মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে পাহাড় থেকে লাফিয়ে তরুণের আত্মহননের ঘটনায় শিহরিত দেশ। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলেটির মা-বাবাও নিচে পড়ে যান। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যুতে স্তম্ভিত সকলে। জানা যাচ্ছে, এর নেপথ্যে নাকি রয়েছে একটি আইফোন। এবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। তবে এবার ঘটনাস্থল দিল্লি। যমুনা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা এক যুবকের। এক্ষেত্রেও নেপথ্যে সেই আইফোনের তত্ত্ব সামনে আসছে। জানা গিয়েছে, আইফোনের ইএমআই ওই যুবক দিতে পারেননি। আর সেই কারণেই নদীতে ঝাঁপ দিতে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও অল্পের জন্য ওই যুবক বেঁচে যান। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ওই পুলিশকে।
ওই যুবকের নাম দীপক কুমার। তিনি দিল্লির ওখলার বাসিন্দা। বাড়িতে স্ত্রী এবং দুই সন্তান রয়েছে। বাড়িতে নাচ শিখিয়েই চলে সংসার। কিন্তু তাতে ঠিকভাবে চলে না সংসার। অবসর সময়ে বাগানে মালির কাজ করতে হয় তাঁকে। সখ করে একটা আইফোন কিনেছিলেন দীপক। এএমআইয়ে সেই ফোন কেনেন তিনি। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে দীপক পুলিশকে জানান, বেশ কিছুমাস ধরে রোজগার এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে আসে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে আইফোনের ইএমআই দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। যা নিয়ে ক্রমশ চাপ বাড়ছিল। বারবার ব্যাঙ্কের ফোনে বাড়ছিল মানসিক চাপ। তা থেকে রেহাই পেতেই দীপক নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। কিন্তু বরাত জোরে বেঁচে যান তিনি।
আরও পড়ুন:
বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগে মহারাষ্ট্রের একটি ঘটনা সামনে এসেছে। আইফোন কিনতে চেয়ে পাহাড়চূড়ায় উঠেছিলেন ১৯ বছরের এক যুবক। কুণাল চাঁদওয়াড়ে নামের ১৯ বছরের তরুণটি মা-বাবার কাছে আইফোন কিনে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ির লোক রাজি না হওয়াতেই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পৌঁছে যান ওয়ালুজ এমআইডিসি এলাকার একটি পাহাড়ে। ছেলের পিছু পিছু সেখানে হাজির হন তাঁর মা-বাবাও। কুণাল একেবারে পাহাড়ের কিনারে দাঁড়িয়ে পড়েন। কেবল তাঁর মা-বাবাই নয়, আশপাশের অনেকেই জড়ো হয়ে আবেদন করতে থাকেন সরে আসার জন্য। এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় যাদব চেঁচিয়ে তাঁর উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘‘একবার মায়ের কথা ভাবো।” এমনকী, নিজের আইফোনটিও তাঁকে দিয়ে দিতে চান তিনি। কিন্তু কুণাল মাথা নেড়ে বলতে থাকেন, ”আর কোনও সমাধান নেই। একটাই সমাধান।”
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছেলের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন বাবা। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কুণালকে হাত ধরে নিজের কাছে অর্থাৎ নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসার। কিন্তু তিনি কাছাকাছি পৌঁছতেই পাহাড় থেকে দ্রুত লাফ দেন কুণাল। সঞ্জয় যাদব এখনও ভুলতে পারছেন না সেই মুহূর্তের ভয়াবহতা, ”আমাদের ধারণা ছিল ছেলেটির বাবা ওকে ঠিকই ফিরিয়ে আনবে। নিরাপদে টেনে আনবে ছেলেটিকে। কিন্তু ধরতে যেতেই ও লাফ দিল। দু’জনই নিচে পড়ল।” ঘটনার পরই খাদ থেকে তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল।
সর্বশেষ খবর
-
আগুনের গ্রাসে শিশুপ্রাণ! মহারাষ্ট্রে সরকারি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড, মৃত অন্তত ৩ সদ্যোজাত
-
‘মস্তানি’ দেখিয়ে ডুরান্ড জয়, তারপরই সৌরভের ফোন দেবব্রতকে, হাবাসকে আনার নেপথ্যে কি ‘দাদা’র বুদ্ধি?
-
১০ দিন পরেও বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি হয়নি, আসন পুনর্বিন্যাস বিলে মোদি সরকারের নয়া কৌশল?
-
উত্তম-সুচিত্রার সিনেমা দেখার নেশা, বাংলায় সুযোগের অপেক্ষায় সৃজিত-কৌশিক ভক্ত অমৃতা
-
ভোররাতে ফের জতুগৃহ কলকাতা! যশোর রোডে কারখানায় পুড়ে ছাই ২২ গাড়ি