পাহাড়ের কোলে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে সাক্ষী রেখে যদি শুভদৃষ্টি হয়? অরণ্যের সবুজ গালিচায় মালাবদল? কিংবা বাসর জাগা হয় বালুকাবেলায়?
পছন্দের জায়গায় মনের মানুষের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়তে চান অনেকেই। কিন্তু পকেট সায় দেয় না। বেসরকারি রিসর্ট বা হোটেলে বিয়ের আয়োজন করা খুবই ব্যয়বহুল। মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। এবার ইচ্ছে পূরণের পথ প্রশস্ত হল। মেঘ রাজ্যে, সমুদ্র শহরে কিংবা অরণ্যের গহীনে সরকারি রিসর্টে অনেক কম খরচে বিয়ের অনুষ্ঠান করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যাকে বলা হচ্ছে বাজেট ফ্রেন্ডলি ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’।
আরও পড়ুন:
সরকারের হাতে বিয়েবাড়ির উপযোগী করে গড়ে তোলার মতো ৪০টি রিসর্ট, হোটেল থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি নিয়েই এগোতে চাইছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল টুরিজম ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন’। রাজ্যের পর্যটন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বরুণ রায় বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়ে বলেন, চলতি বছর পুজোর পরই প্রথম পর্যায়ে অন্তত দশটি এমন রিসর্ট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন একটি সমীক্ষা শুরু হয়েছে। দু’মাসের মধ্যে তা শেষ হবে। তারপর রিসর্টগুলি সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হবে। বরুণবাবুর পর্যবেক্ষণ, পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বিয়ের আসর বসাতে গেলে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন আবশ্যিক। সেই লক্ষ্যে আধুনিক ব্যাঙ্কোয়েট হল, নবদম্পতির জন্য বিশেষ হানিমুন স্যুট ও সংস্কার করা বিলাসবহুল ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াংয়ের মতো পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে দিঘার সমুদ্রতট, ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল বা পুরুলিয়ার রুক্ষ প্রকৃতিতে এই টুরিজম প্যাকেজের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু বিয়ের পরিকল্পনা মানুষ অনেক আগে থেকেই করে, তাই কিছুদিনের মধ্যেই সম্ভাব্য রিসর্টের তালিকা দিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে সরকারের তরফে। শুরু হবে বুকিং নেওয়ার কাজ। তারপরই রূপকথার বিয়ে দিয়ে লক্ষ্মীলাভ হবে রাজ্যের।
অনন্ত আম্বানির রূপকথার বিয়ে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও চর্চিত। রুপোলি পর্দায় রূপকথার এমন ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ এখন হ্যাপেনিং। ‘শেষের কবিতা’ পড়ে কত বাঙালির মননে শিলংয়ের রামগড় পর্বতের শিখরে বিয়ের স্বপ্ন উঁকি দিয়েছে। কিন্তু বেসরকারি রিসর্টের আকাশছোঁয়া খরচ সেই স্বপ্নকে অঙ্কুরেই ঝরিয়ে দেয়। এই স্বপ্ন এবার সরকারি উদ্যোগে বনস্পতির চেহারা নেবে।
কখনও পাইনের ফাঁকে, কখনও ঢেউয়ের তালে তালে। সম্প্রতি পার্ক হোটেলে আয়োজিত একটি হোটেলে পর্যটনের একাধিক অংশীদারের সঙ্গেও এই সম্ভাবনার কথা ভাগ করে নেন সচিব। দপ্তরের লক্ষ্য, আগামী শীতকালীন বিয়ের মরশুম থেকেই এই পরিষেবা চালুর চেষ্টা হবে। বিয়ের পাশাপাশি রাজ্যে অ্যাডভেঞ্চার টুরিজমের সম্ভাবনাও বাড়ানো হচ্ছে। হাইকিং, হট এয়ার বেলুন রাইড বা ট্রেকিংয়ের মতো কম ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু হবে গোত্রের পর্যটন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ডন ৩’ বিতর্ক পেরিয়ে ‘প্রলয়’-এ মন! মাস্কে মুখ ঢেকে হনসল মেহতার অফিসে রণবীর
-
বারাণসীতে গঙ্গাবক্ষে মদ-মাংসের মোচ্ছব! তুঙ্গে বিতর্ক, ৫ জনকে গ্রেপ্তার করল যোগীর পুলিশ
-
আর ম্যাচের একদিন আগে আমেরিকায় প্রবেশ নয়! ইরানের উপর বিধিনিষেধ বদল ট্রাম্প প্রশাসনের
-
নেটফ্লিক্সের শো থেকে ২০ কোটি উপার্জন সময় রায়নার! বিস্মিত নেটিজেনরা
-
এবার বিপাকে অতীন ঘোষ, জমি-বাড়ি হাতানোর অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের নামে মামলা!