সোমবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক সম্ভবত সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী বৈঠক। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পর যত দিন গিয়েছে ওই জোট ততই দুর্বল হয়েছে। এখন যা পরিস্থিতি তাতে গোটা ইন্ডিয়া জোট ভগ্নপ্রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধীরা আগামী দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ খুঁজবেন ওই বৈঠকে। একই সঙ্গে ওই বৈঠকে চমক দেওয়ারও চেষ্টায় রয়েছেন ইন্ডিয়া নেতারা।
কংগ্রেসের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি আগেই হয়ে গিয়েছিল। এবার ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গেও একপ্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেছে এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে। সোমবারের বৈঠকে যোগ দেবে না তামিলনাড়ুর প্রধান বিরোধী দল। ডিএমকের সাফ কথা, যে বৈঠকে কংগ্রেস থাকবে, সেখানে তারা থাকবে না। ডিএমকে সরকারিভাবে জোটে যোগ দিতে অস্বীকার করায় বিকল্প খোঁজা শুরু করেছেন ইন্ডিয়া নেতারা। শোনা যাচ্ছে শেষ মুহূর্তে টিভিকে প্রধান বিজয়কে ইন্ডিয়ার বৈঠকে হাজির করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রথমে ঠিক ছিল যে দলের কোনও সাংসদ নেই তাঁদের বৈঠকে ডাকা হবে না। সেই সূত্রে টিভিকের ডাক পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু স্ট্যালিনের অনুপস্থিতিতে বিজয়কে বৈঠকে হাজির করানোর চেষ্টা করছে কংগ্রেস। সব ঠিক থাকলে ইন্ডিয়া জোটে স্ট্যালিন আউট, বিজয় ইনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন:
এদিকে এসবের মধ্যে আবার জোটের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তির আবহ তৈরি করল সিপিএম। সোমবার দিল্লিতে নির্ধারিত ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আগে কংগ্রেসের কাছে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা চেয়েছে তারা। সূত্রের খবর, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি লিখেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। কেরলমে বিধানসভা নির্বাচনের সময় বামেদের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁতের অভিযোগ তোলার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে বলেছেন তিনি। সিপিএমের অভিযোগ, কেরলম বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য নেতারা বারবার দাবি করেছিলেন যে, এলডিএফের সঙ্গে বিজেপির ‘গোপন সমঝোতা’ রয়েছে। বামেদের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যেই যখন ইন্ডিয়া জোট গঠিত হয়েছিল, তখন শরিক দলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জোটের ভিত্তিকেই দুর্বল করে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বৈঠকের আগে এই চিঠি প্রকাশ্যে আসা বিরোধী ঐক্যের বার্তাকে কিছুটা হলেও ধাক্কা দিতে পারে।
তবে সিপিএম স্পষ্ট করেছে, তারা ইন্ডিয়া জোটে থাকছে এবং বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তা সত্ত্বেও কংগ্রেসের কাছে তাদের এই ব্যাখ্যা দাবি সোমবারের বৈঠকের আগে নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, বৈঠকে এই বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পায় এবং জোটের নেতারা অস্বস্তির এই মেঘ কাটাতে কী বার্তা দেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুরদলেও ফাটল, আইনি জটের আশঙ্কা, মমতার পছন্দে মেয়র বাছতে ‘সই’ দিলেন না অধিকাংশ কাউন্সিলর!
-
ছবির দেশ, কবিতার দেশে রূপকথা! ফরাসি ওপেনে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ জাভেরেভের
-
পাহাড় থেকে সমতল, ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলা! আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বাসিন্দারা
-
‘একে নেব না, ওকে নেব না বললে হবে না’, বঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের বার্তা বনশলের
-
শ্বাস যন্ত্রে কিছুতেই ফুঁ দিতে পারছেন না মদ্যপ! চড় কষালেন পুলিশকর্মী, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক