Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Pahalgam attack

কাশ্মীরে হামলার দায় নিল লস্করের ‘ছায়াদানব’, কীভাবে হামলার ছক? প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

'রিসর্ট জেহাদ' চালাল 'ছায়া দানব'রা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২৫, ১৩:১৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২৫, ১৩:১৫

options
link
কাশ্মীরে হামলার দায় নিল লস্করের ‘ছায়াদানব’, কীভাবে হামলার ছক? প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রক্তাক্ত ভূস্বর্গ। পহেলগাঁওয়ের সবুজ উপত্যকায় রং এখন টকটকে লাল। ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের রক্তের দাগ লেগে লস্করের ‘ছায়া দানব’ দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের জেহাদিদের হাতে। ইতিমধ্যে হামলার দায় স্বীকার করেছে তারা। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে, টানা সাতদিন ধরে রেইকি চালিয়ে আঁটঘাট বেঁধে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ ‘রিসর্ট জেহাদ’ চালাল ‘ছায়াদানব’রা।

এপ্রিল-মে মাসে কাশ্মীরের পর্যটনের ভরা মরশুম। সবেমাত্র সন্ত্রাসের আতঙ্ক কাটিয়ে ছন্দে ফিরছিল ভূস্বর্গ। শ্রীনগরের টিউলিপ গার্ডেন থেকে ডাললেক, সোনমার্গ থেকে পহেলগাঁও, ভরা পর্যটকে। আর ঠিক এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাল জঙ্গিরা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ১-৭ এপ্রিল রেইকি চালিয়েছিল লস্করের জঙ্গিরা। একাধিক পর্যটনস্থলের রিসর্টে রেইকি করেছিল তারা। শেষপর্যন্ত বেছে নেয় কাশ্মীরের ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ পহেলগাঁওর বৈসারন ভ্যালির এই রিসর্টকে। দুপুরে যখন খোশমেজাজে ছুটির মৌতাত নিচ্ছিলেন পর্যটকরা তখনই জলপাই রঙের পোশাক পরে ঘোড়ায় চেপে সবুজ উপত্যকায় হাজির হয় ৬-৭ জন ‘মৃত্যুদূত’। দু’-তিনটে দলে ভাগ হয়ে অতর্কিতে ৪০-৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ধর্মীয় পরিচয় দেখে রীতিমতো ‘টার্গেট কিলিং’ চালায় তারা। তাতেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৬ জনের। এই তালিকায় দুজন বিদেশিও রয়েছেন বলে খবর। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও অনেকে। ফলে মৃত্যু মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে বলেই আশঙ্কা।

Advertisement

কিন্তু কী এই ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা টিআরএফ? তাদের লস্করের ‘ছায়া দানব’ই বা বলা হয় কেন?

কাশ্মীরে আইএসআই-র (ISI) ছায়াযুদ্ধকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘বিদ্রোহ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই মূলত টিআরএফ-কে তৈরি করে পাকিস্তান। এরা মূলত লস্কর-ই-তইবার জেহাদি ছক বাস্তবায়িত করে। ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বা সংবিধানের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। যা নিয়ে উপত্যকার বহু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। তাদের মগজ ধোলাই করেই টিআরএফ তৈরি করে পাক জেহাদি সংগঠনগুলি। যদিও অন্য একটি সূত্রের দাবি, করাচিতে সমাজসেবী সংগঠন হিসেবে তৈরি হয়েছিল ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। তারাই পরবর্তী সময় কাশ্মীরে জেহাদি কার্যকলাপ চালাচ্ছে। সংগঠনের মাথায় রয়েছে সাজিদ জাট, সাজ্জাদ গুল এবং সালিম রেহমানিরা। সকলেই লস্করের সহযোগী। সোশাল মিডিয়ার উপর ভিত্তি করেই নিজেদের নেটওয়ার্ক বানায় তারা। তবে শুধু লস্কর নয়, তেহরিক-ই-মিলাত ইসলামিয়া এবং ঘাজনাভি হিন্দেরও যোগ রয়েছে তাদের সঙ্গে। পাকিস্তানে বসে জেহাদি হামলার ছক কষা হলে তা কাশ্মীরের মাটিতে বাস্তবায়িত করার দায়িত্বে রয়েছে টিআরএফ। যেমন এদিনের রিসর্টের হামলা।

কাশ্মীর উপত্যকায় লস্করের ও হিজবুলের মতো পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলির উপর নজর ছিল সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অর্থ জোগানের উপর নজরদারি চালানো সংগঠন ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স-এর (FATF)। ওই আন্তর্জাতিক সংগঠনের ধূসর তালিকায় নাম ছিল পাকিস্তানের। ২০২২ সালে কৌশলে সেই তালিকা থেকে বেরিয়েছে ইসলামাবাদ। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের পিঠ বাঁচাতে সন্ত্রাস রপ্তানি করছে তারা। বকলমে টিআরএফ-কে দিয়ে কার্যসিদ্ধি করছে রাওয়ালপিণ্ডি। যেমনটা হল পহেরগাঁওতে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.