিত থাকলে বেতন কাটা যাবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।

প্রশাসনের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের দিন প্রত্যেক সরকারি কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওইদিন কোনও কর্মীকে সাধারণ ছুটি দেওয়া হবে না। যিনি অনুপস্থিত থাকবেন তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে। বলে রাখা ভালো, ‘ডাইস নন’-এর অর্থ ওই দিনের বেতন কাটা যাওয়া। সেক্ষেত্রে অবশ্য বেশ কিছু ব্য়তিক্রম রয়েছে। কোনও কর্মীর গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। নিজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিংবা পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ, পরিবারে কারও মৃত্যু হলে, মাতৃত্বকালীন ছুটি বা আগে থেকে নেওয়া ছুটির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। যদি কোনও কর্মী অনুমতি ছাড়াই ছুটি নেন, তবে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠাতে হবে।

Advertisement

সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে প্রাপ্য ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। তাঁর বেতনও কাটা যাবে। নোটিসের জবাব যদি না দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। শুক্রবারের হাজিরার হিসাব আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করতে হবে। অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল,তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাতেও হবে। এই প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ বলেন, “গোটা ভারত সুপ্রিম কোর্টে আইন মেনে চলে। তবে বাংলায় একজনের নির্দেশে আইন চলে। সেমিফাইনাল শেষ। এবার ১৩ মার্চ ফাইনাল খেলা হবে।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। সেখানে বকেয়া ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৬ সপ্তাহ সময়। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ দেয়নি রাজ্য। বরং সুপ্রিম কোর্টের কাছে অতিরিক্ত ৬ মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছিল শুনানি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ সাফ জানান, ডিএ আইনি অধিকার, বকেয়া ডিএ দিতেই হবে। আদালত স্পষ্ট জানায়, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দু’দফায় মিটিয়ে দিতে হবে মে মাসের মধ্যে। তবে প্রথম কিস্তি দিতে হবে মার্চের ৩১ তারিখের মধ্যে।

তারপর যা বাকি থাকবে তার কতটা অংশ দেওয়া হবে, কতদিনের মধ্যে দিতে হবে, সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটি। তবে সুপ্রিম রায় সত্ত্বেও এখনও ডিএ পাননি রাজ্য সরকারি কর্মীরা। রাজ্য সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়, ডিএ দেওয়ার জন্য ৩ লক্ষ ১৭ হাজারে বেশি কর্মীর নথি খতিয়ে দেখতে হবে। ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত তাঁদের তথ্য ডিজিটাল নয়। বরং সার্ভিস বুক আকারে হাতে লেখা নথি রয়েছে। ফলে সেগুলি ডিজিটাইজ করতে সময় লাগছে। আবার তার উপর এসআইআরের ফলে রাজ্য সরকারের হাতে প্রশাসনিক আধিকারিকের সংখ্যাও অনেক কম। তাই প্রশাসনিক এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ডিএ বকেয়া পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি জানানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে রাজ্যের জানানো আর্জিতে হতাশ সরকারি কর্মীরা। প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.