সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পর ৮ মে পাকিস্তানের পালটা হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্ত সেই সব মানুষকে সরকার সাহায্য করছে ঠিকই তবে তা নামমাত্র। পাক গোলায় কারও বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছে ক্ষতি হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকার সেখানে সরকারি সাহায্য মিলেছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ কাশ্মীরের বাসিন্দারা।
উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার বাসিন্দা মহম্মদ মকবুল খান। নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে কাছেই তাঁর বাড়ি। ৮ মে পাক হামলার জেরে ২৫-৩০ লক্ষ টাকার বাড়ি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতেই আমার ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা।” মকবুলের দাবি, “উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক ও পুলিশকর্তারা আমাদের গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। আমার বাড়ির ক্ষতি সামনে থেকে দেখে গিয়েছেন। তার পর এক ক্ষতিপূরণে আমি হতবাক। কী বলব বুঝতে পারছি না।”
উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা জেলার উরি সীমান্তবর্তী এলাকায় পাক মর্টার হামলায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে শতাধিক বাড়ি। নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে অবস্থিত সৈয়দ মুস্তাফার বোনের বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুস্তাফা বলেন, “বাড়ির জিনিসপত্রের পাশাপাশি বাড়িটির ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে। জানালার কাঁচ, দরজা ভেঙে গিয়েছে, দেওয়ালে বিরাট ফাটল দেখা গিয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা হলেও, বাড়ি পুনর্নির্মাণের সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে মাত্র সাড়ে ছয় হাজার টাকা। সরকার কী আমাদের সঙ্গে রসিকতা করছে?”

উরির সালামবাদ গ্রামে একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য বাড়ি। সুলতান নিয়াকের দুই ভাই তালিব হুসেন ও মহম্মদ ইউনুসের বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান আবদুল রশিদ বলেন, “আমাদের গ্রামে পাকা বাড়ি নির্মাণ অনেক ব্যয়বহুল। দোতলা বাড়ি নির্মাণ করতে ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা খরচ পড়ে। অথচ তালিব ও ইউনুসকে মাত্র ১.৩০ লক্ষ টাকা করে দিয়েছে সরকার। যে টাকা দেওয়া হচ্ছে তাতে বাড়ি নির্মাণ কোনওভাবেই সম্ভব নয়।” গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতিতে সরকার কাউকে ৬ হাজার তো কাউকে ১০ হাজার টাকা দিকে দায় সারছে। এই অবস্থায় গ্রামের বাসিন্দারা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। সরকারের উচিত পর্যাপ্ত সাহায্য করা। শুধু সাধারণ নাগরিকদের বাড়ি নয়, ৮ মে থেকে পাকিস্তানের লাগাতার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুঞ্চ ও রাজৌরির সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ৩১টি স্কুল। শুধুমাত্র পুঞ্চে ধ্বংস হয়েছে ২৩টি স্কুল। পাশাপাশি ৭টি সরকারি স্কুল ও একটি বেসরকারি স্কুল ধ্বংস হয়েছে। সরকারি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সীমান্তের গ্রামগুলিতে ক্ষতির পরিমাণ কিছু বেশি। ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করে সরকারের তরফে যতটা সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর
-
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মসনদে তামিম, কনিষ্ঠতম সভাপতি নির্বাচিত প্রাক্তন অধিনায়ক
-
বিশ্বনাথের শহরে মাছমাংস নয়, এবার বারাণসীর বাইরে আমিষের দোকান সরানোর প্রস্তাবে সিলমোহর!
-
পিৎজা ডেলিভারির ফাঁদ পেতে এলোপাথাড়ি গুলি! আমেরিকায় খুন হারদরাবাদের যুবক
-
বজ্রপাতের ‘হটস্পট’ হয়ে উঠছে উত্তরবঙ্গ! মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তেই চিন্তায় আবহাওয়াবিদরা
-
‘দলবিরোধী কাজে বিধায়ককেও রেওয়াত নয়’, সাফ বার্তা শমীকের, সাসপেন্ডেড ৩ বিজেপি নেতা