চাকরির টোপ দিয়ে ভিনরাজ্যে নিয়ে গিয়ে পাচারকারীদের খপ্পরে। জ্ঞান ফিরতেই দেখলেন পেটে সেলাই! ততক্ষণে একটা কিডনি গায়েব। কলকাতা ফিরে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিত যুবক মঙ্গল মণ্ডল। অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। তাঁকে জেরা করেই গ্রহীতার হদিশে পান তদন্তকারীরা। কিডনি পাচার চক্রে উঠে এসেছে বিধাননগরের এক সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম। মাস্টারমাইন্ডকে হাতে পেতে হন্যে পুলিশ।
প্রতারিত যুবক মঙ্গল মণ্ডল জানিয়েছেন, মোটা টাকার বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিছু শারীরিক পরীক্ষার নাম করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। তারপর আর কিছুই জানেন না। জ্ঞান ফিরতেই দেখতে পান পেটের বাঁদিকে স্টিচ। জানতে পারেন, তাঁর একটি কিডনি অস্ত্রোপচার করে বের করে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সল্টলেক সুকান্তনগর ত্রিনাথ পল্লীর বাসিন্দা মঙ্গল মণ্ডল। সংসারের একমাত্র রোজগেরে ছেলে মঙ্গলের প্রতিবেশীই তাঁকে ভিনরাজ্যে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রতারিত যুবক মঙ্গল মণ্ডল জানিয়েছেন, মোটা টাকার বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেখানে চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে কিছু শারীরিক পরীক্ষার নাম করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। তারপর আর কিছুই জানেন না। জ্ঞান ফিরতেই দেখতে পান পেটের বাঁদিকে স্টিচ। জানতে পারেন, তাঁর একটি কিডনি অস্ত্রোপচার করে বের করা হয়েছে। অনেক জোরাজুরির পর কোনওমতে কলকাতায় ফিরে আসেন মঙ্গল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মঙ্গলের পরিবার। সুকান্ত নগর এলাকা থেকে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, তাঁর নিজেরও একটি কিডনি নেই। তিনি নিজেও নাকি একসময় এই চক্রের শিকার ছিলেন।
পুলিশের অনুমান, যাঁর শরীরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও একাধিক তথ্য উঠে আসতে পারে। কী পদ্ধতিতে কিডনি পেয়েছিলেন? কার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করা হয়েছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
পশ্চিমবঙ্গ টু পাঞ্জাবে কিডনি পাচারের জাল বিছিয়ে! ইতিমধ্যেই বিধাননগর দক্ষিণ থানা পুলিশের তরফে পাঞ্জাবের মোহালি থানাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারী মঙ্গল মণ্ডলের কিডনি যে ব্যক্তি পেয়েছিল, তাঁর তথ্যও বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশের হাতে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পাঞ্জাবের মোহালি থানা এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সেই কিডনি একজনের শরীরের স্থাপন করা হয়েছিল। পুলিশের অনুমান, যাঁর শরীরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও একাধিক তথ্য উঠে আসতে পারে। কী পদ্ধতিতে কিডনি পেয়েছিলেন? কার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করা হয়েছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
মঙ্গলের কথায়, “ওই সিভিক ভলান্টিয়ার এসে বলেছিলেন থানায় অভিযোগ করার কোনও দরকার নেই। টাকা খাইয়ে সবাই বেঁচে যাবে, তার চেয়ে ভাল চেপে যাওয়া।” অন্যদিকে ধৃত প্রভাস মণ্ডলের জেরায় উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা শাকিল নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যাঁকে পুরো কিডনি পাচার চক্রের মূল মাস্টারমাইন্ড বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বিধাননগরে প্রতারিত যুবকের পরিবার, প্রতিবেশী সূত্রে আরও একটি বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। কিডনি পাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ বিধাননগরের এক সিভিক ভলান্টিয়ার লক্ষণ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। প্রতারিত যুবক মঙ্গল মণ্ডলের দিদি জানিয়েছেন, কিডনি পাচারের কথা জানাজানি হতেই বাড়ি বয়ে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসে এলাকারই এক বাসিন্দা লক্ষণ বিশ্বাস, তিনি পেশায় একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। মঙ্গলকে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার বলেন, কিডনি পাচার নিয়ে বাইরে মুখ না খুলতে। মঙ্গলের কথায়, “ওই সিভিক ভলান্টিয়ার এসে বলেছিলেন থানায় অভিযোগ করার কোনও দরকার নেই। টাকা খাইয়ে সবাই বেঁচে যাবে, তার চেয়ে ভাল চেপে যাওয়া।” অন্যদিকে ধৃত প্রভাস মণ্ডলের জেরায় উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা শাকিল নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যাঁকে পুরো কিডনি পাচার চক্রের মূল মাস্টারমাইন্ড বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই শাকিল এর খোঁজ চালাচ্ছে বিধাননগর থানার পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাত্র তিনদিনেই শেষ কাজ! এসআইআরের মতোই জনগণনাতেও নজির সাঁইথিয়ার শিক্ষকের
-
রাতের আকাশে বেগুনির খেলা! স্পেস স্টেশন থেকে নবরূপ দেখালেন নভোশ্চর
-
হকি বিশ্বকাপে ডাচেদের বিরুদ্ধে হার, শেষ চারে ওঠার স্বপ্ন প্রায় শেষ ভারতের
-
বুকে পেসমেকার, ধূমপানে না চিকিৎসকদের! অসুস্থ বিমান সিগারেট ছাড়বেন? চিন্তিত কমরেডরা
-
১২ বছর নেকড়েদের পালে বড় হয়েছেন, ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত স্পেনের ‘মোগলি’