Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
Telangana

স্কুল নির্মাণের জন্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ৮০০ বছরের শিবমন্দির! তুমুল বিতর্ক তেলেঙ্গানায়

জেলাশাসকের দাবি, মন্দিরভাঙার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ৩০ একর এলাকা জুড়ে ঘন ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার সময় ওখানে কিছু পুরনো জরাজীর্ণ কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৮, ২০২৬, ১৭:৪১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৮, ২০২৬, ১৭:৪১

options
link
স্কুল নির্মাণের জন্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ৮০০ বছরের শিবমন্দির! তুমুল বিতর্ক তেলেঙ্গানায় zoom
বুলডোজারে গুঁড়িয়ে যাওয়া শিবমন্দির।
Advertisement

কংগ্রেস শাসিত তেলেঙ্গানায় বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ৮০০ বছরের পুরনো শিবমন্দির। দাবি করা হচ্ছে, স্কুল নির্মাণের জন্য ভাঙা হয়েছে মন্দিরটি। ওয়ারাঙ্গল জেলায় কাকাতিয়া আমলের ঐতিহাসিক এই শিবমন্দির ভাঙা পড়ার ঘটনায় রেবন্ত সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সুরে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে বিজেপি। কেন এই ঘটনা ঘটল তার জবাব চেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক।

জানা যাচ্ছে, ওয়ারাঙ্গল জেলার খানাপুর মণ্ডলের অশোক নগরে ছিল মন্দিরটি। দাবি করা হচ্ছে, একটি সরকার অনুমোদিত বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য জমি খালি করতে বুলডোজারে ভেঙে ফেলা হয়েছে মন্দিরটি। দাবি করা হচ্ছে, ত্রয়োদশ শতকে কাকাতিয়ার শাসক গণপতিদেবের আমলে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এখানে ১২৩১ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের এক সাত পঙক্তির তেলেগু শিলালিপি পাওয়া গিয়েছে। যেখানে রাজাকে ‘মহারাজা’ এবং ‘রাজাধিরাজুলু’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এহেন ঐতিহাসিক স্থাপত্য ভাঙা পড়ার ঘটনায় জাতীয় মনুমেন্ট অথোরিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন তেলেঙ্গানার মানবাধিকার আইনজীবী রমা রাও ইম্মানেনি। পাশাপাশি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক ও পত্নতত্ত্ব বিভাগেও। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি ছাড়া কীভাবে এটি ভাঙার অনুমতি দেওয়া হল তা জানতে চাওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও হেরিটেজ কমিটির ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

Advertisement

ত্রয়োদশ শতকে কাকাতিয়ার শাসক গণপতিদেবের আমলে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এখানে ১২৩১ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের এক সাত পঙক্তির তেলেগু শিলালিপি পাওয়া গিয়েছে। যেখানে রাজাকে ‘মহারাজা’ এবং ‘রাজাধিরাজুলু’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে।

এদিকে বিতর্ক চরম আকার নিতেই ওই অঞ্চল পরিদর্শন করেন সরকারি আধিকারিকরা। ওয়ারাঙ্গল জেলাশাসকের দপ্তরের তরফে এই ইস্যুতে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে মন্দিরভাঙার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ৩০ একর এলাকা জুড়ে ঘন ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার সময় ওখানে কিছু পুরনো জরাজীর্ণ কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। ওই কাঠামো সংরক্ষিত হেরিটেজ হিসেবে নথিভুক্ত ছিল না। তবে জনরোষ চরম আকার নিতেই জেলাশাসক ও স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ওই স্থানে মন্দির পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে হেরিটেজ বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাথে আলোচনা করে এই কাজ করা হবে। এবং মন্দিরটিকে হেরিটেজ করার বিষয়েও পদক্ষেপ করা হবে।

এদিকে এই ঘটনায় কংগ্রেস সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছে বিজেপি। দলের তরফে জানানো হয়েছে, ‘প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষায় কংগ্রেসের অবহেলা আবারও প্রকাশ্যে। কাকাতিয়া সম্রাট গণপতি দেবের আমলে নির্মিত এই মন্দির তেলঙ্গানার ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক ছিল, অথচ আজ তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’ বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের প্রত্নতত্ত্ব দপ্তরের অধীনে থাকা সত্ত্বেও মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির আমলে সরকারি সুরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলিও নিরাপদ নয়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.