সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদ করেন হায়দরাবাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পড়ুয়ারা। বৃহস্পতিবার প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েও পিছু হটে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এবার খোদ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়ে দিলেন, বিষয়টি তাঁর ও পড়ুয়াদের মধ্যে ঘটেছে। এর মধ্যে বার কাউন্সিল ঢুকবে কেন! পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় কার্যত উষ্মা প্রকাশ করেন দেশের প্রধান বিচারপতি।
হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন উৎসবে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে। এর বিরোধিতা করেন পড়ুয়াদের একাংশ। নেপথ্যে প্রধান বিচারপতির ‘ককরোচ’ মন্তব্য। এই ঘটনার জেরে কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (বিসিআই)। বৃহস্পতি সন্ধ্যায় এক নির্দেশিকায় বিসিআই জানিয়েছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের ২০২৬ সালের কোনও স্নাতককেই কোনও রাজ্যের বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে না। যদিও কয়েক ঘণ্টা পরেই ব্যাকফুটে যায় বিসিআই। এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। এবার খোদ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে উষ্মা প্রকাশ করলেন।
এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এটি (ছাত্রদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা) একেবারেই অনভিপ্রেত। আমিও একসময় ছাত্র ছিলাম। সক্রিয়ভাবে আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলাম। ঘটনাটি আমার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যের বিষয়। এতে হস্তক্ষেপ করার তারা (বিসিআই) কে?” এইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বিসিআই-এর জারি করা বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে তাদের কাছে জবাব চেয়েছে। বলেছে যে, নালসার শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিভার্সিটির চারশোর বেশি পড়ুয়া একটি পিটিশনে সই করে জানিয়ে ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির (প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত) নাম পুনর্বিবেচনা করা হোক। কেন এমন দাবি করছেন আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা? তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতির ‘ককরোচ’ মন্তব্য নিয়ে। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদীদের মামলায় ভিডিও দেখা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, এসব দেখার সময় নেই। পড়ুয়াদের মতে, ‘এই ধরণের মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি আমাদের প্রতি উদাসীনতা দেখিয়েছেন। তাঁকে আমাদের কলেজে আমন্ত্রণ জানানো, তাঁর হাত দিয়ে আমাদের ডিগ্রি তুলে দেওয়া-এগুলো মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি যেন এই আমন্ত্রণ নিয়ে আবারও ভাবনাচিন্তা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।’
সর্বশেষ খবর
-
‘বিশ্বাস হারাইনি…’, ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়ে মুখ খুললেন বারবার ‘বঞ্চিত’ আকিব নবি
-
‘ফ্ল্যাট ফাঁকা আছে…’, নিউটাউনে আবাসনের পরিচারিকাকে ‘শ্লীলতাহানি’ লালবাজারের কনস্টেবলের!
-
প্রজন্মের বদলে বদলাল ইনস্টাগ্রামও! নয়া লুক নিয়ে কী বলছে নেটিজেনরা?
-
উচ্চমাধ্যমিকের আগেই স্কুলছুট ৭৩ শতাংশ, কমছে স্কুলের সংখ্যাও, উদ্বেগ সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে
-
ভরা বর্ষাতেও বঙ্গবাসীর পাতে ‘অধরা’ পদ্মার ইলিশ! খরা কাটাতে ঢাকায় যাচ্ছে প্রতিনিধি দল