হাতে আর মেরেকেটে মাস ছয়েক। ২০২৯ নির্বাচনের সেমিফাইনাল, অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন। জেন জি বিক্ষোভ, রাম মন্দিরের চুরি বিতর্ক, ইউজিসির নির্দেশিকা নিয়ে সবর্ণ বিক্ষোভ-এসবের পর এবারের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন আর বিজেপির জন্য ‘জলভাত’ নয়। যোগী আদিত্যনাথের বিপুল জনপ্রিয়তার পরও উপরের ইস্যুগুলি ভাবাচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে। এসবের মধ্যে আবার গোঁদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াচ্ছে শরিকদেরে বেমক্কা দাবি। উত্তরপ্রদেশে বিজেপি বড় কোনও দলের সঙ্গে জোটে নেই ঠিকই, তবে ছোট ছোট বেশ কয়েকটি শরিক রয়েছে গেরুয়া শিবিরের। আর সেই শরিকররা এই কঠিন সময়ে মাথাব্যাথা কমানোর বদলে বাড়িয়ে দিচ্ছে গেরুয়া শিবিরের।
কেন মাথাব্যাথা? সেটা বোঝার আগে উত্তরপ্রদেশে এনডিএর শরিকি অঙ্ক জানাটা জরুরি। এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশ বিজেপির সঙ্গে জোটে রয়েছে রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি), সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি (এসবিএসপি), নিষাদ পার্টি, এবং আপনা দল। সমস্যা হল প্রায় সব শরিকই নির্দিষ্ট কোনও জাতির প্রতিনিধিত্ব করে। প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক আছে এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এদের এমন প্রভাব যে ওই এলাকায় তাঁদের সাহায্য ছাড়া জেতা অসম্ভব। যেমন পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে জয়ন্ত চৌধুরীর রাষ্ট্রীয় লোকদল ভীষণ প্রভাবশালী। ওই এলাকার জাঠ ভোটারদের প্রথম এবং শেষ পছন্দ আরএলডি। আবার রাজ্যের রাজভর সমাজের দল হিসাবে পরিচিত এসবিএসপি। দলের নেতা ওমপ্রকাশ রাজভর মাঝেমাঝেই বিতর্কিত বয়ান দিয়ে শিরোনামে থাকেন, আবার জোট শরিকদের চাপে রাখতেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তবে রাজভরদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। নিষাদ পার্টি মূলত অতি পিছড়া নিষাদ সমাজের প্রতিনিধি। আবার রাজ্যের ওবিসি কুর্মি সমাজের মধ্যে দারুন প্রভাব রয়েছে অনুপ্রিয়া প্যাটেলের আপনা দলের।
আরও পড়ুন:

২০২২ সালে এই দলগুলির মধ্যে শুধুমাত্র আপনা দল আর নিষাদ পার্টি ছাড়া বাকিরা অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোটে ছিল। ২০২২ সালে ৩৭৬ আসলে লড়েছিল বিজেপি। আপনা দল এবং নিষাদ পার্টি লড়েছিল ২৭ আসনে। সমস্যা হল এবার এই জোটে নতুন করে আমদানি হয়েছে আরএলডি এবং এসবিএসপির। ২০২২ সালে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোটে আরএলডি ৩৩ আসনে এবং এসবিএসপি ১৯ আসনে লড়েছিল। এবার জোট বদলে এই দলগুলি আগের বারের থেকেও বেশি আসনে লড়াই করার দাবি জানাচ্ছে। আরএলডির দাবি ৩৩-এর বেশি আসন আবার এসবিএসপির দাবি অন্তত ৩০ আসন। সেই সঙ্গে অনুপ্রিয়া প্যাটেল, এবং নিষাদ পার্টিও দাবি বাড়াচ্ছে। আবার বিহারের জোট শরিক জেডিইউও এবার উত্তরপ্রদেশে নামমাত্র হলেও লড়াই করতে চায়। ফলে সব শরিককে জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিজেপিকে।
এখনও পর্যন্ত যা হিসাব তাতে শরিকদের দাবি ১০০ আসনের কাছাকাছি। সেখানে বিজেপি কোনওভাবেই ৩৫০ আসনের কমে লড়তে রাজি নয়। কারণ এবারেও গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য ৩০০ পার। এখন শরিকদের বাড়তি আসন ছাড়তে হলে সেই লক্ষ্যপূরণ কোনওভাবেই সম্ভব নয়। আবার আগেরবারের তুলনায় কম আসনে লড়লে দলের কর্মীদের মধ্যেও ভালো বার্তা যাবে না। আরও সমস্যা আছে, কোনও শরিক যদি ‘অপমানিত’ হয়ে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সেই শরিক যে জাতির প্রতিনিধিত্ব করে, সেই জাতি বিপক্ষে চলে যাবে, সেটা ব্যুমেরাং হতে পারে। তাছাড়া এই বিপুল আসন ছাড়লে শরিকদের যে সেগুলি জেতার ক্ষমতা নেই সেটাও জানে বিজেপি। কিন্তু দাবি কেউ কমাতে রাজি নয়। এ হেন সংকট মোকাবিলায় বিজেপি অবশ্য নিজেদের অন্যতম সেরা অস্ত্র বিনোদ তাউড়েকে নামিয়েছে। এখন দেখার তিনি ভোটের আগে সব সমস্যা মেটাতে পারেন কিনা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সম্ভব হল না অবতরণ! মাঝআকাশে চক্কর রাহুল গান্ধীর বিমানের
-
বিনা অনুমতিতে জবরদখল! ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে অভিষেককে তুলতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ বাড়ির মালিক
-
কম ফ্যাটের দই মানেই ভেজাল নয়, ২৬ বছর পর হাই কোর্টে বেকসুর খালাস কৃষ্ণনগরের মিষ্টি ব্যবসায়ী
-
টাকা দিয়ে দেবীদর্শন! বদলের বঙ্গে বন্ধ হচ্ছে পুজোর ‘বিতর্কিত’ প্রিভিউ শো?
-
মন্দির ধসে পড়লেও নড়ানো যাচ্ছে না বজরংবলীকে! উজ্জয়িনীতে ‘অলৌকিক’ কাণ্ড, ভাইরাল ভিডিও