সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তালিবান তোষণে ‘নারী বিদ্বেষে’ অভিযুক্ত দিল্লি। এবার সরাসরি সব অভিযোগ অস্বীকার করল বিদেশমন্ত্রক। আফগান বিদেশমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে ‘তাদের কোনও হাত নেই’, জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। শনিবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছে, নয়াদিল্লিতে আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয়ে তাদের ‘কোনও ভূমিকা’ নেই। এই ঘটনা সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সাংবাদিক সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র তাঁরা পাঠায়নি। মুম্বইয়ে অবস্থিত আফগানিস্তানের কনসাল জেনারেল তাঁদের নির্বাচিত সাংবাদিকদের কাছে এই আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন। মুত্তাকির সফরের জন্য দিল্লিতে রয়েছেন কনসাল জেনারেল। বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে আফগান দূতাবাসের এলাকা ভারত সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত নয়।
দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সাংবাদিক বৈঠকে ঢুকতে দেওয়া হল না কোনও মহিলা সাংবাদিককে। এই ঘটনা সামনে আসতেই বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে। তালিবানের কট্টরপন্থাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন একাধিক মহিলা সাংবাদিক। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করার পাশাপাশি মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে সাংবাদিক নয়নিমা বসু এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘ভারত সরকারের নাকের ডগায়, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে আফগান বিদেশমন্ত্রী মুত্তাকি সাংবাদিক বৈঠক করলেন। সেখানে মহিলা সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হল না। এটা কীভাবে সম্ভব? মহিলা সাংবাদিকদের প্রতি এই জঘন্য আচরণের সিদ্ধান্ত কে অনুমোদন করেছে?’ ‘দ্য হিন্দু’র সাংবাদিক সুহাসিনী হায়দার লিখেছেন, ‘এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তালিবান তাদের দেশে মহিলাদের প্রতি ঘৃণ্য আচরণ করে, লিঙ্গ বৈষম্যকে মান্যতা দেয়। তাঁদের সেই চিন্তাধারাকে সরকার প্রটোকলের মাধ্যমে ভারতে জায়গা দিল। এই ঘটনাকে কোনও মেনে নেওয়া যায় না।’
আফগান বিদেশমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলাদের আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেছেন বিরোধী কংগ্রেস। ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্তর চেয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমাদের দেশের নারীরা দেশের মেরুদণ্ড এবং গর্ব। অথচ দেশের মাটিতেই ভারতের সবচেয়ে যোগ্য কিছু নারীর অপমান করা হয়েছে।’
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে কট্টর মৌলবাদী সরকার। সেখানকার মহিলারা একা রাস্তায় বেরোতে পারেন না। মেয়েদের স্কুল কিংবা উচ্চশিক্ষায় দাঁড়ি টানা হয়েছে। বাইরে কাজ করার অধিকার কেড়ে নিয়ে মহিলাদের গৃহবন্দি করা হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।
সর্বশেষ খবর
-
অমানিশার শেষ, টলিউডের ‘স্বরূপ’
-
খামেনেইয়ের কাছে বার্তা নিয়ে হাজির পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ইরানের সম্পত্তিতেই ক্ষতিপূরণের ভাবনা ট্রাম্পের
-
চাকরি দেওয়ার নামে কাটমানি! তৃণমূল সাংসদ ও বিধায়কের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ স্থানীয়দের
-
এবার কি প্রতীক হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূলের! বিরোধী দলের রাশ নিয়ে মামলা কাল, কৌশলী ঋতব্রত শিবিরও
-
পুরসভার বালতি চুরি! কাঠগড়ায় প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তারক সিংয়ের মেয়ে, ফুঁসছে এলাকাবাসী