শ্রীকৃষ্ণের জন্মের সময় কংসের কারাগারে বন্দি ছিলেন মা দেবকী। সেই পরিস্থিতি কোনও মায়ের জন্যই কাম্য নয়। এই প্রসঙ্গ টেনে ধর্মান্তকরণে অভিযুক্ত টিসিএসের প্রাক্তন এইচআর কর্মী নিদা খানকে জামিনে মুক্ত করল মহারাষ্ট্রের নাসিকের বিশেষ আদালত। গর্ভবতীর হওয়ার কারণ দর্শিয়ে জামিনের আবেদন করেছিলেন নিদা। মা ও নবজাতকের মানসিক পীড়ার কথা ভেবে সেই আবেদন মঞ্জুর করলেন বিচারক।
টিসিএস মামলায় তাঁর নাম সামনে আসার পর সংস্থার তরফে সাসপেন্ড করা হয় নিদাকে। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বেশ কিছুদিন পালিয়ে বেড়ান তিনি। পরে ‘যৌন শোষণ’ এবং ‘ধর্মান্তকরণে’র অভিযোগে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নিদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জামিন দেওয়ার সময় বিশেষ আদালতের বিচারক কেজি জোশী বলেন, “জামিনের আবেদনকারী নিদা যে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তা নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মতো কারাগারে জন্ম নেওয়ার মানসিক আঘাত কিংবা এর সঙ্গে জড়িত সামাজিক কলঙ্ক— কোনওটাই কারও পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়।” আরও বলেন, “বেদনাদায়ক পরিস্থিতি এড়াতে এবং একটি নবজাতক শিশুকে স্বাগত জানাতে ও সার্বিক কল্যাণের জন্য, ন্যায়সঙ্গত ভাবে অভিযুক্তের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।”
এইসঙ্গে নাসিকের বিশেষ আদালতের বিচারক উল্লেখ করেন, তদন্ত যখন সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, চার্জশিটও দাখিল হয়েছে, তখন টানা কারবন্দি রাখা অর্থহীন। উল্লেখ্য, শুধুমাত্র দেওলালি ক্যাম্প থানায় দায়ের করা মামলাটিতেই নিদা খানের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, বৃহত্তর তদন্তের আওতায় থাকা অন্য সাতজন অভিযুক্ত ২৬ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে দায়ের করা নয়টি এফআইআর-এর ভিত্তিতে বিচারাধিন।
উল্লেখ্য, যৌন নির্যাতন, মানসিক হেনস্তা এবং ধর্মান্তরণের অভিযোগ আইটি জায়েন্ট সংস্থার নাসিক কেন্দ্রের বেশ কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের প্রধান ছিলেন নিদা। জানা যায়, নিদা খান দাপ্তরিক ভাবে এইচআর প্রধান পদে ছিলেন না, তিনি টেলিকলার হিসাবেই সংস্থায় যোগ দেন। যদিও কার্যক্ষেত্রে এইচআর প্রধানের কাজ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি চক্রের হয়ে ‘কর্পোরেট জেহাদ’-এর কাজ করতেন। সংস্থার মহিলা কর্মীদের জোর করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করতেন। এমনকী হিন্দু কর্মীদের আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করতেন বলেও অভিযোগ। জবরদস্তি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ।
এই ঘটনায় এফআইআর করেছেন ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি টিসিএস-এর মহিলা কর্মীরা। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের উপর নির্যাতন চলেছে বলে অভিযোগ। গ্রেপ্তার হওয়া ছয় অভিযুক্তের মধ্যে টিসিএসের ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার আধিকারিকও রয়েছেন। আরও কয়েক জনের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। প্রয়োজনে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। এএনআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শ্লীলতাহানি ও ধর্মান্তরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে টিসিএসের বিভিন্ন পদে থাকা আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং অশ্বিন চাইনানিকে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন অন্যতম অভিযুক্ত নিদা খান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ব্রাজিল ম্যাচের আগেই পানামার বিরুদ্ধে নামবে ভারত, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল ফেডারেশন
-
ঠিকভাবে উল্লেখ নেই রাস্তার নাম! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে ৭ দফা আপত্তি সিপিএমের
-
হাসপাতালে থাকতে নারাজ বিমান বসু, ফিরতে চাইছেন কলকাতায়! কবে ছুটি?
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে মাস্টার প্ল্যান রাজ্যের
-
আচমকা মস্কোয় অবতরণ করল মার্কিন সেনার বিমান! ঘনাচ্ছে রহস্য, কী বলল ক্রেমলিন?