নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান রহস্যের তদন্তে ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিল ফরওয়ার্ড ব্লক। তাদের আর্জি, সরকার যেন মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট গ্রহণ করে। পাশাপাশি, জাপানের রেনকোজি মন্দির থেকে নেতাজির তথাকথিত ‘চিতাভস্ম’ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও বন্ধ করে।
বুধবার সর্বভারতীয় ফরওয়ার্ড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক জি. দেবরাজন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘কয়েক দশক অতিক্রান্ত হলেও নেতাজিকে নিয়ে এখনও রহস্য থেকে গিয়েছে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান নেতার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার অধিকার দেশের জনগণের রয়েছে। নেতাজির অন্তর্ধান এবং ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট কথিত বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ভারত সরকার ১৯৯৯ সালে মুখার্জি কমিশন গঠন করেছিল। জাপান, তাইওয়ান ও অন্যান্য দেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য, নথিপত্র, সাক্ষীদের বয়ান পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর কমিশন এই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, তাইহোকুতে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি। রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত চিতাভস্ম সুভাষচন্দ্রের নয়।’
আরও পড়ুন:
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, ‘নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে রেনকোজি মন্দিরের তথাকথিত চিতাভস্মের পরিচয় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত, সেটিকে ভারতে নিয়ে আসার সমস্ত প্রচেষ্টা চিরতরে বন্ধ করা হোক। সরকারের উচিত মুখার্জি কমিশনের সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেওয়া। প্রমাণের ভিত্তিতে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করাই এখন জরুরি।’ একইসঙ্গে তিনি দক্ষ তদন্তকারী, ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, অনেকেরই বিশ্বাস, ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট জাপানের একটি সেনাক্ষেত্রে (অধুনা তাইওয়ানের তাইহোকুতে) সামরিক মহড়া চলাকালীন বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় সুভাষচন্দ্রের। তাঁর ‘চিতাভস্ম’ বর্তমানে জাপানের রেনকোজির একটি বৌদ্ধ মন্দিরে রাখা রয়েছে। নেতাজিকন্যা অনিতা বসু পাফ বলেছিলেন, ‘‘দীর্ঘদিন নেতাজির পরিবারের অনেকেরও বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে ধন্দ ছিল। কিন্তু এখন ওই দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু নিয়ে বেশিরভাগ নথি এবং অন্তত ১১টি তদন্ত রিপোর্ট হাতে এসেছে। তাই তাইপেইয়ের বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু মেনে নেওয়াই উচিত।’’ ওই চিতাভস্ম যে সুভাষেরই, তা প্রমাণে ডিএনএ নমুনা দিয়ে সাহায্য করতে তাঁর অঙ্গীকারের কথাও বলেছিলেন অনিতা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পোঁতা হয়েছিল চারাগাছ, নীরবে স্বাধীনতার সাক্ষ্য বহন বাগনানের বৃক্ষত্রয়ীর
-
স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে শচীন-কোহলি, ‘কর্তব্য’ মনে করালেন গম্ভীর, কী বার্তা কলকাতার দুই প্রধানের?
-
পছন্দের চেয়ার না মেলায় ‘গোঁসা’ রাহুল-খাড়গের! এবারও এলেন না লালকেল্লায়
-
কলকাতার রাজপথের ক্যানভাসে ‘প্রতিবাদ আঁকলেন’ জয়া, অগ্নিমিত্রা-ঋতুপর্ণাদের সঙ্গে রাতদখলে আহসানও
-
রানার গ্রেপ্তারির পরই কোচবিহারে জালে ৩ পাক গুপ্তচর, বাংলার বুকে শিকড় ছড়িয়ে কত দূর?