Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৮ জুন ২০২৬
Abhishek Banerjee

দিল্লির পর বাংলায় বিরাট মদ কেলেঙ্কারি! তৃণমূল জমানায় বদলে যায় নীতি, কাঠগড়ায় অভিষেক

শুধু অভিষেক নন। এই কেলেঙ্কারিতে জাহাঙ্গির খানও যুক্ত ছিলেন বলেই অভিযোগ। বিষয়টি তদন্ত করে সত্য সামনে আনা হবে বলেই দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৮, ২০২৬, ০০:৫৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৮, ২০২৬, ০০:৫৭

options
link
দিল্লির পর বাংলায় বিরাট মদ কেলেঙ্কারি! তৃণমূল জমানায় বদলে যায় নীতি, কাঠগড়ায় অভিষেক zoom
এবার মদ কেলেঙ্কারিতে নাম জুড়ল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ফাইল ছবি

দিল্লির পর বাংলায় মদ কেলেঙ্কারি। সামনে এল কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ। আবগারি নীতি বদলে কার অ্যাকাউন্টে ঢুকত মদ বিক্রির কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা? অভিযোগের আঙুল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। ক্ষমতায় থাকাকালীন কয়লাপাচার, বালিপাচার এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল অভিষেকের। এবার মদ কেলেঙ্কারিতে আঁতসকাচের নিচে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই অভিযোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেই জানান মন্ত্রী দীপক বর্মন।

অভিযোগ, ২০১৭ সালের আগে ট্রেডাররা ইচ্ছামতো ডিস্ট্রিবিউটার বাছতে পারতেন। তবে ২০১৭ সাল থেকে বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি।  জাহাঙ্গির খান নাকি ‘ধমকাতে চমকাতে’ শুরু করেন ডিস্ট্রিবিউটারদের। তৃণমূল নেতাদের দাবিমতো টাকা না দিলে ব্যবসাই বন্ধ হয়ে যাবে বলেই হুমকি দেওয়া হত। তার ফলে বাধ্য হয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিতে হত ব্যবসায়ীদের।

ঘটনা ২০১৭ সালের। সেই সময় রাজ্যের আবগারি নীতিতে বদল করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ আবগারি বোর্ড কর্পোরেশন গড়ে ওঠে। তাঁর ৫ সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস গৌতম ঘোষ, তৎকালীন বিশেষ কমিশনার (রাজস্ব) শান্তনু আচার্য, সিনিয়র যুগ্ম রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (অপারেশনস) সঞ্চয়ন গঙ্গোপাধ্যায়, ডেপুটি রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (সিস্টেমস) রাজর্ষি চক্রবর্তী, অতিরিক্ত রাজস্ব কমিশনার এবং জিএম সিস্টেমস কুনাস বিশ্বাস। নীতিতে বদল আনা হয়। নয়া নীতিতে সিলমোহর দেন কমিটিতে থাকা সকলে। আগে শুধুমাত্র ডিস্ট্রিবিউটারের থেকে রাজস্ব আদায় করত রাজ্য। তবে নয়া নিয়ম অনুযায়ী, ডিস্ট্রিবিউটার এবং পাইকারি বিক্রেতা – দু’পক্ষের কাছ থেকেই রাজস্ব পেত তৎকালীন রাজ্য সরকার। অভিযোগ, কোটি কোটি রাজস্বের একটি বড় অংশই নাকি সরাসরি ঢুকত তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পকেটে।

Advertisement

শুধু অভিষেক নন। তাঁর ‘ডান হাত’ ফলতার জাহাঙ্গির খান নাকি এই দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, ২০১৭ সালের আগে ট্রেডাররা ইচ্ছামতো ডিস্ট্রিবিউটার বাছতে পারতেন। তবে ২০১৭ সাল থেকে বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি। জাহাঙ্গির খান নাকি ‘ধমকাতে চমকাতে’ শুরু করেন ডিস্ট্রিবিউটারদের। তৃণমূল নেতাদের দাবিমতো টাকা না দিলে ব্যবসাই বন্ধ হয়ে যাবে বলেই হুমকি দেওয়া হত। তার ফলে বাধ্য হয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিতে হত ব্যবসায়ীদের। ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, সব টাকাই ঢুকত অভিষেকের অ্যাকাউন্টে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’ জাহাঙ্গির খানের নির্দেশমতো ব্যবসায়ীদের মদের বোতল পিছু ৩ টাকা করে দিতে হত।

সরকারের পালাবদলের পর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে। আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গত ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গের আবগারি কমিশনারকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছে। অবিলম্বে এই রাজস্ব আদায় বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যেহেতু একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আমরা মনে করি যে নতুন সরকার এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করবে।’ দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যে সে সংক্রান্ত নথিপত্র মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। এই বিষয়ে জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও। এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও উঠেছে সমালোচনার ঝড়। বিজেপির তরফে অমিত মালব্য বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মদ কেলেঙ্কারি দুর্নীতির সংস্কৃতিরই প্রমাণ। এই দুর্নীতি একটি সিন্ডিকেটের ইঙ্গিত করে যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সত্যকে আর ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। যারা বাংলাকে লুট করেছে তাদের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।” মন্ত্রী দীপক বর্মন এবং সুমনা সরকারও এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব। তদন্ত করে সত্য উদঘাটন হবে বলেই জানান তাঁরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.