বারুইপুরে নাবালিকাকে খুন ও গণধর্ষণের ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পরই ওই ঘটনা নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। অনেকেই এনকাউন্টারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে এই এনকাউন্টার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। সেই ২০১৪ সালেই মহারাষ্ট্র সরকার বনাম পিইউসিল মামলায় এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছে শীর্ষ আদালত।
আসলে ২০১৪ সালে মহারাষ্ট্র পুলিশের বিরুদ্ধে এনকাউন্টার নিয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিল পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তাঁদের দাবি ছিল, এনকাউন্টারের মাধ্যমে যেভাবে অভিযুক্তদের খুন করা হচ্ছে সেগুলির অধিকাংশই ভুয়ো। সেই ভুয়ো এনকাউন্টার রুখতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আর এম লোধার ডিভিশন বেঞ্চ ১৬ দফার নির্দেশিকা জারি করে।
আরও পড়ুন:
কী সেই নির্দেশিকা?
১। গোপন সূত্রে কোনও অভিযুক্তের অপরাধের খবর পেলে লিখিত আকারে বা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে নথিভুক্ত করতে হবে।
২। এনকাউন্টারে আহতদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে।
৩। এনকাউন্টারে কারও মৃত্যু হলে দ্রুত এফআইআর দায়ের করতে হবে।
৪। এনকাউন্টারে নিহতদের নিকটাত্মীয়দের অবিলম্বে জানাতে হবে।
৫। এফআইআরের কপি দ্রুত জমা দিতে হবে আদালতে।
৬। এনকাউন্টারে মৃত্যুর ক্ষেত্রে নিহতের ময়নাতদন্তের পুরো প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করতে হবে।
৭। অস্ত্র, রক্তের নমুনা, আঙুলের ছাপ-সহ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সমস্ত প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।
৮। এনকাউন্টারে ব্যবহৃত অস্ত্রও সংরক্ষণ করতে হবে।
৯। এনকাউন্টার ভুয়ো কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত করবে অন্য থানা বা সিআইডি।
১০। এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় বা রাজ্য মানবাধিকার কমিশনকে জানাতে হবে।
১১। মৃতের পরিবারকে সমস্তরকম নথিপত্র দেখার সুযোগ করে দিতে হবে।
১২। এনকাউন্টারে মৃত্যুতে প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত করা হবে।
১৩। তদন্তে ভুয়ো এনকাউন্টার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করে করে মামলা রুজু করতে হবে।
১৪। ভুয়ো এনকাউন্টার হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে নিহতের পরিবারকে।
১৫। প্রকৃত এনকাউন্টার প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত বীরত্বের পুরস্কার পাবেন না অফিসার। হবে না পদোন্নতিও
১৬। রাজ্যগুলির উচিত এনকাউন্টারে মৃত্যুর সমস্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করা এবং মানবাধিকার কমিশনকে জানানো।
রাজ্য সরকার বারুইপুর এনকাউন্টারের পর সুপ্রিম নির্দেশিকা মেনেই কাজ করছে। এনকাউন্টারের সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর হয়েছে। এনকাউন্টারের তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির হাতে। নিয়ম অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এনকাউন্টারের সঙ্গে যেহেতু জড়িত, সেই কারণে বারুইপুর জেলা পুলিশ এই তদন্ত করতে পারে না। সেই কারণেই পৃথক তদন্তকারী সংস্থা সিআইডিকে শুধুমাত্র এনকাউন্টারের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে বলেই খবর।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘আত্মসম্মানে লাগছে না?’ ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ন্যাটো চিফকে কড়া প্রশ্ন ডেনমার্কের সাংবাদিকের!
-
‘৩৮ দফা দাবি, ৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা’, শাহবাজ সরকারের উপর চাপ বাড়াল অধিকৃত কাশ্মীর
-
ডবল ইঞ্জিনে উন্নয়নের দৌড়! শুভেন্দু সরকারের দু’মাসে বাংলায় কতটা কাটল শিল্পের খরা?
-
নজরে রাজ্যসভা, শাহী সাক্ষাতের পর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে প্রসেনজিৎ
-
জাহ্নবীর মেহেন্দিতে উজ্জ্বল ‘শিখু’, প্রেমচর্চা উসকে সম্পর্কে সিলমোহর শ্রীদেবীকন্যার!