Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
PM Modi

জেন জি পেরিয়ে জেন-আলফা-তেও নজর, মোদির নতুন টিমের ‘যুব ছক’

ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর আগেই ভোটারের মন বুঝতে চাইছে বিজেপি। তাই জেন জির সঙ্গে এ বার নজরে জেন আলফা।

নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ১৪:০৬

link
নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ১৪:০৬

options
link
জেন জি পেরিয়ে জেন-আলফা-তেও নজর, মোদির নতুন টিমের ‘যুব ছক’ zoom
দলের সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। শনিবার। নয়াদিল্লিতে। –পিটিআই
Advertisement

ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর আগেই ভোটারের মন বুঝতে চাইছে বিজেপি। তাই জেন জির সঙ্গে এ বার নজরে জেন আলফা। এক দিকে জেন জির বর্তমান ভোট, অন্য দিকে জেন-আলফার আগামী ভোট–দুই প্রজন্মকে একই রাজনৈতিক পরিসরে টানার প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। ২০২৭ সামনে, কিন্তু নরেন্দ্র মোদি-নীতীন নবীনের নজর ২০২৯-এর ভোটের বাক্সেও।

শনিবার দলের ৬৫ সদস্যের নতুন জাতীয় টিমের প্রথম বৈঠক, তার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ–দুই পর্ব মিলিয়ে বিজেপির নতুন রাজনৈতিক অঙ্ক স্পষ্ট। লক্ষ্য শুধু ২০২৭-এর ভোট নয়, ২০২৯-এর লোকসভা এবং তার পরের ভোটের প্রজন্মকেও এখন থেকেই দলের সঙ্গে সংযোগে আনা। নতুন সাংগঠনিক টিমের সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘সাংগঠনিক বৈঠক মানেই দলের শক্তি বাড়ানো এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও গভীর করার লক্ষ্যে নতুন ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির আদানপ্রদান। সহকর্মী এবং দলের নতুন সাংগঠনিক টিমের সঙ্গে দারুণ আলোচনা ও মতবিনিময় হল।’মোদির বার্তায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসংযোগে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। তাঁর ‘নতুন ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি’র উপর জোর তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে দলের যোগাযোগ আরও গভীর করার লক্ষ্যেই বিজেপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস–মোদির পোস্টে সেই রাজনৈতিক বার্তাই ফের সামনে এসেছে।

Advertisement

নতুন সাংগঠনিক টিমের সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘সাংগঠনিক বৈঠক মানেই দলের শক্তি বাড়ানো এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও গভীর করার লক্ষ্যে নতুন ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির আদানপ্রদান। সহকর্মী এবং দলের নতুন সাংগঠনিক টিমের সঙ্গে দারুণ আলোচনা ও মতবিনিময় হল।’

এদিকে সকালে নতুন টিমের সঙ্গে সভাপতি নীতিন নবীনের নেতৃত্বে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ১৪ থেকে ২৫ বছর বয়সিদের নিয়ে ‘যুব সংবাদ’ অভিযান চালানো হবে। তরুণদের কাছে বক্তৃতা নয়, বরং তাঁদের সঙ্গে মুখোমুখি কথোপকথন—প্রশ্ন শুনবে দল, সমস্যার কথা জানবে, বিজেপি নেতাদের সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগও থাকবে। এই উদ্যোগে নীতীন নবীন, স্মৃতি ইরানি, বিনোদ তাওড়ের পাশাপাশি হর্ষ সাংভি ও ওপি চৌধুরীর মতো নেতাদের রাখা হয়েছে। এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি হিসাব। ১৮-২৯ বছর বয়সি জেন-জি এখনই ভোটের ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ২০২৭-এ একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বহু আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান বা ফল যুব ভোটের সামান্য সরে যাওয়ায় উল্টে যেতে পারে। আর ১৪-১৭ বছরের জেন-আলফা! আজ তারা ভোটার নয়। কিন্তু ২০২৯-এ তাদের একাংশ প্রথম বার ভোট দেবে। অর্থাৎ, বিজেপি শুধু আগামী ভোটারের পিছনে ছুটছে না, তৈরি করতে চাইছে পরের ভোটারের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক।

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এই রাজনৈতিক পটভূমিও তৈরি করেছে। সোশাল মিডিয়া থেকে রাস্তায় নেমে তরুণদের দ্রুত সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা রাজনৈতিক দলগুলিকে নতুন করে ভাবিয়েছে। তাই দলের ‘যুব সংবাদ’-এর পাশাপাশি মোদি সরকারেরও বিশ্ববিদ্যালয়-সংযোগ কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলবেন, শুনবেন তাঁদের প্রশ্ন ও ক্ষোভ। দলের সংগঠন আর সরকারের প্রশাসন—দুই দিক থেকেই একই প্রজন্মকে ছোঁয়ার চেষ্টা। আর এই পুরো কৌশলের কেন্দ্রে মোদি। নতুন জাতীয় টিম ঘোষণার পরই তাঁর সঙ্গে দলের শীর্ষ সংগঠনের এই সাক্ষাৎকে তাই নিছক সৌজন্য বৈঠক হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। নতুন টিমকে সামনে রেখে বিজেপি যে আগামী দিনের সংগঠন ও ভোটের কৌশল সাজাতে চাইছে, সেখানে তরুণ প্রজন্মকে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ক্ষেত্র করা হচ্ছে।

পাশাপাশি, এদিন বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় টিমের বৈঠকেও ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মোদির জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এক মাস ধরে দেশজুড়ে এই কর্মসূচি চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর মোদির গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার ২৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখেই ‘সেবা পক্ষকাল’-এর পরিধি বাড়িয়ে এই অভিযান। এই কর্মসূচি সফল করতে কেন্দ্রীয় স্তরে নবীনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের কমিটি এবং রাজ্য স্তরে সাত সদস্যের কমিটি তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ‘সেবা সেতু অভিযান’-এর মাধ্যমে মোদি সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে এখনও বঞ্চিত যোগ্যদের চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.