সম্পত্তির অধিকার প্রসঙ্গে বুধবার বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এক মামলায় এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায় বাতিল করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, প্রবীণ নাগরিকরা চাইলে নিজেদের সম্পত্তি থেকে সন্তানদের উচ্ছেদ করতে পারেন। আদালতের মতে, প্রত্যেক ব্যক্তির সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। বার্ধক্য নিরাপত্তাহীনতা ও অপমানের কারণ হতে পারে না।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালের ৫ জুন। পুত্র ও পুত্রবধূর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁদের বাড়িছাড়া করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটে মামলা দায়ের করেছিলেন লখনউয়ের বাসিন্দা রবিকান্ত গুপ্ত। সন্তানদের জন্য ওই দম্পতি নিজের বাড়ি ছেড়ে বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে বাধ্য হচ্ছিলেন। ২০২২ সালের ১৫ই নভেম্বর এসডিএম ছেলেকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেয়। ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও সেই নির্দেশ বহাল রেখে পুত্র ও পুত্রবধূকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেয়। তবে এসডিএম ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাই কোর্টে আবেদন করেন ওই বৃদ্ধের পুত্র।
আরও পড়ুন:
২০০৭ সালের আইনকে হাতিয়ার করে হাই কোর্ট জানায়, বয়োজ্যেষ্ঠরা চাইলেই সন্তানদের সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করতে পারেন না। অতীতের নির্দেশ বাতিল করে পুত্র ও পুত্রবধূকে বাড়ি ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ২০০৭ সালের আইনকে হাতিয়ার করে হাই কোর্ট জানায়, বয়োজ্যেষ্ঠরা চাইলেই সন্তানদের সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করতে পারেন না। অতীতের নির্দেশ বাতিল করে পুত্র ও পুত্রবধূকে বাড়ি ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে হাল ছাড়েননি বৃদ্ধ। হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। বুধবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি পিএস নরসিংহ ও অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওই আইনের লক্ষ্য হল প্রবীণদের মর্যাদা, সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একটি সভ্য সমাজের মানদণ্ড এর উপরেই নির্ভরশীল। এরপরই আদালত জানায়, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করে হাইকোর্ট ভুল করেছে। ভরণপোষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজন মনে করলে ট্রাইব্যুনাল উচ্ছেদের নির্দেশ দিতে পারে। আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালগুলোরও রয়েছে। প্রবীণ ব্যক্তি যদি চান তাহলে তিনি তাঁর সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বেদখল করতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের আইন অনুযায়ী প্রবীণদের যে অধিকার দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, প্রয়োজনে বাবা-মা সন্তানের থেকে খাবার, পোশাক, ঘর ও চিকিৎসার খরচ চাইতে পারবে। প্রবীণ ব্যক্তি নিচে বা অন্য কারও দ্বারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। নিরাপত্তা ও ভরণ-পোষণের জন্য প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনাল সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বেদখল করতে পারবে। ভরণ-পোষণের শর্ত পূরণ না হলে সম্পত্তি হস্তান্তর রদ করা যাবে। শুধু তাই নয়, সন্তান যদি বাবা-মাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে যান সেক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত বিক্রি! এক সপ্তাহে তদন্ত শেষের নির্দেশ হাই কোর্টের
-
শোভনের হাতে পায়েস মুখ, সোহিনীর সাধভক্ষণে কী ছিল মেনুতে?
-
অন্নপূর্ণার আবেদন ‘আন্ডার প্রসেস’, বাতিল হবে না তো? জেনে নিন এই সময়ে কী করণীয়
-
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যই মূল, ঢেলে সাজানো হচ্ছে শিয়ালদহ-বহরমপুর ডিভিশন
-
সোশাল মিডিয়ার ‘পরীক্ষা’য় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের রিপোর্ট কার্ড, ‘ফ্রেন্ডস’ ভিডিও ডিলিটেও ফার্স্ট বয় মোদি!