সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শেখ হাসিনা উসকানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন ভারতে বসে। বাংলাদেশের নির্বাচন বানচালের প্ররোচনাও দিচ্ছেন। ঢাকার এই দাবি উড়িয়ে দিল নয়াদিল্লি। পালটা ভারত সরকার বিবৃতি দিল, প্রতিবেশী দেশের পরিপন্থী কোনও কাজে ভারতের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। এইসঙ্গে পদ্মাপাড়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে স্বাগত জানানো হয়।
শেখ হাসিনা ভারতে বসে উস্কানি দিচ্ছেন, রবিবার নতুন করে এই দাবি করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এই অভিযোগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকে তলব করে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক। এরপর একটি বিবৃতিও জারি করে। তারই পালটা বিবৃতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। সেখানে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে, “বাংলাদেশের বন্ধুবৎসল জনতার স্বার্থবিরোধী কোনও কাজে কখনই ভারতীয় ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার (বাংলাদেশের) অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষপ করবে।”
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই নিয়ে পাঁচ বার তলব করা হল ভারতীয় হাইকমিশনারকে। এ বার হাসিনা ছাড়াও হাইকমিশনারকে তলবের আরও একটি কারণ রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির উপর গুলি-হামলা চলেছে গত শুক্রবার। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তদন্তকারীদের অনুমান, দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। যদি তাই হয়, ভারত যাতে তাদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে, তার আর্জি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘‘এই ব্যক্তিরা আসন্ন নির্বাচন বানচাল করতে চাইছেন। এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ বন্ধ করতে ভারতের অবিলম্বে পদক্ষেপ কাম্য। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষায় নয়াদিল্লির দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।’’
জুলাই অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা গত ৫ আগস্ট ভারত চলে এসেছিলেন। পরে গণহত্যার মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার পর থেকেই নয়াদিল্লির কাছে হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। কিন্তু নয়াদিল্লি তাতে সাড়া দেয়নি। সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ স্থির হয়েছে। হাসিনাও তা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তার প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, ভারতে বসে হাসিনা যে ভাবে তাঁর সমর্থকদের নানা সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে আহ্বান জানিয়ে নিয়মিত উসকানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন, তা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। আসন্ন নির্বাচনের আগে এ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের। তাই এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
জমি কেলেঙ্কারি ও তোলাবাজির অভিযোগ! পুলিশের জালে তৃণমূলের আরও এক প্রাক্তন বিধায়ক
-
যুদ্ধের ধাক্কায় বেসামাল, ফুরিয়ে এসেছে অস্ত্র! এবার হার মানবে ইরান?
-
নবদ্বীপের ‘ত্রিপলচোর’ তৃণমূল চেয়ারম্যানের মামলাই লড়লেন না আইনজীবীরা! এজলাসের বাইরে ‘চোর’ স্লোগান, পড়ল ডিম
-
৬ ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি! রেলমন্ত্রীর বুলেট ট্রেন ঘোষণায় খুশির হাওয়া উত্তরে
-
রক্তারক্তি কাণ্ড! হাসপাতালে অশোক ভট্টাচার্য, কেমন আছেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা?