বিশ্বজুড়ে অচলাবস্থা, অর্থনৈতিক ঝুঁকি, সীমান্ত সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ভারত। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ এখন আর সীমান্তে নয়, বরং দেশের অন্দরে। এই যুদ্ধ ন্যারেটিভ, অ্যালগোরিদম, সাইকোলজিক্যাল ম্যানুপুলেশনের। যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ভারতের যুবসমাজ। যেমনটা দেখা গিয়েছে নেপাল, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কাতে। ভারতের গা ঘেঁষে থাকা প্রতিবেশী দেশগুলিতে কখনও দুর্নীতি, অর্থনীতি এবং অপশাসনের অভিযোগে যুব সমাজের ক্ষোভ উপড়ে ফেলেছে সেখানকার সরকারকে। যার নাম দেওয়া হয়েছে জেন-জির বিদ্রোহ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছবিটা কার্যত এক। কোনও একটি ইস্যুকে হাতিয়ার করে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে চড়ানো হয়েছে ন্যারেটিভ। এরপর হঠাৎ আছড়ে পড়েছে বিশাল জনরোষ। শাসক কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবকিছু চলে গিয়েছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পরিণতি ভয়ংকর অরাজকতা, হিংসা ও কিছু সুবিধাভোগীর ফায়দা। ডিপস্টেটের অদৃশ্য কারসাজিতে তৃতীয় বিশ্বে বহু দেশে সরকার বদলের এই ভয়াবহ ছবিটা নতুন নয়। ভারতের মাটিতে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party) বা আরশোলা পার্টির আড়ালে সেই ডিপ স্টেটেরই ফাঁদ দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এক বয়ান। যেখানে তিনি বেকার ছেলেমেয়েদের ‘আরশোলা’, ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন বলে অভিযোগ। এই ‘আরশোলা’ মন্তব্যকে হাতিয়ার করে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হল এক ন্যারেটিভ। সকলকে চমকে দিয়ে ইন্টারনেটে জন্ম নিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। অল্প দিনেই তার জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁল। জুটে গেল লক্ষ লক্ষ সমর্থক। মুহূর্তের মধ্যে যার ফলোয়ার্স ছাপিয়ে গেল দেশের শাসকদল বিজেপিকে। এখন প্রশ্ন হল, বিশ্বের ইতিহাসে কোথাও এমন ছোট্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এত বিশাল মুভমেন্ট দেখা গিয়েছে? না দেখা যায়নি। ফলে মনে করা হচ্ছে, এর নেপথ্যে রয়েছে ন্যারেটিভ ছড়ানোর এক বিরাট চক্র। এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে চলেছে কটাক্ষের বন্যা। সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে, ‘দেশের গণতন্ত্র ঝুঁকির মুখে’। দেশের অন্দরে ভারত বিরোধী ‘ডিজিটাল ইকোসিস্টেম’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যারা দেশের অন্দরে শুরু করেছে বিজেপি বিরোধী ও মোদি বিরোধী প্রচার। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মতো নেতৃত্বরা সেই আগুনে হাওয়া দিতে শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে জেন-জির আড়ালে তৈরি হচ্ছে সরকার বিরোধী, ভারত বিরোধী এক বিরাট শত্রুপক্ষ।
আরও পড়ুন:
ডিপস্টেটের অদৃশ্য কারসাজিতে তৃতীয় বিশ্বে বহু দেশে সরকার বদলের এই ভয়াবহ ছবিটা নতুন নয়। ভারতের মাটিতে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা আরশোলা পার্টির আড়ালে সেই ডিপ স্টেটেরই ফাঁদ দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
কিন্তু প্রশ্ন হল, এই বিরাট কর্মযজ্ঞের মূল হোতা কে? ইনি অভিজিৎ দীপক নামে এক যুবক। যিনি আম আদমি পার্টির সোশাল মিডিয়া টিমের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২ বছর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের টিমে কাজ করেছেন এবং ৩ বছর কাজ করেছেন মনীশ সিসোদিয়ার কোর টিমে। মনে করা হচ্ছে, এটা কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। এর নেপথ্যে বিরাট চক্রের যুক্ত থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাচ্ছেন দেশের গোয়েন্দারা। এবং দেশের প্রভাবশালী তালিকায় থাকা বড় বড় মাথাদের তরফে এই আরশোলাদের সঙ্গ দেওয়া এবং তাদের হয়ে প্রচারে নেমে পড়ার ঘটনাকে আরও বেশি অবাক করে দেয়।
অদ্ভুত বিষয় হল, আরশোলা মাঠে নামার সময় তাদের ভিত্তি ছিল নিট প্রশ্নফাঁস, দেশের অর্থনীতির উন্নতি, মূল্যবৃদ্ধি থামানো, বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার সংশোধন। কিন্তু তা নিয়ে এদের বিশেষ তৎপরতা চোখে পড়েনি। বরং তারা প্রচারে নেমে পড়ে জনপ্রিয়তার শাসকদলকে বিজেপিকে পিছনে ফেলে দেওয়ার। অর্থাৎ এই আরশোলা যেন নেমেছে ডিজিটাল লড়াইয়ে। ঠিক সেটাই বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। ডিপস্টেট চক্র ও রেজিম চেঞ্জের বরাবরের ধাঁচ ঠিক এটাই। প্রথমে যুবসমাজের হতাশাকে হাতিয়ার করো, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুনে হাওয়া দাও, সরকার বিরোধী এক বিরাট ‘মানব অস্ত্র’ তৈরি করে সরকার উপড়ে ফেলো। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছে, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কাতে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, রাজনৈতিকভাবে দেশ যতক্ষণ স্থিতিশীল, অর্থনৈতিক অগ্রগতি জারি রয়েছে ততদিন বাইরের শত্রু দ্বারা দেশের কোনও বিপদ নেই। বিপদ যদি থাকে তবে তা ঘরের শত্রুর দ্বারা। ঠিক সেই আগুনের ফুলকিই হল এই ককরোচ পার্টি। যুবসমাজকে খেপিয়ে দিতে যার মাথার উপর অদৃশ্য হাত রয়েছে ডিপস্টেটের। এখনও পর্যন্ত আরশোলার গতিবিধি ও অতীতের ধারা সেদিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বদলার ম্যাচে নিষ্ফলা মরক্কো, এমবাপে-দেম্বেলে জোড়া ফলায় সেমিফাইনালে ফ্রান্স
-
বিশ্বজয়ের পাঁচ মাসেই পথ হারাল টিম ইন্ডিয়া! আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের কাছেও সিরিজ হার শ্রেয়সদের
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের
-
খেয়াল রাখতে হবে অভিযোগকারিণীর মানসিক দিকটিও, লালবাজারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ১৮৩ মহিলা পুলিশকে