Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
Madhya Pradesh

২০২৫ সালে রেকর্ড বাঘের মৃত্যু! সংকটে ‌‘ব্যাঘ্র রাজ্য’ মধ্যপ্রদেশ

১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রদেশে শুরু হয়েছিল প্রোজেক্ট টাইগার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ১০:১৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ১০:১৩

options
link
২০২৫ সালে রেকর্ড বাঘের মৃত্যু! সংকটে ‌‘ব্যাঘ্র রাজ্য’ মধ্যপ্রদেশ zoom
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের ‌‘ব্যাঘ্র রাজ্য’ই ক্রমশ কমছে বনের রাজার সংখ‌্যা। ২০২৫ সালে প্রাণ হারিয়েছে ৫৫টি। ১৯৭৩ সালের পর থেকে ধরলে এখনও পর্যন্ত যে সংখ‌্যাটা সবচেয়ে বেশি। মধ‌্যপ্রদেশে সত্যিই তীব্র সংকটে হলুদ-কালো ডোরাকাটার অস্তিত্ব।

জঙ্গল এলাকার ঘন-সন্নিবেশ। তার সঙ্গে সাযুজ‌্য রেখে বাঘেদের সংখ‌্যা। এই জাঁকজমক দেখেই গালভরা তকমা ‘টাইগার স্টেট’ পেয়েছিল মধ‌্যপ্রদেশ। কিন্তু সেই জৌলুস আজ ফিকে, সেই গরিমা আজ ভূলুণ্ঠিত। প্রতি বছর এ রাজ্যে কমছে বাঘের সংখ‌্যা। ১৯৭৩ সালে এখানে শুরু হয়েছিল প্রোজেক্ট টাইগার। আর চলতি বছরে এখানেই সবচেয়ে বেশি সংখ‌্যক বাঘের মৃতু‌্য নথিবদ্ধ হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি বুন্দেলখণ্ডের সাগর জেলার। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনির মৃতু‌্য হয়েছে সেখানে। বয়স প্রায় দশ বছর। রবিবার সাগর-ধানা সড়কপথের কাছাকাছি হিলগঁাও গ্রামের উপকণ্ঠে মিলেছে তার নিথর দেহ। গ্রামবাসীরাই প্রথম দেখেন। তারপর খবর দেন বন দপ্তরকে। তথ‌্য অনুযায়ী, বাঘিনিটি সাগর জেলার সাউথ ফরেস্ট ডিভিশনের আওতাধীন ধানা ফরেস্ট রেঞ্জের ভিতরে ছিল। সেখান থেকে সেটি কী করে গ্রামের কাছাকাছি গেল, কীভাবেই বা তার মৃত্যু হল– জানতে তদন্ত করছে বন দপ্তর। এখনও পর্যন্ত মৃতু‌্যর কারণ স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। তা খোলসা হবে নেক্রোপসির পর। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বাঘিনিটি কোনওভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিল। বুনো শূকরের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে গ্রামবাসীরা প্রায়ই জমিজায়গা বিদ্যুতের তার দিয়ে ঘিরে রাখেন। কোনওভাবে তার মধ্যে গিয়ে পড়াতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাঘিনিটি মারা গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

তথ‌্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ৫৫টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে মধ‌্যপ্রদেশে। তার মধ্যে ১১টির মৃত্যুই নথিবদ্ধ করা হয়েছে ‘অস্বাভাবিক’ হিসাবে। আর আটটি মারা গিয়েছে হয় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, অথবা শিকারে। মৃত বাঘিনির ছবি সোশ‌াল মিডিয়ায় পোস্ট করে বনকর্মী অজয় দুবে লিখেছেন, ‘‘কবে থামবে বাঘেদের এই মরণযাত্রা? কবে দূর হবে সংকট? এ বছরে ইতিমধে‌্যই ৫৫টির মৃত্যু হয়েছে মধ‌্যপ্রদেশে। অথচ কারও কাছে কোনও উত্তর নেই। প্রশাসন নির্বিকার। বনবিভাগ নিরুত্তাপ।’’ উল্লেখ‌্য, নামে ‘টাইগার স্টেট’ হলেও গত কয়েক বছর ধরেই মধ‌্যপ্রদেশে ব‌্যাঘ্রকুলের সংখ‌্যা যেভাবে কমছে, যেভাবে বাড়ছে চোরাশিকার, তাতে এই নাম আর রাখা যায় কি না– সেই প্রশ্ন উঠতে বাধ‌্য। পরিসংখ‌্যান অনুযায়ী, গত মাত্র এক সপ্তাহের ব‌্যবধানে এই রাজ্যে ছ’টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবারই বান্ধবগড় ব‌্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে উদ্ধার হয়েছে আরও একটি বাঘের দেহাবশেষ। উমারিয়া জেলার চান্দলিয়া ফরেস্ট রেঞ্জের কাছে উদ্ধার হয়েছিল সেটি। সন্দেহ, এটিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মারা গিয়েছে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ‌্যমের তদন্ত-রিপোর্টে মধ‌্যপ্রদেশে বাঘেদের পর পর মৃতু‌্যর ঘটনার পিছনে চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম‌্য বৃদ্ধির কারণটিও তুলে ধরা হয়েছিল। এই সূত্রে নাম উঠে এসেছিল ইয়াংচেন লাখুংপা নামে এক ব‌্যক্তির, যাকে ডিসেম্বরের গোড়ায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পশুদের চোরাশিকারে বড় নাম ইয়াংচেন, বলা যেতে পারে ‘কিংপিন’। ভারত ছাড়াও নেপাল, তিব্বত এবং চিনে ছড়িয়ে ছিল তার নেটওয়ার্ক। এমনকী, ইয়াংচেনের নামে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিসও জারি হয়েছিল। মধ‌্যপ্রদেশ টাইগার স্ট্রাইক ফোর্স এবং ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল বু‌্যরোর যৌথ অভিযানে তাকে০ ধরা হয়েছিল।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.