দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের আন্দোলনে কুরুচিকর মন্তব্যের বন্যা হয়ে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি তাঁর মাকেও কু’কথা বলতে ছাড়েনি আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভের নামে পড়ুয়াদের অশ্লীল আচরণ, বিতর্কিত স্লোগান দেশজুড়ে সমালোচিত হয়। তবে দিল্লির সেই ভুল ঝাড়খণ্ডে করতে নারাজ পড়ুয়ারা। যার জেরে আন্দোলনে যোগ দেওয়া সকল পড়ুয়াদের উদ্দেশে ঝোলানো হল আচরণবিধি। যেখানে দেশভক্তির পাঠ দিয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিক্ষোভস্থল থেকে ধর্ম, রাজনীতি এবং জাতিগত মন্তব্য করা যাবে না। দেওয়া যাবে না ‘টুকরে-টুকরে’, ‘আজাদি’-র মতো স্লোগান।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় ভূরি ভূরি অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে। এই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। সরকারের কাছে মূলত ৩টি দাবি জানানো হয়। যেগুলি হল, ১. সিবিআই, ইডিকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত। ২. নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা না আসা পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল রাখতে হবে। ৩. পুরো ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে যোগ্য প্রার্থীদের বিচার দিতে হবে। ঘটনার প্রতিবাদে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে প্রতিবাদ শুরু করেছেন পড়ুয়ারা। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা সেই আন্দোলন সুপ্রিম কোর্টের পৌঁছনোর পর প্রতিবাদ ব্যাপক গতি পেয়েছে। এই আবহেই সামনে এল আন্দোলনের আচরণবিধি। যা সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
বিক্ষোভস্থল থেকে ধর্ম, রাজনীতি এবং জাতিগত মন্তব্য করা যাবে না। দেওয়া যাবে না ‘টুকরে-টুকরে’, ‘আজাদি’-র মতো স্লোগান।
সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আয়ুশি রঞ্জন ইন্সটাগ্রামে তুলে ধরেছেন সেই আচরণবিধি। আন্দোলনস্থল পরিদর্শনের সময় ভিডিওতে সেই ঘটনার ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি রাঁচির সেই স্টেডিয়ামে রয়েছি, যেখানে গত এক সপ্তাহ ধরে পড়ুয়ারা আন্দোলন করছেন। কিন্তু আমি আপনাদের একটি জিনিস দেখাতে চাই, তা হল এই আচরণবিধি। যা গোটা দেশকে অনুপ্রেরণা যোগাবে। আমি চাই গোটা দেশ এটা জানুক। কারণ, এই আচরণবিধি গোটা দেশে প্রতিবাদের এক মানদণ্ড স্থাপন করেছে।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘আচরণবিধির প্রথমে লেখা হয়েছে, এই মঞ্চের শুধুমাত্র সেই উদ্দেশে ব্যবহার হবে যে উদ্দেশে এতি তৈরি হয়েছে। কোনও দেশবিরোধী স্লোগান, কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য, জাতিগত মন্তব্য এই মঞ্চ থেকে দেওয়া হবে না।’
আরও লেখা হয়েছে, মঞ্চের ব্যবহার সেই উদ্দেশে করা হবে যে উদ্দেশে এটি তৈরি হয়েছে। যার জন্য পড়ুয়ারা অনশনে বসেছেন। আর সেটা হল জেপিএসসি এবং সিজিএল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস। এই মঞ্চ কোনওভাবেই কারণ বিরুদ্ধে কুৎসা করার জন্য নয়। কাউকে খারাপ কথা বা গালিগালাজ করার জন্য নয়। ফলে এই ধরনের আচরণ না করার অনুরোধ করা হয়েছে। আচরণবিধিতে আরও বলা হয়েছে, আপনার কথাবার্তা যেন অসাংবিধানিক না হয়। পড়ুয়াদের আন্দোলন যদি সারা দেশের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক সেটাই তারা চান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বন্যায় কাঁদছে অসম! এখনও ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষ, ১১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলমগ্ন, মৃত ১০০
-
পরমাণু চুক্তি নিয়ে সুর নরম, ইরান হরমুজে খুলে দিলেই নিষ্ফলা যুদ্ধে ইতি টানবেন ট্রাম্প!
-
মোটা মাইনের চাকরির টোপ দিয়ে কলকাতার যুবকদের উজবেকিস্তানে ‘পাচার’, তারপর…
-
রাজারহাটের অভিজাত আবাসনে পানীয় জলদূষণ! অসুস্থ বহু বাসিন্দা, তুমুল উত্তেজনা এলাকায়
-
অটো চালিয়ে অসুস্থকে বিনামূল্যে পৌঁছে দেন হাসপাতালে, ভাইরাল গভীর রাতের ‘শেরনি’