Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
Taslima Nasrin

‘মুক্ত’ পশ্চিমবঙ্গে ফিরছেন তসলিমা! শুভেন্দুর হাত ধরে ২০ বছর পর কাটছে বাম জমানার ‘লজ্জা’

আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন 'নির্বাসিত' লেখিকা।

Advertisement
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১৫:৪৮

link
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১৫:৪৮

options
link
‘মুক্ত’ পশ্চিমবঙ্গে ফিরছেন তসলিমা! শুভেন্দুর হাত ধরে ২০ বছর পর কাটছে বাম জমানার ‘লজ্জা’ zoom

বদলের বাংলায় সংস্কৃতি জগতে আনন্দের খবর। ২০ বছর পর ‘মুক্ত’ বাংলায় পা রাখছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)! আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ‘নির্বাসিত’ লেখিকা। কবিতা পাঠ করার কথা তাঁর। অনুষ্ঠানে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। ফেসবুক পোস্টে এই সুখবর জানিয়েছেন তসলিমা নিজেই। ২০০৭ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে তাঁকে কলকাতা থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছিল। সেই ‘লজ্জা’ কাটিয়ে আবারও তিলোত্তমার পথে পা রাখবেন তসলিমা নাসরিন।

২০০৭ সালে তসলিমা ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা। কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে তাঁর আগুনঝরা কলমের ‘খোঁচা’য় সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে তীব্র অশান্ত পরিবেশ হয়ে ওঠে। এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি যে তা সামলাতে সেনা নামাতে হয়েছিল। সেসময় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর নিজস্ব বৃত্তের অর্থাৎ বামমনস্ক সাহিত্যিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তসলিমা নাসরিনের বইটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কলকাতা ছাড়তে বলা হয় তাঁকে।

Advertisement

তসলিমা ও অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের পোস্টে সাহিত্যিককে ‘মৌলবাদ বিরোধী প্রতিবাদের অগ্নিসম প্রতীক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্যোক্তা সেক্যুলার মিশন, এইচআরবিএফএফ। তাঁদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দু’দশক পর আবারও প্রিয় শহর কলকাতায় তসলিমার আগমন ঘটবে।অন্যতম উদ্যোক্তা মোহিত রায় ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’ কে জানিয়েছেন, ‘‘অনুষ্ঠানটি মূলত মুক্তি চিন্তার। মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। তবে এটা কোনও সরকারি বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। তসলিমা নাসরিন তাঁর নিজের কবিতা এবং কবিতার উপর তৈরি গান নিয়ে ঘণ্টাখানেকের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী থাকায় তসলিমা নাসরিনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত। উনি তো জানতেন যে কলকাতায় সকলে খুব ভালোভাবে থাকে। সাহিত্যের সমাদর হয়। কিন্তু ৬-৭ বছর পর বুঝতে পারেন যে এখানকার পরিবেশ তেমন নয়। ইসলামিক মৌলবাদীদের কাছে মাথানত করেছিলেন বুদ্ধিজীবীরা। তার সর্বাগ্রে ছিলেন বামপন্থীরা।” 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

এমন ঐতিহাসিক ঘটনার অপেক্ষায় বাংলার সাহিত্য মহল।  তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে বিজেপি রাজ্য সভাপতি  তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যর অবদান স্বীকার করতেই হয়। তিনি রাজ্যসভায় প্রথম তসলিমার ‘ফেরা’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশের মৌলবাদী শাসকদের বিরুদ্ধে তসলিমা বরারব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। তাই বাংলায় সাহিত্যিকের ফিরে আসা জরুরি। কেন্দ্রকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন শমীক। এখন বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই শমীকের সেই ইচ্ছে পূরণ হতে চলেছে। বাম জমানার নিষেধাজ্ঞা উঠছে।

২০০৭ সালে তসলিমা ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা। কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে তাঁর আগুনঝরা কলমের ‘খোঁচা’য় সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে তীব্র অশান্ত পরিবেশ হয়ে ওঠে। এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি যে তা সামলাতে সেনা নামাতে হয়েছিল। সেসময় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর নিজস্ব বৃত্তের অর্থাৎ বামমনস্ক সাহিত্যিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তসলিমা নাসরিনের বইটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কলকাতা ছাড়তে বলা হয় তাঁকে। যে বামপন্থীরা ধর্মনিরপেক্ষ বলে গর্ববোধ করে, সেই সরকারের আমলে এমন এক নিদর্শন নিঃসন্দেহে  বাংলার সাহিত্য জগতে অন্ধকার অধ্যায়। তবে এবার রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এক আলোকময় ঘটনার সূচনা করতে চলেছে।

এনিয়ে সিপিএম নেতার সুজন চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া, ‘‘তসলিমা নাসরিন ২০ বছর পর কলকাতায় আসছেন, ভালো কথা। এনিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কিছু বলার নেই। আসলে এখন তো কেন্দ্রে আর রাজ্যে একই সরকার। তাই কেন্দ্র যদি মনে করে, তসলিমা এখানে আসবেন, সেটাই রাজ্যেরও সিদ্ধান্ত। তখনকার সরকার এটা মনে করেনি। তাই ওঁকে চলে যেতে হয়েছিল।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.