দেশপ্রেম কোনও চামচে গুলিয়ে খাওয়ানোর বিষয় নয়। সেই বোধ একেবারে শৈশব থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাগ্রত হয় দেশবাসীর মনে। সেই চিরসত্য আবার প্রতিফলিত হল অরুণাচল প্রদেশের চার বছরের এক খুদের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে। আধো আধো বুলিতে সে বারবার বলে চলেছে, ”চাইনিজ বলবেন না, খুব দুঃখ হয়। আমি ভারতীয়। আমাকে ভারতীয় বলুন।” মাত্র ২৭ সেকেন্ডের সেই ভিডিও একেবারে বিদ্যুতের গতিতে ভাইরাল। অরুণাচলে চিন যতই দখলদারির চেষ্টা করুক, এনিয়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা যতই থাক, ৪ বছরের কার্গা টিংকেল গঙ্গো ‘চাইনিজ’ তকমা পাওয়ার যন্ত্রণা আর ‘ভারতীয়’ পরিচয় বহনের আনন্দ ছাপিয়ে গিয়েছে সবকিছুকে। তার কথা শুনে চোখের জল সামলাতে পারছেন না নেটিজেনরা।
২৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করে তার মা। তাতে টিংকেল বারবার বলছে, ‘‘আমাকে চাইনিজ বলবেন না। খুব দুঃখ হয় শুনলে। আমি ভারতীয়, আমাকে ভারতীয় বলুন। দয়া করে চাইনিজ বলে মনে দুঃখ দেবেন না।”
আরও পড়ুন:
কিন্তু কেন টিংকেলের হঠাৎ এমন কাতর আর্জি? উত্তর-পূর্বের কমবয়সি ছেলেমেয়েদের ভারতে বিভিন্ন প্রদেশে বিশেষত রাজধানী দিল্লিতে নানাভাবে হেনস্তার অভিযোগ নতুন নয়। তাঁদের দেখতে অনেকটা মঙ্গোলিয়ানদের মত, যা চিনা বা জাপানিদের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। সেই ‘লুক’ দেখে ছাত্রছাত্রীদের ‘চাইনিজ’ বলে কটাক্ষ করা হয়। এনিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের পড়ুয়াদের মধ্যে বেশ আক্ষেপ আছে। তাঁরা বারবার বলতে চায়, ‘‘আমরাও আপনাদের মতোই ভারতীয়, শুধুমাত্র দেখতে আলাদা বলে আমাদের ভিনদেশি বলবেন না দয়া করে।” টিংকেলও প্রায় তেমন পরিস্থিতিতে পড়েছে অজান্তে। তাঁর মা নার্স, বাবা পুলিশে চাকরি করেন। ছোট্ট, স্মার্ট মেয়েকে নিয়ে প্রায়ই টিংকেলের মা রিল করেন। সম্প্রতি মেয়ের আইসক্রিম বানানো ও খাওয়া নিয়ে একটি রিল পোস্ট করেছিলেন তিনি। তার নিচে জনৈক নেটিজেন মন্তব্য করেন, ‘চাইনিজ মেয়ে এত ভালো হিন্দি বলছে কীভাবে!’
চার বছরের খুদে জানিয়েছে, সে ভারতীয় বলেই নিজেকে জানে। ভারত তার দেশ।ভারতের মানুষ তার আপনজন। ভবিষ্যতের সে ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষকে বাঁচাতে চায়। পরে আরও একটি ভিডিও করে টিংকেল জানায় যে এখন তাকে আর কেউ চাইনিজ বলে না, এখন সে পুরোদস্তুর ভারতীয়। তাই খুব আনন্দিত।
এই মন্তব্য তো টিংকেল পড়তে পারেনি। তার মায়ের চোখে পড়ে। তিনি মেয়েকে জানান, একজন আঙ্কেল তাকে ‘চাইনিজ’ বলেছেন। টিংকেল কি তাঁকে কিছু বলবে? তা শুনে নাকি কেঁদে আকূল মেয়ে! জানায়, সে অবশ্যই ওই আঙ্কেলকে বুঝিয়ে বলতে চায় যে সে ভারতীয়, অন্য কিছু বললে তার দুঃখ হয়। মেয়ের এই আবদারে পরে ২৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করে তার মা। তাতে টিংকেল বারবার বলছে, ‘‘আমাকে চাইনিজ বলবেন না। খুব দুঃখ হয় শুনলে। আমি ভারতীয়, আমাকে ভারতীয় বলুন। দয়া করে চাইনিজ বলে মনে দুঃখ দেবেন না।”
এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর টিংকেলের আলাদা সাক্ষাৎকারের জন্য বহু সংবাদমাধ্যম ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এক নামী সাংবাদিককে চার বছরের খুদে জানিয়েছে, সে ভারতীয় বলেই নিজেকে জানে। ভারত তার দেশ।ভারতের মানুষ তার আপনজন। ভবিষ্যতের সে ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষকে বাঁচাতে চায়। পরে আরও একটি ভিডিও করে টিংকেল জানায় যে এখন তাকে আর কেউ চাইনিজ বলে না, এখন সে পুরোদস্তুর ভারতীয়। তাই খুব আনন্দিত। এ যদি দেশপ্রেম না হয়, তাহলে আর কোনটাই বা? স্বাধীনতার মাসে অরুণাচলের ওই খুদেই যেন স্বাধীনতার আসল প্রতিমূর্তি হয়ে এল গোটা দেশের কাছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রোগী ভর্তির পর ৭২ ঘণ্টা প্রাইভেট প্র্যাকটিস না, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য জারি কড়া নির্দেশিকা!
-
৭ দিনের ডেডলাইন! ধর্মতলার বিধান মার্কেট সরিয়ে জোকা লাইনের মেট্রোর কাজ শুরুর নির্দেশ হাই কোর্টের
-
এসএসসি চাকরি ‘বিক্রি’তে কোন পদের জন্য কত লক্ষ টাকা? পার্থ-অর্পিতার বিরুদ্ধে চার্জশিট ইডির
-
বরানগর-বারাকপুর মেট্রো পিঙ্ক লাইনের ছাড়পত্র দিল কলকাতা পুরসভা, অভিনন্দন শুভেন্দুর
-
ইরানের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা! ‘তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন, না হলে…’, বিশ্বনেতাদের হুমকি আমেরিকার