নিউ মার্কেটের হোটেলের আগুনের জেরে কলকাতার গেস্ট হাউসের ব্যবসায় কারও সর্বনাশ, আবার কারও পৌষমাস। তবে পৌষমাসের পিঠে-পুলির মতো রমরমা ব্যবসা যাঁরা করছেন তাঁদেরও অনেকেই আবার বেআইনি কারবারে যুক্ত। নিউ মার্কেটে হোটেল বন্ধের জেরে বুকিং করা রুম না পেয়ে মুকুন্দপুর, আনন্দপুর, কসবার টেগোর পার্ক-নস্করহাট ও পিয়ারলেস হাসপাতালের আশেপাশের নানা গেস্ট হাউসে যে সমস্ত বাংলাদেশি যাচ্ছেন তাঁরা ‘ব্ল্যাকমেলিং’-এর শিকার হচ্ছেন। সুযোগ পেয়ে ‘মোটা দাঁও’ মারছেন গেস্ট হাউসের মালিকরা। এতদিন দৈনিক যে রুমগুলি ৫০০ বা ৬০০ টাকা ভাড়া নিতেন সেগুলি রাতারাতি দেড় থেকে দু’হাজার টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ নিউ মার্কেট ফেরত চিকিৎসা করাতে আসা বাংলাদেশিদের। তাই চরম বিপদে পড়ছেন চিকিৎসা করাতে আসা ওপার বাংলা বা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা। কারণ, যাঁরা কম বাজেটে চিকিৎসা করাবেন বলে কলকাতায় এসেছিলেন তাঁরা গেস্ট হাউসের ভাড়া একলাফে অনেকটা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন।
এই বিষয়ে আরও খবর
চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, ই এম বাইপাসের দু’পাশের বেসরকারি হাসপাতাল ঘিরে গড়ে ওঠা অধিকাংশ গেস্ট হাউসগুলিতে না আছে ফায়ারিং লাইসেন্স অথবা ট্রেড লাইসেন্স। এমনই কিছু বেআইনি গেস্ট হাউসে যাতায়াতের রাস্তাগুলিতে বর্ষায় জল জমেছে। ভয়ংকর কর্দমাক্ত ও চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। অভিযোগ, পুলিশ ও দমকলের একাংশের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ‘দাদা’দের আঁতাঁতে বেআইনি গেস্ট হাউসের রমরমা ব্যবসা চলছে।
চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে ভারতে আসার জন্য নিউ মার্কেট এলাকার নানা হোটেল বুকিং করছেন বহু বাংলাদেশি। কেউ ৬০০, কেউ ৮০০ ভারতীয় টাকায় ডিলাক্স রুম বুকিং করছেন ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনা-বরিশাল থেকে। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতায় ফ্রি-স্কুল স্ট্রিটে নির্দিষ্ট হোটেলে এসে দেখেছেন, সেই হোটেল বন্ধ। হোটেলের ম্যানেজার রিসেপশনে নেই। কর্মীরা দমকল-পুলিশের নোটিস দেখিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সদর স্ট্রিট, মার্কুইজ স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিটের অন্য অধিকাংশ হোটেলেই নতুন করে আর কেউই রুম বুকিং নিচ্ছেন না। কারণ, পুলিশ-দমকলের যৌথ টিমের পর পর অভিযানে নথিপত্র দেখাতেই ব্যস্ত হোটেলের কর্মীরা। ঢাকা আজিমপুরের সোহেল শেখ ও বরিশালের ঝালকাঠির মহম্মদ আব্বাস, মিজানুর জামালের মতো বেশ কয়েকজনের সঙ্গে দেখা মিলল এদিন সন্ধ্যায়। সবারই একই অভিজ্ঞতা। সোহেলের কথায়, “স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে চারজনের জন্য দুইটা রুম বুকিং করে এসেছি। ১০/১২ দিন থাকতে হবে। কিন্তু হোটেল তো বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। অন্য হোটেলেও রুম নাই।” একই অভিজ্ঞতা মিজানুর, আব্বাসের। বাধ্য হয়ে রাতে বেশি ভাড়ার হোটেল সন্ধানে শিয়ালদহের দিকে রওনা দিয়েছেন বাংলাদেশি এই পর্যটকরা।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
বারবার কামিয়েও দাড়ির দেখা নেই, গাল ভর্তি ‘রেজার বাম্প’! কী করে ফেরাবেন ত্বকের জৌলুশ?
-
আগস্টে হচ্ছে না বাণিজ্য নীতি, কেন লাগছে বাড়তি সময়, কারণ জানালেন অর্থমন্ত্রী স্বপন
-
‘আর নোটিস নয়, বেনিয়ম দেখলেই হোটেল সিল’, মমতা-ফিরহাদের থেকে কী জবাব চাইলেন অগ্নিমিত্রা?
-
রাম মন্দির নির্মাণেও বেনিয়ম! বিতর্কের মধ্যে নির্মাণ কমিটির প্রধান বলছেন, ‘সব বানানো’
-
টি-২০তে সুপারস্টার, টেস্টে সফল হওয়ার ক্ষমতা আছে বৈভবের? বড় ভবিষ্যদ্বাণী ‘গুরু’ দ্রাবিড়ের



