জন্মলগ্ন থেকেই সাপে-নেউলে সম্পর্ক ভারত ও পাকিস্তানের। গত বছরও সরাসরি যুদ্ধে নেমেছিল দুই দেশ। কিন্তু চমকপ্রদ বিষয় হল, এহেন ‘ভিলেন’ পাকিস্তানই ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিল। তাও একবার নয়, দু’বার। প্রথমবার, জওহরলাল নেহরুর আমলে ও দ্বিতীয়বার, লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আমলে। কিন্তু কেন ‘শত্রু’ পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত?
সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেড শুধুমাত্র ভারতের সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, একইসঙ্গে ভারতের বিদেশনীতির কোন পথে এগোচ্ছে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় জমকালো এই অনুষ্ঠান। সেই অঙ্কেই ২০২৬ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসে এবার আমন্ত্রিত ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তনিও কোস্টা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন। বিশ্বজুড়ে শুল্কের খাঁড়া হাতে ট্রাম্পের দাপাদাপির মাঝে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসের মূল বার্তা। তবে সেবার ভারতীয় বিদেশনীতির মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক। সেই অঙ্কে পাকিস্তানের সঙ্গে শত্রুতা ছেড়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিল ভারত।
আরও পড়ুন:
সালটা ১৯৫৫। ভারত ভেঙে পাকিস্তান গঠন হওয়ার পর কাশ্মীর ইস্যুতে দুই দেশের সংঘাত তখন তুঙ্গে। কাশ্মীরের একটা বড় অংশ দখল করেছে পাকিস্তান। রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাশ্মীর ইস্যুতে অভিযোগ জানিয়েছে নেহরু সরকার। তবে সেই শত্রুতা মুছে ভারত চেয়েছিল প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সেইমতো রাজপথে (বর্তমান কর্তব্যপথ) প্রথম সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে ভারত প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তানকে। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দিল্লি আসেন পাকিস্তানের গভর্নর-জেনারেল মালিক গুলাম মহম্মদ। পূর্বে সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেড রাজপথে (বর্তমান কর্তব্যপথ) হত না। তা হত রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ইন্ডিয়া গেট পর্যন্ত। ১৯৫৫ সালে প্রথম সেই প্যারেড তৎকালীন রাজপথে অনুষ্ঠিত হয়।
এক দশক পর সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে দিল্লিতে। সালটা ১৯৬৫, দেশের প্রধানমন্ত্রী তখন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। এবারও সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় পাকিস্তানকে। পাকিস্তানের তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী রানা আব্দুল হামিদকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায় ভারত। স্বচ্ছন্দে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয় পাকিস্তান। ইসলামাবাদের তরফে বার্তা দেওয়া হয়, শত্রুতা নয়, প্রতিবেশী দুই দেশ বন্ধু হয়েই মিলেমিশে থাকবে। তবে কুকুরের লেজ পাকিস্তানকে বিশ্বাস বড় ভুল ছিল ভারতের।
সেই প্রতিশ্রুতির মাত্র ২ মাসের মধ্যেই ভারতের বিরুদ্ধে দাঁত-নখ বের করে প্রতিবেশী। পাক সেনার তরফে শুরু করা হয় অপারেশন ডেজার্ট হক। এপ্রিল মাসে গুজরাটের কচ্ছে হামলা চালায় পাকিস্তান। যোগ্য জবাব দিতেও কোনও খামতি রাখেনি ভারত। ভয়ংকর লড়াইয়ে নামে দুই দেশ। ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত নাকের জলে-চোখের জলে হয় পাকিস্তান। শেষপর্যন্ত ব্রিটিশ মধ্যস্থতায় ওই বছরের জুন মাসে থামে যুদ্ধ।
ইতিহাসের দিকে মুখ ঘোরালে দেখা যাবে, একবার নয় বহুবার পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছে ভারত। শুধু নেহরু বা লাল বাহাদুর শাস্ত্রী নন, কংগ্রেস জমানা পেরিয়ে অটলবিহারী বাজপেয়ি এমনকী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুরুতে পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সমস্যা হল আস্করার পেলেই মাথায় চড়েছে প্রতিবেশী দেশ। সন্ত্রাসবাদকে অস্ত্র করে বারবার হামলা চালানো হয়েছে ভারতের মাটিতে। এই পরিস্থিতিতে শেষপর্যন্ত দিল্লির বিদেশনীতির খাতায় চিরশত্রু হিসেবে ঠাঁই হয়েছে প্রতিবেশী দেশের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাতলার চরে বৃদ্ধাশ্রম! ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ককে নোটিস
-
ডেকে নিয়ে গিয়ে নাবালিকাকে আকণ্ঠ মদ্যপান, হোটেলে ‘গণধর্ষণ’! প্রশ্নের মুখে নির্যাতিতার বান্ধবীর ভূমিকা
-
সমুদ্রতটে ৭০০ ডলফিন ও তিমির লাশ! উৎসবের নামে নৃশংস হত্যালীলা, নিন্দায় সরব বিশ্ব
-
বিশ্বকাপ রুখতে ফুটবলারদের মূর্তি বিবস্ত্র করে প্রতিবাদ! শিক্ষকদের মার পুলিশের, উত্তপ্ত মেক্সিকো
-
বর্ষায় কীভাবে বাড়ি রক্ষা করবেন, জেনে নিন সহজ কৌশল