সিবিএসই ইস্যুতে এখনও নীরব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই নীরবতা কেবল উদাসীনতা নয়, তা অপরাধের সহযোগিতা করা। এমনই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর দাবি, যা হয়েছে তা জালিয়াতি। এবং এর শিকার সাড়ে ১৮ লক্ষ পড়ুয়া।
এক্স হ্যান্ডলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘সিবিএসই-র মে ২০২৫-এর টেন্ডারে শর্ত ছিল যে, উত্তরপত্রগুলো স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করতে হবে—যাতে খাতার বাঁধাই বা ‘স্পাইন’ অক্ষত থাকে—এবং স্ক্যানিংয়ের রেজোলিউশন হতে হবে ন্যূনতম ৩০০ ডিপিআই। আগস্ট মাসে যখন টেন্ডার পুনরায় জারি করা হল, তখন নিঃশব্দে সেই সব শর্তই বাদ দিয়ে দেওয়া হল। ‘স্ক্যানার’-এর বিষয়টি হয়ে উঠল সাধারণ বা অনির্দিষ্ট। রেজোলিউশন কমিয়ে নামিয়ে আনা হল ২০০ DPI-তে। আমরা বুঝতে পারছি, বাস্তবে এর অর্থ কী দাঁড়িয়েছে। এখন ফাঁস হয়ে গিয়েছে ‘COEMPT’ সংস্থাটি উত্তরপত্রগুলি স্ক্যান করার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছিল। সেই ঝাপসা কপিগুলি, হারিয়ে যাওয়া পৃষ্ঠাগুলি, স্ক্যান না করা উত্তরপত্রগুলো— এগুলি কোনও ‘ভুল’ নয়। এগুলি এমন একটি চুক্তিরই অনিবার্য পরিণতি, যা সাজানো হয়েছিল কোনও নির্দিষ্ট ঠিকাদার বা বিক্রেতার সুবিধার্থে। এটা জালিয়াতি। আর যে সাড়ে ১৮ লক্ষ পড়ুয়ার উত্তরপত্র ভুলভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই এই জালিয়াতির শিকার।’
আরও পড়ুন:
আর সেই সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তোপ দেগে তিনি জানাচ্ছেন, ‘আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী আম নিয়ে কথা বলার সময় পেয়েছেন। অথচ সাড়ে ১৮ লক্ষ নাবালকের বিষয়ে কথা বলার সময় তিনি পাননি, যাদের উত্তরপত্রগুলি মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যান করা হয়েছিল। ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনও তাঁর পদে বহাল আছেন। মোদির এই নীরবতা এখন আর কেবল উদাসীনতা নয়, তা এখন অপরাধের সহযোগিতা।’ প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’-এ বাংলার হিমসাগর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। রাজ্য ধরে ধরে নাম করে মোদি যেমন তুলে ধরলেন সেখানকার বিখ্যাত আমের নাম, তেমনই ভূয়সী প্রশংসা করলেন দেশের আমচাষিদের। জানালেন, ভারতের আমের ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিচ্ছেন কৃষকরা। আর সেই চর্চাতেই গোটা পর্বটি হয়ে উঠল ‘আম’-ময়।
উল্লেখ্য, সিবিএসই-র প্রশ্নফাঁস নিয়ে বৃহস্পতিবার মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বীকার করেছেন, “ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থায় কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ত্রুটি সামনে এসেছে এবং তা সংশোধনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই নিয়ে আইআইটি মাদ্রাজ এবং আইআইটি কানপুর কাজ শুরু করেছে।” সিবিএসই নিজেও ভুল স্বীকার করে নিয়েছে। পদ্ধতিগত ভুল যে ছিল সেটাও মেনে শুধরে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে ওই সংস্থা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সোশাল মিডিয়ায় আলাপ, ভিনরাজ্যে ‘ধর্ষণে’র শিকার বঙ্গকন্যা, প্রভাব খাটিয়ে জেলমুক্ত যুবক!
-
কঠিন সময়ে অলকাকে বিশেষ বার্তা শানু ও শানের, কী বললেন তাঁরা?
-
ভারতে ঢুকেছিল তিনটি পাকিস্তানি বিমান, এয়ার ইন্ডিয়া বিপত্তির এক সপ্তাহ আগে
-
সারান্ডায় তাড়া খেয়ে বাংলামুখী, ১৪ বছর পর ‘ঘরে’ই আশ্রয় নাকি আত্মসমর্পণ মাওবাদী আকাশের?
-
তারাতলার গুদাম নির্মাণে ‘কুখ্যাত’ আসগর, বিপর্যয়ের বহু আগেই বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল বাম কর্মী ইউনিয়ন