Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
Nepal

তুরস্ক-কাতারের টাকায় নেপালে সাম্প্রদায়িক অশান্তি! নেপথ্যে আইএসআই? তদন্তে এনআইডি

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯০ এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকে নেপালে আইএসআই-র ব্যাপক তৎপরতা ছিল।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ২০:১৮

link
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ২০:১৮

options
link
তুরস্ক-কাতারের টাকায় নেপালে সাম্প্রদায়িক অশান্তি! নেপথ্যে আইএসআই? তদন্তে এনআইডি zoom
ছবি এইআই দ্বারা নির্মিত।
Advertisement

নেপালে সাম্প্রদায়িক অশান্তির পিছনে কি পাক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-র ছক! ভারতের বিহার সীমান্তবর্তী এবং ভারত ও নেপালের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত পথ হিসেবে পরিচিত সুনসারি জেলার কাপ্তানগঞ্জে ২৬ জুলাই থেকে শুরু হয় গোষ্ঠী সংঘর্ষ। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, লাউডস্পিকার ও পতাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর নেপালের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (এনআইডি) সুনসারি জেলার সাম্প্রদায়িক অশান্তির ঘটনার তদন্তে নামে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরিতে বিদেশি অর্থ ও গোয়েন্দাদের জড়িত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এনআইডি। তদন্তকারীরা জানতে চেষ্টা করছেন পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারের সঙ্গে কোনও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নেপালে অর্থ পাঠানো হয়েছিল কি না!

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এনআইডি-র জমা দেওয়া প্রাথমিক রিপোর্টের একটা অংশ উল্লেখ করে সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে নেপালের ১ হাজার ৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্তকে নিরাপত্তার জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেপালের গোয়েন্দারা জেনেছেন, অশান্তি শুরুর আগে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ধর্মপ্রচারক মোহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমান দেওয়ানগঞ্জের একটি মসজিদে ছিলেন। কাঠমান্ডুর ইমাম মুফতি আবু বকর কাসমির সঙ্গে তিনি নেপালের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ান। নেপালের ইসলাম ধর্মপ্রচারকদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের কোনও যোগসূত্র অশান্তির পিছনে ছিল কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়াও অশান্তি শুরুর আগে ২০ জুলাই নয়জন বাংলাদেশি ধর্মীয় প্রচারক কুয়ালালামপুর হয়ে ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুতে এসেছিলেন। ৩০ দিনের পর্যটক ভিসায় আসা এই ব্যক্তিরা পরবর্তীতে ভারত-সংলগ্ন বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ান। তদন্তকারীরা তাদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। এছাড়াও দক্ষিণ নেপালের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন নেটওয়ার্ক, বিদেশি অর্থ এবং সীমান্ত-পারাপারের বিষয়গুলোতেও গোয়েন্দারা নজর রেখেছেন।

Advertisement

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এনআইডি-র জমা দেওয়া প্রাথমিক রিপোর্টের একটা অংশ উল্লেখ করে সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে নেপালের ১ হাজার ৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্তকে নিরাপত্তার জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির কাজকর্ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বলে রাখা প্রয়োজন, শ্রাবণ মাসে তীর্থযাত্রার অনুষ্ঠানের আগের রাতে একটি মাদ্রাসার কাছে শিবভক্ত তীর্থযাত্রীদের উপরে হামলার অভিযোগ নিয়ে সুনসারি জেলার কাপ্তানগঞ্জে ২৬ জুলাই ব্যাপক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এনআইডি স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মী নাসিম আনসারিকে চিহ্নিত করেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, হামলার আগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন এই নাসিম। শুধু তাই নয়, এনআইডি ঘুমান নামে এমন এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে বলেও জানা গিয়েছে। যিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ‘তাবলিগ জামাত’-এর একজন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে হরকত-উল-মুজাহিদিন, হরকত-উল-আনসার ও হিজবুল মুজাহিদিনের মতো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলেও খবর।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯০ এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকে নেপালে আইএসআই-র ব্যাপক তৎপরতা ছিল। ১৯৯৯ সালে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ভারত-বিরোধী কর্মকাণ্ডে নেপালের ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এনেছিল।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই সংগঠনগুলো ভারত-সহ আরও কয়েকটি দেশে নিষিদ্ধ। বিরাটনগর, রাউতাহাট, নেপালগঞ্জ ও কপিলবস্তু এলাকায় ঘুমানের যাতায়াত ছিল। কার্যত নেপালের সুনসারি জেলার কাপ্তানগঞ্জের ঘটনা ভারতকে লক্ষ্য করে আইএসআই-র ঘাঁটি হিসেবে নেপালকে ব্যবহারের উদ্বেগ ফের উস্কে দিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯০ এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকে নেপালে আইএসআই-র ব্যাপক তৎপরতা ছিল। ১৯৯৯ সালে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ভারত-বিরোধী কর্মকাণ্ডে নেপালের ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এনেছিল। ভারতীয় সংস্থাগুলো নেপাল-ভিত্তিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে আইএসআই-এর সঙ্গে সিম কার্ড সরবরাহ চক্রে জড়িত সন্দেহে ২০২৫ সালে দিল্লিতে নেপালি নাগরিক প্রভাত কুমার চৌরাসিয়াকে গ্রেপ্তারের ঘটনা। স্পর্শকাতর সামরিক নথিপত্র সহ আনসারুল মিঁয়া আনসারির গ্রেপ্তার এবং আইএসআই-র অস্ত্র চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নেপালে শেখ সেলিমকে আটক করার ঘটনা। 

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.