Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Rajasthan

কংগ্রেস নেতাদের মহিমা কীর্তন! স্বর্ণিম ভারতের ‘মোদি-হীন’ পাঠ্যবই নিষিদ্ধ হল রাজস্থানে

'আজাদি কে বাদ কা স্বর্ণিম ভারত' নামে দ্বাদশ শ্রেণির বইটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২৫, ১৩:১১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২৫, ১৩:১১

options
link
কংগ্রেস নেতাদের মহিমা কীর্তন! স্বর্ণিম ভারতের ‘মোদি-হীন’ পাঠ্যবই নিষিদ্ধ হল রাজস্থানে zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজস্থানে ফের পাঠ্যবই নিয়ে বিতর্ক। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার ঘোষণা করেছেন, দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস বই ‘আজাদি কে বাদ কা স্বর্ণিম ভারত’, অর্থাৎ ‘স্বাধীনতার পরের সোনালি ভারত’ স্কুল পাঠ্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই বইতে কংগ্রেস নেতাদের অতিরিক্তভাবে মহিমান্বিত করা হয়েছে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবদানের প্রায় সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করছে। শিক্ষামন্ত্রীর এমন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস।

এক সাংবাদিক সম্মলনে মদন দিলাওয়ার বলেন, “এই বইয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির অবদানের শুধু নামমাত্র উল্লেখ আছে। একেবারেই স্পষ্ট, গোটা বইটাই এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন কংগ্রেসই একমাত্র দল যারা দেশের জন্য কিছু করেছে।” শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পাঠ্যবইয়ে মুঘল সম্রাট আকবরের মতো চরিত্রের উপস্থিতিও প্রশ্নসাপেক্ষ। দিলাওয়ারের ভাষায়, “আকবর ছিলেন একজন লুটেরা ও ধর্ষক। এমন ব্যক্তিদের স্কুলের পাঠ্যবইতে রাখা উচিত নয়।” তবে ইতিমধ্যেই রাজ্য পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৪.৯০ লক্ষ কপি বই ছেপে ফেলেছে এবং তা রাজ্যের ১৯,৭০০টি স্কুলে পাঠানোর কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এই বই রাজস্থান মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত, যা কংগ্রেস সরকারের আমল থেকেই দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ানো হয়ে আসছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে বইটির দুই খণ্ড পড়ানো হয়। বোর্ডের দাবি, বইটি সরকারি অনুমোদন নিয়েই পুনর্মুদ্রণ করা হয়েছে, শুধু শিক্ষাবর্ষ ‘২০২৫’ হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে।

Advertisement

কিন্তু বিতর্কের মূল কেন্দ্রে বইটির দ্বিতীয় খণ্ড, যার প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর ছবি। এতে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বই ছাপানো হয়েছে মানেই তা গ্রহণযোগ্য, এমনটা তো নয়। বিষ যদি লক্ষ টাকা খরচ করে আনা হয়, তবে কি তা পান করবে কেউ? কংগ্রেস আসলে এটাই করেছে, জনগণের অর্থ খরচ করে গান্ধী পরিবারকে মহিমান্বিত করেছে।” মন্ত্রী দিলাওয়ার আরও অভিযোগ করেন, “এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী, অথচ তাঁর ৩৭০ ধারা বিলোপ, রামমন্দির নির্মাণ ও জাতীয় উন্নয়নে তাঁর অবদান এই বইয়ে প্রায় নেই। অথচ কংগ্রেস নেতাদের নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা হয়েছে।”

এই সব কারণ দেখিয়ে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বইটি রাজ্যের স্কুলগুলিতে আর পড়ানো হবে না এবং অবিলম্বে তা পাঠ্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হবে। পাঠ্যবই বিতর্কের রাজনীতিকরণ ও ইতিহাস লেখার একপাক্ষিক চিত্র তুলে ধরার অভিযোগে রাজস্থানে ফের শিক্ষা ও রাজনীতির সংঘাত তীব্র হল। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে রাজস্থানের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাস্রা বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আরএসএস কতখানি নিচু চিন্তাভাবনা করে, সেটাই বোঝা যায়।” গোবিন্দের প্রশ্ন, বইয়ের তথ্যে যদি ভুল থেকে থাকে তাহলে মন্ত্রীমশাই এত দেরিতে কেন বুঝলেন?

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.