নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: বাংলায় ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে এবার কৌশল বদলাতে চলেছে বিজেপি। তাদের ভাবনায় ‘মহাজোট’। ৪০টি আসন ছেড়ে নজর ২৫০টিতে। একলা চলো নয়, প্রয়োজন হলে পরোক্ষ জোট। সূত্রের খবর, আগামী বিধানসভা ভোটে প্রায় ৪০টি আসনে সরাসরি লড়াইয়ে না নেমে, বাকি ২৫০টির বেশি আসনে সর্বশক্তি দিয়ে নামার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়েছে গেরুয়া শিবিরে।
এই ৪০টি আসনের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চল মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও দুই ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রগুলিতে বিজেপির সংগঠন কার্যত দুর্বল। সূত্রের খবর, দলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছে, এইসব এলাকায় সরাসরি লড়াইয়ে নামলে ভোট ভাগ হবে। তাতে লাভ হবে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসেরই। সংখ্যালঘু ভোটে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা এখনও সীমিত। রাজ্যের সংখ্যালঘুরা গত কয়েকটি ভোটে একচেটিয়া তৃণমূলকেই ভোট দিয়েছেন। তাই ৪০টি আসনে সরাসরি সংঘাতের রাস্তায় না হেঁটে ঘুরপথে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে চাইছে বিজেপি।
সেকারণে নতুন ছক। এই আসনগুলিতে বিজেপি প্রার্থী দিলেও প্রচার থাকবে নামমাত্র, কোথাও আবার প্রার্থী না দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বদলে তৃণমূল-বিরোধী শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিজেপি সূত্রের খবর, বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ কিংবা আঞ্চলিক দল-যে শক্তিই তৃণমূলকে চাপে ফেলতে সক্ষম, তাদের প্রতি পরোক্ষ সমর্থনের সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বও। লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলের গড় ভাঙা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কার্যত নামহীন মহাজোট। প্রকাশ্যে বিরোধিতা কিন্তু ভিতরে ভিতরে ভোট ভাগের অঙ্ককে নিশ্চিত করা। বিজেপির হিসাব, এই ৪০টি আসন বাদ দিলে বাকি প্রায় ২৫০টি কেন্দ্রে মূল লড়াই হবে দ্বিমুখী-বিজেপি বনাম তৃণমূল। আর তাতে লড়াইতে নামতে সুবিধা হবে বিজেপির।
সেখানেই সর্বশক্তি ঢালতে চাইছে তারা।
সব মিলিয়ে বিজেপির রণনীতি পরিষ্কার, সব আসনে সম্মুখসমর নয়, প্রয়োজনমতো যুদ্ধক্ষেত্র বাছাই। কোথাও সরাসরি, কোথাও পরোক্ষে। এবার বিজেপির লক্ষ্য শুধু আসন বাড়ানো নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে ফেলা। প্রয়োজনে সরাসরি নয়, পিছনের দরজা দিয়েই। এদিকে বঙ্গ বিজেপির সংগঠন স্তরেও বড়সড় রদবদলের প্রস্তুতি চলছে। বিজেপি সূত্রের খবর, চলতি জানুয়ারি মাসে মকর সংক্রান্তি পার হলেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বর্তমান কার্যকরী সভাপতি নীতিন নবীন। দায়িত্বভার গ্রহণ করেই বাংলা সফরে যাবেন তিনি। চলতি জানুয়ারি মাসের শেষদিকেই নীতিনের বঙ্গ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগেই কমিটি তৈরির পর্ব মিটিয়ে ফেলতে হবে বলেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
ঠিকভাবে উল্লেখ নেই রাস্তার নাম! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে ৭ দফা আপত্তি সিপিএমের
-
হাসপাতালে থাকতে নারাজ বিমান বসু, ফিরতে চাইছেন কলকাতায়! কবে ছুটি?
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে মাস্টার প্ল্যান রাজ্যের
-
আচমকা মস্কোয় অবতরণ করল মার্কিন সেনার বিমান! ঘনাচ্ছে রহস্য, কী বলল ক্রেমলিন?
-
নজরে মহিলা ও যুবসমাজ, মোদির জন্মদিন উপলক্ষে একমাসের মেগা জনসংযোগ কর্মসূচি বঙ্গ বিজেপির