টিসিএসের পর উইপ্রো। জোর করে ধর্মান্তরের অভিযোগে ফের উত্তাল বিখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। এবারও ঘটনাস্থল সেই মহারাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার পুণের এক মহিলা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। উইপ্রোর ওই প্রাক্তন কর্মীর অভিযোগ, তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে লাগাতার কটাক্ষ করতেন মহিলা বস। বারবার চাপ দেওয়া হত ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য়। সেটায় রাজি না হওয়ায় চলত লাগাতার মানসিক নির্যাতন। মহিলা বসের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এনেছেন ওই মহিলা।
গত মাসের শুরুর দিকে নাসিকের টিসিএসেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। ম্যানেজার নিদা খান-সহ বেশ কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, মানসিক হেনস্তা এবং ধর্মান্তরণের অভিযোগ ছিল। নিদার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি চক্রের হয়ে ‘কর্পোরেট জেহাদ’-এর কাজ করতেন। সংস্থার মহিলা কর্মীদের জোর করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করতেন। এমনকী হিন্দু কর্মীদের আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করতেন। জবরদস্তি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
খানিকটা একই অভিযোগ এনেছেন উইপ্রোর পুণে অফিসের ওই প্রাক্তন কর্মী। পুণে পুলিশে দায়ের হওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মহিলা কর্মীকে বারবার হেনস্তা করতেন সহকর্মীদের একাংশ। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন অভিযোগকারিণীর থেকে উঁচু পদে। অভিযোগকারিণীর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে লাগাতার চলত হেনস্তা। বারবার তাঁকে বলা হয় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য এবং ইসলামিক রীতিনীতি পালন করার জন্য। প্রতিবাদ করায় অভিযোগকারিণীকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে খারাপ রিভিউ দেওয়া হবে এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।
প্রবল মানসিক চাপ এবং লাগাতার হেনস্তার জেরে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন অভিযোগকারিণী। তবে উইপ্রোর অভ্যন্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে লাভ হয়নি ফলে বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে উইপ্রো। অন্যায় সহ্য করা হবে না বলেও বার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। সঙ্গে চলবে তদন্তও। প্রশ্ন উঠছে, বারবার এই বিখ্যাত সংস্থাগুলির অন্দরে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে কেন?