Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
Chabahar Port

গদরে ‘চৈনিক’ চাল! ইরানে মার্কিন হামলার মাঝেই চাবাহার নিয়ে কেন চিন্তিত নয়াদিল্লি?

২০১৬ সালে ভারত-ইরান-আফগানিস্তান এই তিন দেশ চাবাহার নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়। পাকিস্তানের জলসীমার খুব কাছে অবস্থিত চাবাহার বন্দরের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় ভারত। বিনিময়ে মেলে চাবাহার বন্দর ব্যবহারের অধিকার।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১৭:১৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১৭:১৮

options
link
গদরে ‘চৈনিক’ চাল! ইরানে মার্কিন হামলার মাঝেই চাবাহার নিয়ে কেন চিন্তিত নয়াদিল্লি? zoom
চাবাহার নিয়ে চিন্তায় নয়াদিল্লি।

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইরান সংঘাত যত তীব্র হচ্ছে, ততই ভারতের  দুশ্চিন্তা বাড়ছে। কারণ, ইরানের দক্ষিণ-পূর্বে আরব সাগর তীরবর্তী চাবাহার বন্দরের কাছে লাগাতার বোমাবর্ষণ শুরু করেছে আমেরিকা। সূত্রের খবর, মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাবাহারের আশপাশের এলাকা। এর জেরে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। কারণ, চাবাহার শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়, এই বন্দর কৌশলগত দিক থেকে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর গত ৮ জুলাই চাবাহারের কাছে ভয়ংকর হামলা চালায় আমেরিকা। এরপর মঙ্গলবার রাতে এক টানা সাত ঘণ্টা ইরানে সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন সেনা। ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পাশাপাশি, বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বন্দর শহরগুলিও। শুধু তাই নয়, চাবাহারের মেরিটাইম ট্রাফিক কন্ট্রোলেও মার্কিন সেনা হামলা চালিয়েছে বলে খবর। কালো ধোঁয়ায় ঢাকে এলাকা। এই সংক্রান্ত একাধিক ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেগুলির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

২০১৬ সালে ভারত-ইরান-আফগানিস্তান এই তিন দেশ চাবাহার নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়। পাকিস্তানের জলসীমার খুব কাছে অবস্থিত চাবাহার বন্দরের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় ভারত। বিনিময়ে মেলে চাবাহার বন্দর ব্যবহারের অধিকার। এরপরই চাবাহার প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে ইসলামাবাদ। অভিযোগ করে, পাকিস্তানের মাটিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে আফগানিস্তানকে ব্যবহার করার লক্ষ্যেই ভারত এই বন্দর তৈরি করছে। চাবাহার নিয়ে উদ্বিগ্ন চিনও। 

চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) অঙ্গ হিসাবে আরব সাগরের তীরে পাকিস্তানের গদরে একটি বন্দর তৈরি করেছে চিন। মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সহজ যোগাযোগের স্বার্থে পাকিস্তানের মাটিতে চিনা উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই বন্দরের উপর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশকে নির্ভর করতে হবে বলে আশা করেছিল বেজিং। কিন্তু গদর থেকে জলপথে ২০০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত চাবাহারে ভারত যে পালটা বন্দর তৈরি করবে, তা চিন বা পাকিস্তান কেউই আশা করেনি। 

চাবাহার বন্দর। ছবি: সংগৃহীত।

উল্লেখ্য, কৌশলগত দিক থেকে চাবাহার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে আর পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার না করেই আফগানিস্তান, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য-সম্পর্ক জোরদার করতেই ইরানের চাবাহারে সমুদ্রবন্দর গড়ে তুলেছিল ভারত। দিয়েছিল মোট ৫০ কোটি ডলার।

মার্কিন হামলার ফলে যদি চাবাহারের কার্যক্রম ব্যাহত হয়, তাহলে ভারতের বহু বছরের বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা ধাক্কা খাবে। একই সঙ্গে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের বিকল্প বাণিজ্য করিডরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।  বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চাবাহার দুর্বল হলে সবচেয়ে বেশি কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে চিন। কারণ, তখন পাকিস্তানের গদর বন্দরের গুরুত্ব আরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে বেজিংয়ের হাত আরও শক্ত হবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.