Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Iran-Israel War

‘মাথার উপর দিয়ে মুহুর্মুহু মিসাইল ছুটছে’, যুদ্ধের মাঝে হরমুজে আটকে প্রাণভয়ে কাঁপছেন ভারতীয় নাবিক

গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে গুজরাটমুখী জাহাজটি আটকে আরবের মিনা সাকর বন্দরে। ভারতীয় নৌবাহিনীর সাহায্যের আশায় দিন গুনছেন জাহাজের ৩৩ জন ক্রু।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৪, ২০২৬, ১৯:৫৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৪, ২০২৬, ১৯:৫৫

options
link
‘মাথার উপর দিয়ে মুহুর্মুহু মিসাইল ছুটছে’, যুদ্ধের মাঝে হরমুজে আটকে প্রাণভয়ে কাঁপছেন ভারতীয় নাবিক zoom
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের মাঝে হরমুজ প্রণালীতে আটকে এলপিজি ভর্তি ভারতীয় জাহাজ।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের (Iran-Israel War) তেজ বাড়ছে ক্রমশ। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই পরিস্থিতি গুরুতর সংকটজনক হয়ে পড়ছে। বন্ধ পণ্য পরিবহণের প্রয়োজনীয় জলপথ, আকাশে মুহুর্মুহু ছুটে চলেছে মিসাইল। কখন কী হয়, কেউ জানে না। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বন্ধ হওয়া হরমুজ প্রণালীতে আটকে এখন দুরুদুরু বক্ষে কার্যত মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন নাবিকরা। তেমনই এক ভারতীয় জাহাজের ক্যাপ্টেন শোনালেন নিজের অভিজ্ঞতা। এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে ভর্তি জাহাজ নিয়ে কুয়েতের মিনা আল আহমাদি বন্দর থেকে গুজরাটের দীনদয়াল (পূর্বতন কাঁদলা বন্দর) বন্দরের দিকে আসছিল। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের মাঝে পড়ে গত ২ মার্চ থেকে আরবের মিনা সাকর বন্দরে আটকে পড়েছে ৩৩ জন ক্রু সদস্য-সহ। জাহাজের ক্যাপ্টেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা বীরেন্দ্র বিশ্বকর্মা। আটকে থাকা জাহাজ থেকে তিনি কাতর কণ্ঠে বলছেন, ”কবে যে নিস্তার পাব? কবে ভারতীয় নৌবাহিনী এসে উদ্ধার করবে?”

হরমুজ প্রণালীতে আটকে এলপিজি সিলিন্ডার ভর্তি জাহাজ। আটকে ৩৩ জন ক্রুও। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের জেরে সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে জ্বালানি ক্ষেত্রে। এই মুহূর্তে ঘরে ঘরে গ্যাসের সংকট। এমনই সময়ে কুয়েত থেকে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি জাহাজ আসছিল গুজরাটে। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারির রাতে ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিকেশ হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। সবার আগে বিশ্বের ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। ফলে গোটা বিশ্বে জ্বালানি তেল সরবরাহ থমকে যায়। গ্যাস, তেলের হাহাকার সর্বত্র। এই অবস্থায় হরমুজে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর অন্তর্গত মিনা সাকর বন্দরে এসে আটকে পড়েছে এলপিজি ভর্তি ভারতীয় জাহাজটি। ক্যাপ্টেন ছাড়াও ৩৩ জন ক্রু সদস্য রয়েছেন তাতে।

Advertisement

ক্যাপ্টেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা বীরেন্দ্র বিশ্বকর্মা জানাচ্ছেন, ”প্রতিদিনই দেখছি মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে মিসাইল, ড্রোন। সাইরেনের শব্দ শুনতে পাচ্ছি অহরহ। যে কোনও সময় যা খুশি ঘটে যেতে পারে, এই ভেবে আমরা সবাই খুব চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি। মনে মনে শুধু চাইছি, নৌবাহিনী এসে আমাদের জাহাজটাকে নিরাপদে এই জায়গা থেকে বের করে নিয়ে যাক।” শুধু তো প্রাণসংশয় নয়। এমন যু্দ্ধ পরিস্থিতিতে ভাঁড়ারেও টান পড়ছে। এই মুহূর্তে অবশ্য মাস দুয়েকের খাবার সঞ্চিত রয়েছে তাঁদের জাহাজে। বিশ্বকর্মা জানান, তাঁরা যে সংস্থার কর্মী, তারা ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে ঘনঘন যোগাযোগ করে উদ্ধারের রাস্তা খুঁজছে। কিন্তু ১০ দিনেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে, কোনও সুরাহা হয়নি। তাই চিন্তা বাড়ছে।

ক্যাপ্টেন বীরেন্দ্র বিশ্বকর্মা। ছবি: সংগৃহীত।

এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সাহায্য চেয়ে বিশ্বকর্মার পরিবার কেন্দ্রের দ্বারস্থ হয়েছে। স্ত্রী নিল্পা রহমান জানাচ্ছেন, স্বামীর জন্য চিন্তায় তিনি নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। প্রার্থনা করছেন যাতে স্বামী এবং জাহাজে আটকে থাকা সকলে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসেন। তাঁর কথায়, ”যখনই ইন্টারনেট সংযোগ পাচ্ছি, তখনই আমি আর আমার দুই সন্তান ওঁর সঙ্গে কথা বলছি। যখনই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, অপেক্ষা করছি আবার কখন কথা বলতে পারব।” সবমিলিয়ে,মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঘনঘটায় এখন ভবিষ্যৎ চিন্তায় কাঁটা হরমুজে আটকে পড়া জাহাজের নাবিক ও কর্মীরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.