Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ৯ জুন ২০২৬
TMC MPs

এবার মমতার হাতছাড়া সংসদীয় দলও! এনডিএ’র শরিক হতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি ২০ তৃণমূল সাংসদের

কাকলি ঘোষ দস্তিদার চিঠি জমা দিয়েছেন বলে খবর।

Advertisement
নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: জুন ৮, ২০২৬, ১৭:২৭

link
নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: জুন ৮, ২০২৬, ১৭:২৭

options
link
এবার মমতার হাতছাড়া সংসদীয় দলও! এনডিএ’র শরিক হতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি ২০ তৃণমূল সাংসদের zoom
এবার মমতার হাতছাড়া সংসদীয় দলও! এনডিএ'র শরিক হতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি ২০ তৃণমূল সাংসদের

পরিষদীয় দলের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলেও ভাঙন। জল্পনা সত্যি করে এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিলেন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। সূত্রের খবর, আপাতত ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সাংসদের সই করা চিঠি জমা পড়েছে। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এবার বিধানসভার পর লোকসভার রাশও ‘আসল তৃণমূলে’র হাতে। শোনা যাচ্ছে, ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের সংখ্যাটা বেড়ে ২১ হতে পারে।

পালাবদলের একমাস পেরনোর আগেই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিষদীয় দলের ‘মালিকানা’ হাতছাড়া হয়েছে তৃণমল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়কই নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। সেই থেকেই শোনা যাচ্ছিল, একই নকশায় ভাঙতে চলেছে সংসদীয় দলও। রবিবার জল্পনার মাঝেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমে বৈঠক হয়েওছে। এককালে ‘জমিদার’ বলে বিঁধলেও সোনিয়া গান্ধীকে জড়িয়ে ধরেছেন মমতা। কিন্তু তাতেও লাভ কিছুই হল না। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় রাজধানীতে থাকাকালীনই ভেঙে টুকরো হয়ে গেল তৃণমূলের সংসদীয় দল। বস্তুত, ছবি যা দাঁড়িয়েছে তাতে বলাই যায়, মমতা ইন্ডিয়ায়, আর তৃণমূল এনডিএ-তে।  

Advertisement

নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের স্বীকৃতি মিললে এবার লোকসভায় ‘আসল তৃণমূল’ হতে চলেছেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’রা। ফলে লোকসভার দলনেতা থাকবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে এবার জোড়াফুল প্রতীকের দাবিদার হতে চলেছেন বিদ্রোহীরা। এবার নিজের হাতে গড়া দলের প্রতীকও কি হাতছাড়া হবে মমতার?

রবিবার দিল্লিতে গোপন বৈঠক করেন তৃণমূলের অন্তত ২১ ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের খান, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া-সহ আরও ২০ সাংসদ। সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। কার্যতই তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, এদিনই বঙ্গ রাজনীতি নাটকীয় মোড় নিতে চলেছে।

সেই জল্পনাই সত্য়ি হল। ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকের কয়েকঘণ্টার মধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে চিঠি জমা দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে জানানো হয়েছে,  এই ২০ সাংসদ তৃণমূলের সঙ্গে থাকতে চান না। তাঁরা এনডিএতে যোগ দিতে চান। স্পিকারের কাছে তাঁরা আর্জি জানিয়েছেন, তাঁদের যেন এনডিএর সঙ্গে বসার ব্যবস্থা করা হয়। অর্থাৎ পরিষদীয় দলের মতোই নাটকীয়ভাবে ভেঙে গেল তৃণমূলের সংসদীয় দল। বিদ্রোহীরা মুখ্য সচেতক হিসেবে চাইছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের স্বীকৃতি মিললে এবার লোকসভায় ‘আসল তৃণমূল’ হতে চলেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ফলে লোকসভার দলনেতা থাকবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে এবার জোড়াফুল প্রতীকের দাবিদার হতে চলেছেন ‘বিদ্রোহী’রা। এবার নিজের হাতে গড়া দলের প্রতীকও কি হাতছাড়া হবে মমতার? উত্তরের অপেক্ষায় সকলে।   

ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক ও চিঠি প্রসঙ্গে সাংসদ শর্মিলা সরকার, “এটা একদিনের ক্ষোভের প্রতিফলন নয়। আমরা তৃণমূলের থেকে নিজেদের আলাদা করে নিয়েছি। সকলেরই অভাব অভিযোগ ছিল। আজ ২০ জন সাংসদ একসঙ্গে বসতেই তা প্রকাশ্যে এসেছে। আমরা এনডিএকে সাপোর্ট করার জন্য আলাদা ব্লক করেছি।” দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে তিনি আরও বলেন, “বঙ্গে কোনও উন্নয়ন হচ্ছিল না। দিদিকে আমি শ্রদ্ধা করি। ২ দিনের সিদ্ধান্তে চাকরি ছেড়েছিলাম। কেউ বলতে পারবে না এক পয়সা নিয়েছি। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে প্রথম থেকেই ধাক্কা খেয়েছি। প্রথম থেকেই দেখছি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। জেলা সভাপতি চেয়েছিলেন আমাকে সরিয়ে দিতে, আমাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। কাটোয়ায় দুর্নীতি ভরে গিয়েছে। জেতার পর আমি রিপোর্ট পাঠিয়েছিলাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। কিন্তু রিপোর্ট পৌঁছে গেল যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর কাছে। আমি এমপি তহবিলের কাজ করতে পারিনি।” 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.