লাগামছাড়া দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগে ৬ মাস আগে বসিরহাট পুরসভার চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে পুরবোর্ড ভেঙে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। বসিরহাটের মহকুমা শাসককে নাগরিক পরিষেবা ও পুরসভা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর। এবার সেই প্রশাসক সরিয়ে নতুন করে পুরবোর্ড গঠনের আর্জিতে মামলা দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে। মামলা করেন বসিরহাট পুরসভার ১৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ রায়। হাই কোর্টের গ্রীষ্মাবকাশের পর এই মামলার শুনানি রয়েছে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে।
এই বিষয়ে আরও খবর
আবেদনকারীর আইনজীবী ওমর ফারুক গাজি জানান, “‘বোর্ড অফ এডমিনিস্ট্রেটর’ কে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলা দায়ের হয়েছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৈরি ‘কনস্টিটিউশনাল বডি’ যাতে সরাসরি সাধারণ মানুষের পরিষেবা দিতে পারে আদালতে সেই আবেদন জানানো হয়েছে।” আইনজীবীর আরও দাবি, “একটা প্রশাসনের ক্ষেত্রে ‘চেক এন্ড ব্যালেন্স’-এর ব্যাপার থাকে। কোনও অঞ্চলের সরকারি সুবিধে দিতে গেলে কারা কারা পাওয়ার যোগ্য সেই তথ্য থাকেনা। যেটা জনপ্রতিনিধিদের কাছে থাকে কারণ তারা সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত। সাধারণ মানুষের ভোটে জিতে পুর প্রতিনিধি হয়েছেন। সাধারণ মানুষের তথ্য নিয়ে তারা রিপোর্ট দেন, তার ভিত্তিতেই মানুষকে পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে। যেমনটা বিধানসভা বা লোকসভাতেও হয়। সেখানের প্রতিনিধিরা এলাকার সুবিধা অসুবিধার কথা তুলে ধরেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। ফলে মানুষ নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”
যদিও বসিরহাটের তিনটি পুরসভা বসিরহাট, বাদুড়িয়া ও টাকি তিনটি পুরসভায় বিগত শাসকদল তৃণমূলের পুর প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা ডা: শৌর্য্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, শুধু বসিরহাটই নয়, বাদুড়িয়া ও টাকি পুরসভার ক্ষেত্রেও ভয়ংকর দুর্নীতি হয়েছে। কয়েকদিন আগে বাদুড়িয়া থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। এই তিন পুরসভায় দুর্নীতিগ্রস্থ চেয়ারম্যান সহ অভিযুক্ত কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আইনের আওতায় এনে ‘শাস্তি’ দেওয়া উচিত ছিল প্রশাসনের। কিন্তু, তা হয়নি। অবিলম্বে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরকে এবিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
প্রসঙ্গত, পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া বসিরহাট পুরসভার মোট ওয়ার্ডর সংখ্যা ২৩। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হওয়ায় বর্তমান সংখ্যা ২২ জন। বেহাল রাস্তা,আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জল,আলো,নিকাশি নালা,আর্থিক দুর্নীতি এবং প্রশাসকদের দুব্যবহারের অভিযোগ তুলে গত ৯ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরে। তার ভিত্তিতে সরকার গত ১৮ নভেম্বর ২২ জন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করে। শোকজের সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে এক মাসের মাথায় পুরবোর্ডকে ভেঙে দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ



