দিল্লির হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে (Delhi Hotel Fire Incident) ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ্যে। যেখানে থেকে দেখা গিয়েছে, আগুন থেকে রেহাই পেতে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হোটেলের উপরতলা থেকে ঝাঁপ দিচ্ছেন দুই মহিলা। কার্যত দাউদাউ আগুনে পুড়তে পুড়তে বাঁচার শেষ চেষ্টা করেন দুই মহিলা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার দক্ষিণ দিল্লির মালব্যনগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। আহত হয়েছেন ৩৭ জন। এই ঘটনার পরেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা গিয়েছে, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হোটেলের উপরতলা থেকে ঝাঁপ দিচ্ছেন দুই মহিলা। নিচে টাঙানো একটি ত্রিপলের উপর তাঁরা পড়েন। স্থানীয়রা ছুটে এসে কম্বল দিয়ে আগুন নেভান। এর পর প্রশাসনের সাহায্যে দু’জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমান তাঁদের শারীরিক অবস্থা কেমন, তা অবশ্য জানা যায়নি।
আরও পড়ুন:
Massive fire breaks out at a restaurant in Delhi’s Malviya Nagar
A woman jumps from the building to save her life. At least 10 dead
Warning⚠️: Disturbing images pic.twitter.com/Q6pzw4nbGI
— Karan Singh / करन सिंह (@Journo_Karan) June 3, 2026
আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট না হলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আগুনে পোড়া ‘ফ্লারিশ হোটেল’কে ছয়টি ঘরের অনুমোদন দিয়েছিল, যদিও সেখানে ছিল ২৫টি ঘর। দেশের রাজধানী শহরে সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রমরম করে চলছিল ব্যবসা।
দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ স্কিমে হোটেলে ঘর নির্মাণের নির্দিষ্ট অনুমোদন দেওয়া হয়। নিবন্ধিত হোটেলগুলির ক্ষেত্রে আট থেকে সর্বোচ্চ ১৬টি ঘরের অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে। সেখানে মালব্য নগরের হউজ রানি এলাকার হোটেলটি কীভাবে ২৮টি ঘর বানিয়ে দিনের পর দিন ব্যবসা চালাল? কাদের মদতে এমনটা ঘটল? প্রশাসনের একংশই কি দুর্নীতির কারিগর? এইসব প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বিধায়ক সতীশ উপধ্যায়কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেননি। যদিও তদন্ত চলছে ফলে সাফাই দেন।
বুধবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পাঁচতলা ফ্লারিশ হোটেলের বেসমেন্টের ‘লেমন গ্রিন’ নামের রেস্তরাঁ থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখেন স্থানীয়রা। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিভিন্ন তলায় থাকা ঘরগুলিতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের অন্তত ১০টি ইঞ্জিন। যদিও দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ বিদেশি পর্যটক বলে জানা গিয়েছে। হোটেলের বেসমেন্ট থেকে এগারো জনকে উদ্ধার করেছেন দমকল কর্মীরা। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তিরা কেমন আছেন, তা জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারকে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গেই ঘোষণা করেছেন মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।
সর্বশেষ খবর
-
সিএবিতে ফের নাটক! অ্যাপেক্স সদস্যের আচমকা ইস্তফা চাপ বাড়াল সহ-সভাপতির উপর
-
বাংলাদেশকে উড়িয়ে সেমির আশা জিইয়ে রাখলেন স্মৃতিরা
-
ছিল বধূ নির্যাতনের অভিযোগ, দলবিরোধী কাজ করে এবার সাসপেন্ড কংগ্রেস নেতা ভিক্টর!
-
এভাবেও ফিরে আসা যায়! হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ম্যাজিক, ১৬ বছর পর দেখা পিতা-পুত্রের
-
সাতে-পাঁচে থাকত না পাপ্পু, তারাতলায় বিপর্যয়ে রোজগেরে ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর পরিবার