সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তরতরিয়ে এগিয়ে চলেছে দেশের অর্থনীতি। রাষ্ট্রপ্রধানদের ভাষণে হরদম শোনা যাচ্ছে সেই ঢক্কা নিনাদ। তবে দেশের কৃষকদের অবস্থার আজও কোনও বদল নেই। বরং দেশের অন্নদাতাদের দুর্দশা উত্তরোত্তর খারাপ হচ্ছে। বিজেপিশাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্রেই ধরা পড়ল সেই ভয়াবহ ছবি। ৬৬ হাজার টাকা খরচ করে এবছর পিঁয়াজ চাষ করেছিলেন পুনের সুদাম ইঙ্গেল। অতিবৃষ্টিতে এ বছর চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সুদামের। তারপরও ৭৫০ কেজি তুলতে পেরেছিলেন ওই কৃষক। গত শুক্রবার পুরন্ধর বাজারে ফসল বিক্রি করে মাত্র ৬৬৪ টাকা পেলেন তিনি। শুনতে অবাক লাগলেও কৃষক আত্মহত্যায় শীর্ষে থাকা মহারাষ্ট্রের এটাই বাস্তব ছবি। সুদামের দেড় একর জমির পিঁয়াজ এখনও তোলা হয়নি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওই পেঁয়াজ চাষের জমিতে নষ্ট করে সার বানাবেন।
সুদামের এই দুর্দশার ছবিই মহারাষ্ট্রের কৃষকদের ঘরে ঘরে। বৃষ্টির মার সামলানোর পর এবার দামের লাগামছাড়া পতনের মার সহ্য করতে হচ্ছে কৃষকদের। শুধু পিঁয়াজ নয়, টমেটো, আলু, সোয়াবিন-সহ ফলের দামও ব্যাপকভাবে পড়ে গিয়েছে। সবমিলিয়ে দীপাবলির উৎসবে হাহাকার নেমেছে কৃষকদের ঘরে। এই পরিস্থিতিতে সুদাম বলেন, ”আমি না হয় এই ক্ষতি সামলে নিতে পারব। কিন্তু যারা ছোট কৃষক অল্প জমিতে ঋণ নিয়ে চাষ করেন, তাঁরা কীভাবে বাঁচবেন! তাঁদের তো আত্মহত্যা ছাড়া গতি নেই।”
এশিয়ার বৃহত্তম পিঁয়াজের বাজার লাসালগাঁও এপিএমসি। জানা যাচ্ছে, সেখানে দীপাবলির আগে গত সপ্তাহেও পিঁয়াজের দাম ছিল গড়ে ১০৫০ টাকা (১০.৫ টাকা প্রতি কেজি) কুইন্টাল। কিন্তু অভিযোগ, হঠাৎই এই দামে মারাত্মক পতন দেখা দিয়েছে। এপিএমসির একজন সদস্য বলেন, “এই গ্রীষ্মে (মার্চ-এপ্রিল), আমরা পিঁয়াজের বাম্পার ফলন দেখেছি। পিঁয়াজের সংরক্ষণ করে রাখা যায় প্রায় ৭ মাস। তাই অনেক কৃষক যাঁরা তখন বেশি দামের আশায় বিক্রি করেননি, তাঁরা তা সংরক্ষণ করে এখন বিক্রি করছেন। নাসিক অঞ্চলে ৮০% পেঁয়াজ বৃষ্টির কবলে পড়ে নষ্ট হয়েছে। এমনকি উদ্ধারকৃত মজুদও নিম্নমানের এবং খুব কম দামে বিক্রি হচ্ছে।”
সুদাম বলেন, “ক্ষেত প্রস্তুত, চারা কেনা, বীজবপণ, কীটনাশক স্প্রে, জল দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা, ফসল কাটা, প্যাকিং এবং বাজারে পাঠানো পর্যন্ত খরচ প্রচুর। অথচ এবার প্রায় ৭৫০ কেজি পিঁয়াজের ৯০ শতাংশ আমি ২ টাকা ও ৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পেরেছি। অল্প কিছু পিঁয়াজ ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এত পরিশ্রমের ফসল এত কম দামে বিক্রি হওয়ার পর, পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে আমি মোট যে অর্থ পেয়েছি তা হল ৬৬৪ টাকা।” এই বেহাল অবস্থার জন্য সরকারের দিকে আঙুল তুলছেন কৃষকরা। খুচরো বাজারে পিঁয়াজ ভালো দামে বিক্রি হলেও কৃষকদের থেকে কেনার সময় ফঁড়ের দল খেয়ে নেয় লাভের বখরা। সরকার এদের নিয়ন্ত্রণ করে না। কোল্ড স্টোরেজগুলির অবস্থাও বেহাল।
এই অব্যবস্থার জন্য সর্বোপরি পিঁয়াজ নিয়ে সরকারের নীতিকে দাবি করছেন কৃষকরা। এক কৃষক বলেন, “কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে সরকার রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। ফলে অন্যান্য দেশগুলি আন্তর্জাতিক বাজারের দখল নেয়। সরকার পরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রাহক হারিয়েছি। দাম বেড়ে গেলে সরকার যদি রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে পারে, তাহলে বাজার ধস নামলে সরকারের উচিত ভালো দামে কৃষকের থেকে পিঁয়াজ কেনা? কিন্তু তা কখনও হয় না। যার জেরেই কৃষকদের এই দুরবস্থা।”
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক