Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
Indian State That Wasn’t Free in 1947

ব্রিটিশ আমলেও অন্যের অধীনে ছিল ভারতের এই রাজ্য, ৩৬ ঘণ্টার ‘অপারেশন বিজয়ে’ মেলে স্বাধীনতা

ভারতের একমাত্র রাজ্য, যেটি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতার উদযাপনে শামিল হতে পারেনি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ১৬:৩৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ১৬:৩৫

options
link
ব্রিটিশ আমলেও অন্যের অধীনে ছিল ভারতের এই রাজ্য, ৩৬ ঘণ্টার ‘অপারেশন বিজয়ে’ মেলে স্বাধীনতা zoom
৩৬ ঘণ্টার 'অপারেশন বিজয়ে' স্বাধীনতা পায় এই রাজ্য
Advertisement

প্রতি বছর ১৫ আগস্ট ভারতজুড়ে পালিত হয় স্বাধীনতা দিবস। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই এই দিনটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গৌরবের স্মৃতি বহন করে আসছে। কিন্তু ভারতের এমন একটি রাজ্য রয়েছে, যেটি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট এই স্বাধীনতার উদযাপনে শামিল হতে পারেনি। কারণ, রাজ্যটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল না, বরং ছিল অন্য এক ইউরোপীয় শক্তির উপনিবেশ। রাজ্যটির নাম গোয়া (Indian State That Wasn’t Free in 1947)।

The Indian State That Wasn’t Free in 1947: Its Journey to Liberation

Advertisement

ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর আরও ১৪ বছর পর্তুগিজ শাসনের অধীনে ছিল গোয়া। অবশেষে ১৯৬১ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘অপারেশন বিজয়’-এর মাধ্যমে শেষ হয় পর্তুগিজ শাসন। গোয়ার ঔপনিবেশিক ইতিহাস ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতে আসারও বহু আগে শুরু। ১৫১০ সালে পর্তুগিজরা গোয়া দখল করে। এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন পর্তুগিজ নৌসেনা কমান্ডার আফোঁসো দে আলবুকার্ক। বিজাপুরের সুলতান ইউসুফ আদিল শাহের বাহিনীকে পরাজিত করে তিনি গোয়া দখল করেন। এরপর গোয়া হয়ে ওঠে এশিয়ায় পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

১৭৯৭-৯৮ এবং ১৮০২-১৩—এই দুই পর্বের যুদ্ধ চলাকালীন ব্রিটিশ সেনা গোয়ায় ঘাঁটি গেড়েছিল ঠিকই, তবে পর্তুগিজ প্রশাসনই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফলে গোয়ার মূল ঔপনিবেশিক শাসক বদলায়নি।

স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু প্রথমদিকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে গোয়াকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পর্তুগালের তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার গোয়া ছাড়তে রাজি হয়নি।

স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী একযোগে এই অভিযানে অংশ নেয়। পর্তুগিজ বাহিনী সংখ্যায় ও সামরিক শক্তিতে ভারতের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। মাত্র প্রায় ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের প্রতিরোধ কার্যত ভেঙে পড়ে।

অবশ্য গোয়ার স্বাধীনতার দাবি নতুন ছিল না। গোয়ান জাতীয়তাবাদের অন্যতম পথিকৃৎ ত্রিস্তাঁও দে ব্রাগান্সা কুনহা ১৯২৮ সালে কলকাতায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনের সময় গোয়া ন্যাশনাল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ১৯৪৬ সালে সমাজতান্ত্রিক নেতা রাম মনোহর লোহিয়া গোয়ায় একটি ঐতিহাসিক সভার নেতৃত্ব দেন। সেখানে নাগরিক স্বাধীনতা ও পর্তুগিজ শাসনের অবসানের দাবি ওঠে। পরবর্তী বছরগুলিতে শান্তিপূর্ণ সত্যাগ্রহ থেকে শুরু করে গোপন সশস্ত্র আন্দোলন—বিভিন্ন পথে পর্তুগিজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চলতে থাকে।

১৯৬১ সালের ২৪ নভেম্বর একটি ভারতীয় যাত্রীবাহী জাহাজে পর্তুগিজ বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন যাত্রী নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। ১৭ ডিসেম্বর রাতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী গোয়া, দমন ও দিউয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে। অভিযানের নাম দেওয়া হয় অপারেশন বিজয়।

The Indian State That Wasn’t Free in 1947: Its Journey to Liberation

স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী একযোগে এই অভিযানে অংশ নেয়। পর্তুগিজ বাহিনী সংখ্যায় ও সামরিক শক্তিতে ভারতের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। মাত্র প্রায় ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের প্রতিরোধ কার্যত ভেঙে পড়ে। ১৯ ডিসেম্বর ১৯৬১ সন্ধ্যায় পর্তুগিজ গভর্নর-জেনারেল ম্যানুয়েল আন্তোনিও ভাসালো ই সিলভা আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। ফলে গোয়ায় প্রায় সাড়ে চার শতকের পর্তুগিজ শাসনের অবসান ঘটে।

আজও ১৯ ডিসেম্বর গোয়া, দমন ও দিউয়ে পালিত হয় ‘গোয়া লিবারেশন ডে। তবে গোয়া প্রাথমিকভাবে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল। পরে ৩০ মে ১৯৮৭ সালে গোয়া ভারতের পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.